প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:৩৬ এএম
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:৪৮ এএম
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে লাখো জনতার ঢল
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে ঢাকার সাভার অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে লাখো জনতার ঢল নামে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর)। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক গঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দুপুরের পর থেকে বিকাল পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ঢল নামে। তাদের মধ্যে অনেকেই দু-তিন বয়সী কোলের শিশুকে নিয়েও স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এতে করে এলাকাটিতে এক আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করছিল। তা ছাড়া স্মৃতিসৌধের এলাকার ভিতরে নানা প্রকারের দোকানপাটও বসে। সেখানে খাবারের দোকান থেকে শুরু করে নানা ধরনের খেলনা ও পোশাক-আশাকেরও ছিল।
জনতার ঢল: ভোরে রাষ্ট্রপতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারপর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসলে কথা হয় সাভারের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট এনায়েতউল্লাহ শরীফের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তিতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আমরা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের আত্মত্যাগে অর্জিত বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। তবে বাংলাদেশের পর স্বাধীন হওয়া অনেক দেশ ইতোমধ্যেই উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছে। দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক সঠিক পরিবেশের অভাবে আমরা তাদের থেকে পিছিয়ে পড়েছি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈষম্য দূরীকরণ ও স্থিতিশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। স্বাধীনতার চেতনা আমাদেরকে অতীতের গৌরব স্মরণ করিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্তি জোগায়।
দুপুরে দেখা যায়, দু মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন মেঘনা নামের এক নারী। এ সময় শিশুর বয়স জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাবুটির বয়স মাত্র দু মাস। আর আমাদের বাড়িও স্মৃতিসৌধের পাশের অঞ্চলেই। বিজয়ের এদিনে কোলের শিশুকে ঘরে বসে থাকতে পারলাম না তাই চলে এসেছি। শুধু মেঘনা নয় এমন অসংখ্য নারীকে দেখা গেছে কোলের শিশু নিয়ে স্মৃতিসৌধ এসেছেন।
খেলাধুলায় ব্যস্ত শিশুরা: স্মৃতিসৌধের ক্যাম্পাসে নানা বয়সের শিশুদের খেলাধুলা করতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই দৌড়াদৌড়ি খেলায় ব্যস্ত থাকলে রাফা ও রাবেয়া নামের দুজনকে দেখা যায় পুতুল, নৌকা, ফুল বানানোতে ব্যস্ত।
বাবার সঙ্গে ব্যবসায় সহযোগিতা করছে ইদ্রিস হোসেন নামের ৮ বছর বয়সী শিশু। তার বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, তার ছেলে ৬৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে রোল নং পঞ্চম। সে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।নার্সারীতে থাকার সময় থেকেই বাবার কাজে সহযোগিতা করে আসছে।
কথা হলে ইদ্রিস হোসেন বলেন, তার বাবা প্লাস্টিকের ফুল বিক্রি করেন। প্রতি শুক্র ও শনিবার বাবাকে সহযোগিতা করছে সে।
স্মৃতিসৌধ মেলার আমেজ
জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে পতাকা ও রংতুলি, শরবতের ব্যবসায় বেশি থাকে। তবে এবার বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট বসেছিল। ফুসকা, চুড়ি, নানা ধরনের খাবার, তৈজসপত্রসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান বসে। ছিল কয়েকটি শাড়ির দোকানও।
মতিউর রহমানের ভিন্ন ধরনের প্রচারণা: মহান বিজয় দিবসে ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে একটি ফেস্টুন নিয়ে ভিন্ন ধরনের প্রচার চালিয়েছেন রাজবাড়ী থেকে আসা মতিউর রহমান।
তিনি ফেস্টুনটিতে একটি ট্রেনের ছবি দিয়ে লিখেছেন, নির্বাচনী ট্রেন চলছে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার সুবর্ণ সুযোগ হারালাম। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি/ এক মঞ্চ একনীতি।
এ ধরনের প্রচারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে মতিউর রহমান বলেন, আমরা সুষ্ঠু একটি নির্বাচন চাই। শেখ হাসিনার মতো দিনের ভোট রাতে হয়ে যাক সেটা আর চাই না।
সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের দায়িত্ব নেক রাজনৈতিক দলগুলো।
তারা আগামীদের দেশকে আরো সুন্দর ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলুক।
তিনি বলেন, বিগত দিনগুলোতে আমরা শুধু আশাহত হয়েছি। দেশের সর্বস্তরে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিতে ভরপুর ছিল। আগামীতে যাতে কোন সরকারই এ ধরনের পথে পা না বাড়ায়।
রাস্তায় রাস্তায় জনতার ভোগান্তি:
স্মৃতিসৌধের সড়কটিতে দেশের তিনটি বিভাগের যান চলাচল করে। তার মধ্যে রয়েছে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা। সড়কটিতে যে সংখ্যক ট্রাফিক থাকার কথা তা সকাল থেকেই অনুস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিশেষ করে বিকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ঢাকা আরিচা মহাসড়কে সাভার থেকে ধামরাই, ঢাকা চন্দ্রা মহাসড়কে নবীনগর থেকে বাইপাইল পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। এখানে কোথাও ট্রাফিকদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি। এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। গাড়ি না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর্যন্ত যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
এরই মধ্যে ঢাকা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সামনে কথা হয় তুহিন হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন,
গাড়ি নেই কয়েক মাইল এলাকা হেঁটে আসতে হয়েছে। এদিকে রাস্তায় রাস্তায় মানুষকে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।