প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৫৯ পিএম
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ফাইল ফটো
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নামে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে থাকা ১৭৭ শতাংশ জমি এবং দুটি গাড়ি ক্রোক করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব সম্পত্তির বর্তমান বাজার মূল্য ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান দুদকের আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। একই আদালত এদিন সাবেক এমপি তানভির শাকিল জয়সহ ৫ জনের ৮৬ ব্যাংক হিসাবে থাকা ১৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন। এছাড়া পুলিশের সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমারসহ ৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ওইসব সম্পদ ক্রোক আদেশ চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, আসামি আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৬ কোটি ৪১ লাখ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জনপূর্বক দখলে রাখা এবং ৮ টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনকভাবে ৫৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা লেনদেন করায় দুদক মামলা দায়ের করেছে।
তদন্তকালে জানা গেছে, তিনি অবৈধ পন্থায় অর্জিত সম্পদ অন্যত্র বিক্রয়/হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রচেষ্টায় রয়েছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী মো. নাসিমের ছেলে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) তানভির শাকিল জয়, তার পরিবারের তিন সদস্যসহ পাঁচজনের ৮৬টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেন দুদকের উপপরিচালক আফরোজ হক খান। হিসাব অবরুদ্ধ করা অন্য ব্যক্তিরা হলেনÑ জয়ের স্ত্রী সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী, তার মা লায়লা আরজুমান্দ, ভাই তমাল মনসুর এবং সাবেক মন্ত্রী মো. নাসিমের একান্ত সচিব মীর মোশাররফ হোসেন।
আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে সর্বমোট ৮৬টি হিসাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে তারা হিসাবে রক্ষিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশের সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম, ভাই প্রণব কুমার সরকার এবং ভাইয়ের স্ত্রী শাহানারা বেগমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক রাসেল রনি। আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তরা বিভিন্ন হিসাবের মাধ্যমে ৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকা জমা ও ৩০ কোটি ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। অনুসন্ধান চলমান অবস্থায় তারা দেশ ত্যাগের চেষ্টা চালাচ্ছেন।