হাদি হত্যাচেষ্টা মামলা
নুর মোহাম্মদ মিঠু
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৯:৫৯ এএম
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:৩৭ এএম
ফাইল ফটো
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোটরসাইকেল, অস্ত্র ও ভুয়া নম্বরপ্লেট উদ্ধারের কথা জানিয়েছে; কিন্তু তদন্ত ও গ্রেপ্তারের তথ্যে নানা অসঙ্গতি দেখা গেছে। নম্বরপ্লেট পরিবর্তন, ইংরেজি ডিজিটাল প্লেট ব্যবহার, ভুল নম্বরের মোটরসাইকেলের মালিককে গ্রেপ্তার, গ্রেপ্তারের সময় ও স্থান নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বহুল আলোচিত এই মামলার তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্ত ও গ্রেপ্তারের এসব অসঙ্গতি সম্পর্কে জানতে প্রতিদিনের বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে ডিএমপির মুখপাত্র (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, হামলায় ব্যবহৃত একটি হোন্ডা হর্নেট মোটরসাইকেল, একটি হেলমেট ও একটি ভুয়া নম্বরপ্লেট উদ্ধার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। গত রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পশ্চিম আগারগাঁওয়ের বনলতা আবাসিক এলাকা থেকে এসব আলামত পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট পরিবর্তনের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বাড়ির নিচতলার পার্কিং থেকে মোটরসাইকেল ও হেলমেট উদ্ধার করা হয় এবং হামলার সময় ব্যবহৃত ভুয়া নম্বরপ্লেটটি একটি ম্যানহোলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য ডিবির কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসা এক আততায়ী খুব কাছে থেকে গুলি করে। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৬ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, হাদির মস্তিষ্ক সক্রিয় করার জন্য অস্ত্রোপচার করানো প্রয়োজন। তবে এ জন্য তার স্বাস্থ্য স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে। বর্তমানে তার মস্তিষ্ক ছাড়া বাকি সব অঙ্গ ‘সক্রিয় রয়েছে’ বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে হাদি হত্যাচেষ্টা মামলায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রাইভেটকারে পালাতে সাহায্যের অভিযোগে নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ইতোমধ্যে কেরানীগঞ্জ থেকে ফয়সালের বাব-মাকে গ্রেপ্তার ও নরসিংদী থেকে হাদি হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত ২টি বিদেশি পিস্তল, ৪১ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগাজিন ও একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. ফয়সাল (২৫) নামে এক যুবককেও আটক করা হয়। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর।
মোটরসাইকেল নিয়ে নানা প্রশ্ন
পুলিশ জানাচ্ছে, তাদের তদন্তে দেখা গেছে মোটরসাইকেলটির প্রথম মালিক ছিলেন আব্দুর রহমান। এরপর এটি পর্যায়ক্রমে শহিদুল, রাসেল, মার্কেটপ্লেস, ওবায়দুল ইসলাম, আনারুল ও ওবায়দুলের হাত ঘুরে শুভ নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, মোট আটজনের হাতবদলের পর হামলার ঘটনায় জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের সহযোগী মো. কবিরের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মাইনুদ্দিন ইসলামের নামে মোটরসাইকেলটি কেনা হয়।
এদিকে হামলার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে র্যাব-২ মোটরসাইকেলের নম্বর শনাক্তের ভিত্তিতে আব্দুল হান্নানকে মোটরসাইকেলের মালিক সন্দেহে আটক করে। মোটরসাইকেলটির নম্বর দেখানো হয়Ñ ঢাকা মেট্রো-ল ৫৪-৬৩৭৫ (ইংরেজিতে লেখা)। তবে ভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে এর অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। কারণ হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ছিল হোন্ডা হর্নেটÑ যার নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল ৫৪-৬৩৭৬। কিন্তু যাকে আটক করা হয়, তার নামে কাগজে থাকা মোটরসাইকেলটি সুজুকি জিক্সার এসএফÑ যার নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল ৫৪-৬৩৭৫। অর্থাৎ একটি মোটরসাইকেলের নম্বরের শেষ ডিজিট যেখানে ৫, অন্যটির সেখানে ৬। সিসিটিভি ফুটেজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর স্পষ্টভাবে ৫৪-৬৩৭৬ দেখা গেলেও আটক করা হয়েছে ৫৪-৬৩৭৫ নম্বরের মোটরসাইকেলের মালিককে। আবার হান্নানের মোটরসাইকেলের রঙ অরেঞ্জ/সিলভার, কিন্তু হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের রঙ ব্লু/সিলভার।
যা বলছেন আব্দুল হান্নানের স্ত্রী পারভিন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আব্দুল হান্নানের মোটরসাইকেলের ডিজিটাল নম্বরপ্লেট ছিল ইংরেজিতে লেখা। অথচ বিআরটিএ জানাচ্ছে, বাংলাদেশে ইস্যু করা সব ডিজিটাল নম্বরপ্লেট বাংলা ভাষায় লেখা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে ইংরেজি নম্বরপ্লেট ব্যবহার করতে পারে।
এ বিষয়ে আব্দুল হান্নানের স্ত্রী পারভিন বলেন, তার স্বামী কখনোই হোন্ডা হর্নেট চালাননি। তিনি সর্বশেষ সুজুকি জিক্সার এসএফ চালাতেন, যা কয়েক মাস আগেই বিক্রি করা হয়েছে। পরিচিতজনের কাছে বিক্রি করায় আনুষ্ঠানিকভাবে মালিকানা হস্তান্তর না হওয়ায় কাগজে-কলমে মালিক থেকে যান হান্নান। বর্তমানে যিনি ৫৪-৬৩৭৫ নম্বরের মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করছেন, তিনিও জানিয়েছেনÑ রমজানে তিনি এটি কিনেছেন, কিন্তু এখনও ওনারশিপ ট্রান্সফার হয়নি।
