প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:০৯ পিএম
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২২ পিএম
গত বছরের ৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে শপথবাক্য পাঠ করান। ফাইল ছবি
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদ শেষের আগেই ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে,
নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি অপমানিত
বোধ করছেন। তাই ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার
আগেই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।
রাষ্ট্রের প্রধান
হিসেবে সাহাবুদ্দিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, কিন্তু তার এই পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক;
এদেশে নির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে।
তবে গত আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের
মুখে যখন দেড় যুগ ধরে টানা ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি পালিয়ে
যান এবং সংসদ বিলুপ্ত হয়, তখন তিনিই শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে থেকে যান। ফলে
তার পদটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন
হাসিনা সরকারের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী
লীগের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ইউনূস আমাকে কোণঠাসা করেছেন: রাষ্ট্রপতি
ঢাকা থেকে নিজের
সরকারি বাসভবন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেন, দায়িত্ব
নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকার। তিনি বলেন, ‘আমি যেতে আগ্রহী।
আমি সরে যেতে যেতে আগ্রহী।’
তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ
না নির্বাচন হচ্ছে, ততক্ষণ আমাকে চালিয়ে যাওয়া উচিত। আমি সাংবিধানিকভাবে প্রাপ্ত
রাষ্ট্রপতি পদ বজায় রেখেছি।’
রাষ্ট্রপতি অভিযোগ
করেন, ইউনূস গত প্রায় সাত মাস ধরে তার সঙ্গে দেখা করেননি। তার প্রেস বিভাগ সরিয়ে
নেওয়া হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশি দূতাবাস থেকে তার ছবিও
সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সব কনস্যুলেট,
দূতাবাস এবং হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি, ছবি ছিল, আর সেটা হঠাৎ এক রাতের মধ্যে
সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের কাছে একটা ভুল বার্তা যাচ্ছে যে হয়তো
রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আমি খুব অপমানিত বোধ করেছি।’
সাহাবুদ্দিন জানান,
তিনি প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা নিয়ে ইউনূসকে চিঠিও লিখেছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া
হয়নি। ‘আমার কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে’ যোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস সচিবদের কেউ তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি বলে রয়টার্সের
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সেনাপ্রধানের যোগাযোগ
রাষ্ট্রপতি নিয়মিতভাবে
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ
করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, গত আগস্টে হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলার সময় সেনাবাহিনী
একপাশে সরে দাঁড়িয়েছিলেন, যা অভিজ্ঞ এই রাজনীতিকের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। সাহাবুদ্দিন
জানান, সেনাপ্রধান স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তার ক্ষমতা দখলের কোনো উদ্দেশ্য নেই। বাংলাদেশের
সামরিক শাসনের ইতিহাস থাকলেও সেনাপ্রধান বলেছেন, তিনি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চান। সাহাবুদ্দিন
জানান, কিছু ছাত্র বিক্ষোভকারী প্রথমে তার পদত্যাগের দাবি জানালেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে
কোনো রাজনৈতিক দল তাকে পদত্যাগ করতে বলেনি।
প্রতিবেদনে জনমত
জরিপে আভাসের বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি
ও জামায়াতে ইসলামীই সম্ভবত পরবর্তী সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে থাকবে, যারা ২০০১ থেকে
২০০৬ সাল পর্যন্ত জোটবদ্ধভাবে ক্ষমতায় ছিল।
হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার
পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সাহাবুদ্দিন
উত্তর দিতে চাননি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে তিনি আর কোনো দলের সঙ্গে
যুক্ত নন, তিনি স্বাধীন।