ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৫১ পিএম
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:০৩ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। ফাইল ছবি
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির মুখ এবং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির খুনিদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ঘিরে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে হাদির জানাজার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুলের সমাধি পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এরপর বিকালে শাহবাগে হয় সমাবেশ। সেখানে হাদির খুনিদের গ্রেপ্তারে আল্টিমেটাম দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
শাহবাগে তখন হাদি হত্যার বিচার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান উঠছে। তাতে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে পড়ে। বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন বিক্ষোভকারীরা।
জাবের বলেন, ‘ওসমান হাদিকে শুধু এক ব্যক্তি খুন করেনি। এর পেছনে বড় একটা চক্র জড়িত। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’
সরকারকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, ‘বাংলাদেশে খুনিদের সাথে কোনো সুশীলতা নাই। যখন খুনীদের কথা বলা হয়, তখন আপনারা পেঁয়াজের আলাপ দেন, ফাইজলামি করেন মানুষের সাথে। জুলাই আপনাদের কী শিখিয়ে গেছে?’
তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচনকে যাতে বাধাগ্রস্ত করা যায়, নির্বাচন যাতে না হয়, আওয়ামী লীগ যাতে প্রত্যাবর্তন করতে পারে এজন্য নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এই মুহূর্তে তারা যদি বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক নেতাকেও মারে, এ ধরনের ইম্প্যাক্ট তৈরি হবে না। কারণ, জনগণ তাদের বিশ্বাস করে না।’
‘একমাত্র শরিফ ওসমান হাদি টিকে ছিল জনতার কন্ঠস্বর হয়ে, বাংলাদেশ সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে। তাকে মারা গেলে আওয়ামী লীগকে তাড়াতাড়ি ফেরানো যাবে। এজন্য তাকে খুন করা হয়েছে। ওসমান হাদির লড়াইকে আমরা চালিয়ে নিয়ে যাবো’ বলেন জাবের।
দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রচলিত যে মনোচিত্র, তা বদলের স্বপ্ন দেখা হাদি গড়ে তোলেন ইনকিলাব মঞ্চ; তারপর গড়েন ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার। সেখানে হতো গান, আবৃত্তি এবং রাজনৈতিক-বুদ্ধিবৃত্তিক আলাপ-আলোচনা।
ভোটের মাঠের সংস্কৃতি বদলের তেষ্টা থেকে নির্বাচনেও নামেন হাদি। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থিতার জন্য প্রচার চালাচ্ছিলেন একদম অন্যন্য পথে, যা নাগরিকদের আপন করে নেওয়ার বার্তা ছিল।
তেমনই এক প্রচারযাত্রার সময় রাজধানীর বিজয়নগরে গত ১২ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।