গ্রেপ্তারস্থল নিয়ে প্রশ্ন
র্যাব জানাচ্ছে, আব্দুল হান্নানকে গত ১৩ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। বাসার নিরাপত্তাকর্মীও একই তথ্য জানাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে র্যাব-২-এর সিইও অধিনায়ক মো. খালেদুল হক হাওলাদার ও টুআইসি মেজর মঞ্জুরুল কবির পিয়ালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তারা কল রিসিভ করেননি। তবে পল্টন থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম হাসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ‘হামলার সঙ্গে আব্দুল হান্নানের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মোটরসাইকেল নিয়েও এমন কোনো তথ্য মেলেনি।’ যে কারণে এই তদন্ত কর্মকর্তা গতকাল বুধবার আদালতে হান্নানের সম্পৃক্ততা না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
মামলায় একমাত্র অভিযুক্ত ফয়সাল করিম
এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা (নং-১৯) করা হয়। মামলায় ফয়সাল করিমকে একমাত্র অভিযুক্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, হামলাকারী দুই আততায়ীর একজন হিসেবে ফয়সাল করিমকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের আদাবর এলাকার সাবেক নেতা এবং কিছুদিন ধরে হাদির নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত ছিলেন। তার স্ত্রী, শ্যালক, এক বান্ধবী ও সহযোগী দাঁতভাঙা কবিরসহ কয়েকজনকে র্যাব ও বিজিবি আটক করেছে।
এ ছাড়া র্যাব-১০ জানিয়েছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে শুটার ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) ও মা মোসাম্মাৎ হাসি বেগমকেও (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং জানায়, গত মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হবে।
অন্যদিকে র্যাব-১১ দাবি করেছে, নরসিংদী থেকে হাদি হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত ২টি বিদেশি পিস্তল, ৪১ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগাজিন ও একটি খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. ফয়সাল (২৫) নামে এক যুবককেও আটক করা হয়। তবে তিনি মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ননÑ তিনি শুটার ফয়সালের শ্যালকের বন্ধু বলে জানিয়েছে র্যাব।
হাদির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা
গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান বিন হাদির মস্তিষ্ক সক্রিয় করার জন্য অস্ত্রোপচার করানো প্রয়োজন। তবে এ জন্য তার স্বাস্থ্য স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে এই বিবৃতি পোস্ট করা হয়েছে। হাদি বর্তমানে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শারীরিক অবস্থার হালানাগাদ তথ্য জানানোর জন্য দেওয়া বিবৃতিতে ইনকিলাব মঞ্চ বলেছে, ওসমান হাদির স্বাস্থ্য স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুত করতে হলে প্রথমে শরীরকে সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল করতে হবে। বর্তমানে মূল লক্ষ্য হলো শরীর ও মস্তিষ্কের মধ্যে সংযোগ পুনঃস্থাপন করা। তার মস্তিষ্ক ছাড়া বাকি সব অঙ্গ ‘সক্রিয় রয়েছে’ বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চ বলেছে, তার চিকিৎসা সিঙ্গাপুর অথবা যুক্তরাজ্যÑ যেকোনো স্থানে হতে পারে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ওসমান হাদির জন্য বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার।
ফয়সালকে পালাতে সাহায্য করা নুরুজ্জামান রিমান্ডে
এদিকে হাদি হত্যাচেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রাইভেটকারে পালাতে সাহায্যের অভিযোগে আটক নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার পুলিশ পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে তার রিমান্ড চেয়ে বলেন, হাদিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ইতোমধ্যে ফয়সালের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদে এই আসামিরও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ওইদিন ফয়সাল তার বোনের বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় এ আসামি তাকে গাড়ি দিয়ে পালাতে সাহায্য করেন। এ মামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। এ ছাড়া প্রধান আসামি এখনও গ্রেপ্তার হননি। এমনকি তার অবস্থানও নিশ্চিত না। এজন্য আসামিকে রিমান্ডে নিলে সব বের হবে।
আসামি নুরুজ্জামান নোমানী আদালতের অনুমতি নিয়ে বলেন, আমি গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিপদে পড়ে গেছি। আমি হোয়াটসঅ্যাপে রেন্ট এ কারের ব্যবসা করি। এর জন্য ফয়সালের সঙ্গে নয় মাসের পরিচয়। তবে গত তিন মাস তার সাথে যোগাযোগ ছিল না। ওইদিন হঠাৎ করে ফয়সাল আমাকে গাড়ি পাঠাতে বললে আমি পাঠাই। কারণ এটা আমার ব্যবসা। এখন সে গাড়ি নিয়ে কী করবে সেটা তো আমি জানি না। এ সময় সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক জশিতা ইসলাম আসামিকে বলেন, রিমান্ড মানে শাস্তি না, আপনি তদন্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করুন।