প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:১৫ পিএম
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৪ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকারের ভেতরের একটা অংশের এখানে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সোমবার বেলা ১১টার দিকে ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক যৌথ প্রতিবাদ সভায় এ কথা বলেন তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর দিন গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে হামলার শিকার হয় সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার।
দুই সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়েই হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একই রাতে সংহতি জানাতে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে গেলে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরকে হেনস্তা করা হয়। এসব ঘটনায় প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন সাংবাদিকসহ অনেকেই।
গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছর আগস্টে অন্তর্বর্তীকলীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসা নাহিদ ইসলাম এদিন সভায় বলেন, “আমাদের স্লোগানগুলো ব্যবহার করে তারা (হামলাকারীরা) সেখানে আক্রমণ করেছে এবং সেটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করেছে। এই ঘটনার পরে আমরা বলেছি যে, সরকারের ভেতরের একটা অংশের এখানে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
“সমাজে এটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করা হয়েছিল অনেকদিন ধরেই এবং এটার সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যাকআপও আছে। এই তিনটা ঘটনা এক সাথে না ঘটলে এত বড় সাহস সেই রাতে কারও পক্ষে করা সম্ভব হতো না।”
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, সেখানে সংহতি জানাতে আসা সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তা করার প্রতিবাদে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভার আয়োজন করে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ ও মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (নোয়াব)।
প্রতিবাদ সভা শেষে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পাশের রাস্তায় মানববন্ধনে দাঁড়ান অনেকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে সংহতি জানাতে আসেন।
এই হামলার পুরো ঘটনাটাই পরিকল্পিত ছিল বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “শরিফ ওসমান হাদি তার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে এবং হওয়ার পরে কী কী ঘটনা ঘটানো হবে বাংলাদেশে, এটার একটা চক্রান্ত পরিকল্পনা আগে থেকেই তৈরি হয়েছে।... আমরা মনে করি আমাদের সবারই এটার পেছনে দায় আছে। আমাদের অনেক বেশি দায় আছে, যারা আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলাম।”
“এই ঘটনা যারা সেই রাতে ঘটিয়েছে, এটা খুবই স্পষ্ট যে, কারা সেটার পক্ষে সম্মতি তৈরি করেছে। কারা সেই রাতে সেখানে গিয়েছে। লেখালেখি করেছে। আমার মনে হয় যে, সেটা সরকারের উচিত হবে...আমাদের সবাই মিলে সরকারকে বাধ্য করতে হবে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার” যেন হয়, বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, “সেই রাতে এই ঘটনা ঘটার পরে আমাদের কাছে আরও মনে হয়েছে যে, ঢাকা শহরে ৫০০ মানুষ নাই যে, সেখানে ওই বিল্ডিং দুইটার সামনে গিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করতে পারে—এটা আমাদের জন্য আরও দুর্ভাগ্যজনক মনে হয়েছে।”