× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আইসিটি

অনিয়মের জোয়াল টানতে ৩০০০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প!

আরমান হেকিম

প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৯:২৮ এএম

অনিয়মের জোয়াল টানতে ৩০০০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প!

অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে তেমন কোনো অগ্রগতিই ঘটেনি ডিজিটাল সরকার ও দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে আইসিটি বিভাগের গৃহীত আড়াই হাজার কোটি টাকার ইডিজিই প্রকল্পে। কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণের নামে অর্থ আত্মসাতেই সীমাবদ্ধ ছিল এর কাজ। এতে এমন অনেক কাজ যুক্ত করা হয়েছিল, যেগুলোর কোনো প্রয়োজন ছিল না। একপর্যায়ে বিশ্বব্যাংকও বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ প্রকল্পের জন্য প্রতিশ্রুত ঋণের মোট পরিমাণ থেকে ১৮০ মিলিয়ন বা ১৮ কোটি ডলার অর্থ কমিয়ে দেয়। সবশেষে সরকারও প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তার পরও একই উদ্দেশ্যে তিন হাজার কোটিরও বেশি টাকার নতুন একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে আইসিটি বিভাগ।

প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের নাম ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ (ডি-স্টার) ইআরডিএক কর্মকর্তা জানান, গত ২০২৩ সালে ‘টাইগার’ নামে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছিল; সেটিই ডি-স্টার নামে পুনরায় প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘এনহান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি (ইডিজিই)’ প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় এটিতেও অপ্রয়োজনীয় খাত ও ব্যয়ের প্রস্তাব এবং অনিয়মের সুযোগ রয়েছে বলে অভিমত দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। এজন্য কমিশন এ প্রস্তাব বাতিল করে পুনরায় প্রস্তাবনা দিতে বলেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

পিইসি সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৭২ কোটি টাকা; যার মধ্যে ৩ হাজার ১০৬ কোটি টাকা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি এখনও পাওয়া যায়নি এবং ঋণ আলোচনাও শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। সভায় সংশোধিত ডিপিপির সঙ্গে ইআরডির সম্মতিপত্র ও ঋণচুক্তির স্বাক্ষরিত কপি সংযুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।


অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ে আপত্তি

ইডিজিই প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় ডি-স্টার প্রকল্পটিতেও অপ্রয়োজনীয় নানা ব্যয়ের খাত রাখা হয়েছে। যেগুলো নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে পিইসি সভায়। সেখানে বলা হয়েছে, ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ের ৯টি খাতের কোনো দরকার নেই। এগুলো হলোÑ অ-কর্মচারীদের ভাতা, মহার্ঘ ভাতা, টিফিন ভাতা, ওভারটাইম প্রভৃতি। এগুলো বাদ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ১১টি খাতে ৬৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বরাদ্দ কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষভাবে বিটিআরসির স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের জন্য ট্রেনিং ম্যানেজমেন্ট ফার্ম খাতে ৬০ কোটি ৯১ লাখ টাকার বরাদ্দ কমিয়ে ১০ কোটি টাকায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং এ খাতের যৌক্তিকতা ও বিস্তারিত ব্যয়বিবরণী চাওয়া হয়েছে।

সভায় বলা হয়েছে, পরিবহন ভাড়া, উন্নত দক্ষতা উন্নয়ন (কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট, এনএসডিএ, আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন, প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও সম্মেলন), প্রকাশনা, অফিস ভাড়া, সফর ও বিদেশ প্রশিক্ষণসহ মোট ৯টি খাতে ১ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এসব খাতের বিস্তারিত যৌক্তিকতা ও ভেঙে দেওয়া হিসাব জমা দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে অনুমোদিত ইডিজিই প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের ২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সহায়তায় ৩০ কোটি ডলার সাশ্রয়, এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইটি ফার্মগুলোর আয়ে ৩০ কোটি ডলারের প্রবৃদ্ধি আনতে চেয়েছিল। কিন্তু দুর্নীতি, অনিয়ম এবং দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে প্রকল্পটি মন্থর হয়ে পড়ে। ফলে বিশ্বব্যাংক প্রতিশ্রুত ঋণ ১৮ কোটি ডলার কমিয়ে দেয়। ফলে তা মাত্র ১২ কোটি ডলারে নেমে আসে; যা প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনে বড় প্রভাব ফেলে। এখন আইসিটি বিভাগ চাইছে, ডি-স্টার প্রকল্পের মাধ্যমে ইডিজিই প্রকল্পের অসম্পূর্ণ লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে।

তবে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, আগের প্রকল্পের ব্যর্থতা মূল্যায়ন না করে নতুন প্রকল্প প্রস্তাবের যৌক্তিকতা আগে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন ছিল। কার্যকর বাস্তবায়নের উপযুক্ত কৌশল নির্ধারণ ছাড়া নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব প্রশ্নবিদ্ধ।

পিইসি জানিয়েছে, সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্পের সময়কাল, কাজের পরিধি, ব্যক্তি পরামর্শক ও ফার্ম নিয়োগের যৌক্তিকতা এবং ব্যয়বিবরণী বিস্তারিত থাকতে হবে। আইসিটি যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার খরচ যাচাইয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি এবং কম্পিউটার-অ্যাকসেসরিজ-ফার্নিচারের বাজারদর যাচাইয়ে একটি মার্কেট রেট কমিটি কাজ করবে। সংশোধিত ব্যয়, ব্যাখ্যা ও কমিটির প্রতিবেদন ডিপিপির সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

পিইসি নথি বলছে, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০৩১ সালের মধ্যে নিরাপদ ও ব্যবহারবান্ধব প্লাটফর্মের মাধ্যমে ৭ কোটি ৮০ লাখ মানুষ সরকারি সেবা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০ ধাপ এগিয়ে যেতে পারে। কিন্তু প্রকল্পের ব্যয়ের যৌক্তিকতা, কাজের তালিকা এবং নতুন প্রযুক্তিগত উপাদান সংযোজনের প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।

আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, প্রকল্পটির লক্ষ্য শতভাগ ব্রডব্যান্ড কভারেজ নিশ্চিত করা এবং একীভূত ওয়ান স্টপ প্লাটফর্ম চালু করা, যাতে জন্মনিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট ও টিআইএনসহ সব সরকারি সেবা এক জায়গায় পাওয়া যায়। প্রকল্পটি দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দেবে, যাতে আইটি পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি পায়।

 

কমিটির প্রতিবেদনে অনিয়মের চিত্র

২০২২ সালে অনুমোদিত ‘এনহান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি (ইডিজিই)’ প্রকল্পও একই ধরনের অনিয়মে জর্জরিত ছিল। আইসিটি খাতে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরতে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনেও এটি উঠে এসেছে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিলÑ বিশ্বব্যাংকের ২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সহায়তায় ডিজিটাল অর্থনীতি শক্তিশালী করা, এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইটি ফার্মগুলোর আয়ে ৩০ কোটি মিলিয়ন ডলার বাড়ানো। কিন্তু দুর্নীতি, ভাতা বিতরণে অনিয়ম, অকার্যকর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও অতি মূল্যায়িত ব্যয়ের কারণে তা গুরুতরভাবে মন্থর হয়ে পড়ে। ফলে বিশ্বব্যাংক ঋণ কমিয়ে ১২ কোটি ডলারে নামিয়ে আনে এবং প্রকল্পের মূল লক্ষ্য পুরোপুরি অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। আইসিটি বিভাগ ডি-স্টার প্রকল্পের মাধ্যমে এজ প্রকল্পের অসম্পূর্ণ লক্ষ্যগুলোর কিছু অর্জনের চেষ্টা করছে।

পর্যালোচনা কমিটির প্রধান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিশ্রুত ভাতা না পাওয়া নিয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। আমরা প্রশিক্ষণের পরিধি কমানোর সুপারিশ করেছি।’ তিনি বলেন, ইডিজিই প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় উপাদান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তি ল্যাব স্থাপন বাতিলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একাধিক প্রকল্পে আইটি পার্ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহু হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে এমন সুবিধা ইতোমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে, সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত না করেই। তাহলে আবার কেন?

 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা