× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কৃষিতে ঝুঁকছে তরুণরা

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৯:২১ এএম

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:০৭ পিএম

প্রবা ফটো

প্রবা ফটো

কৃষি খাতকে লাভজনক করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে তরুণ জনশক্তিকে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। যাতে করে কৃষি খাতে বিনিয়োগ করে অগ্রসর হওয়া যায়। তেমনি একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি অ্যান্ড হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প। এই প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশে সাড়ে ৭ হাজার ব্যক্তিকে (নারী-পুরুষ) প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২ হাজার ২০০ ব্যক্তি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। 

সম্প্রতি ঢাকার সাভারে অবস্থিত রাজালাখ হর্টিকালচার সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে তিন দিনের একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এতে অংশ নেওয়া ৯০ শতাংশের বয়স ৩০ বছরের নিচে। প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কৃষি উদ্যোক্তা হতেই তাদের এই প্রশিক্ষণ নেওয়া। 

প্রশিক্ষণে অংশ নেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মো. ইমতিয়াজ হোসাইন। ডিগ্রি পাস করে দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ কৃষি খাতে কাজ করছেন তিনি। ইমতিয়াজ হোসাইন বলেন, আমরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ পেয়েছি। অনেকগুলো ফিল্ড ভিজিট করেছি। এতে কৃষকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বেড়েছে। তা ছাড়া আমি নিজেও চাষাবাদ করছি। সাধারণত অফ সিজনে সবজি চাষটাই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। এতে পর্যাপ্ত আয়ের সুযোগ থাকে। বর্তমানে বছরে ১২-১৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। বুঝে-শুনে ফসল আবাদ করলে লাভবান হওয়া যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি পেশা হিসেবে লাভজনক হবে যদি বুঝে-শুনে ফসল আবাদ ও বাজারজাত করা যায়। প্রশিক্ষণে এসব বিষয় শেখানো হয়েছে। 

কৃষিতে ডিপ্লোমা করছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার সোমাইয়া আক্তার। তিনি বলেন, কৃষি উদ্যোক্তা হতে কী কী প্রয়োজন, কেমন প্রস্তুতি দরকার এসব বিষয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত বিষয়ে বিস্তর দিকনির্দেশনা পাওয়া গেছে। অনেক আগে থেকেই কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে আমি ছাদ বাগান করি। অনেক ধরনের সবজি ফলাই। আমাদের আশপাশেও অনেকেই এ কাজ করছে। এটা আরও কীভাবে বিস্তৃত করা যায়, উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করা যায় তা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। 

টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি অ্যান্ড হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় টিস্যুকালচার, গ্রাফটিং, মাটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, উচ্চমূল্যের ফল চাষ, পলি-নেট হাউস ও গ্রিনহাউস, আধুনিক সেচ পদ্ধতি, অ্যাগ্রি-বিজনেস প্ল্যানিং, এসডব্লিউওটি অ্যানালাইসিস তথা স্ট্রেনথ, উইকনেস, অপরচুনিটিস অ্যান্ড থ্রেটস, ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং, ভ্যালু অ্যাডিশন, ব্যাংক লোন, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল কৃষি, স্মার্ট টুলসসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষিকে টেকসই ও বাণিজ্যিক রূপান্তরের পথে নিয়ে যেতে দক্ষ কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের তরুণ–তরুণী ও কৃষি–মনস্ক ব্যক্তিদের হাতে কলমে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, ব্যবসায় পরিকল্পনা, ভ্যালু অ্যাডিশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন–লিংকেজ এবং গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (গ্যাপ) বিষয়ে যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি তা মূলত আগামী দিনের স্মার্ট কৃষির ভিত্তি রচনা করছে।

প্রকল্প পরিচালক বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ নয়, আমরা তাদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে চিন্তা করতে শেখাচ্ছি- কিভাবে ঝুঁকি কমাতে হয়, কিভাবে পরিকল্পনা করতে হয়, এসডব্লিউওটি বিশ্লেষণ করতে হয়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, এবং বাজারকে বুঝে ব্যবসা দাঁড় করাতে হয়। আমরা চাই উদ্যোক্তারা শুধু উৎপাদক না হয়ে প্রযুক্তি–সচেতন, বাজার–সংবেদনশীল এবং উচ্চ–মূল্য সংযোজন সক্ষম স্মার্ট ফার্মার হোক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসএম সোহরাব উদ্দীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের কৃষক ও এ খাতের উদ্যোক্তারা ব্যবসায় লাভবান হতে পারে না। ফলে তারা এ খাতের ব্যবসা ছেড়ে ভিন্ন পথে হাঁটা ধরে। আমরা তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দিচ্ছিÑ কীভাবে ব্যবসা করলে লাভবান হওয়া যাবে, ফসল ফলিয়ে লাভবান হওয়ার উপায়ই-বা কী। 

কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমরা কৃষি উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মার্কেট লিংকেজের কাজও করছি। তাদের মধ্যে প্রসেসিং ইউনিট তৈরি করছি। যাতে উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারজাত করা যায়। 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কৃষিঋণ দিয়ে থাকে। সেসবের ৭০-৮০ শতাংশই বড় বড় ফার্মগুলো নিয়ে নেয়। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে দুই দফা মিটিং করেছি কীভাবে সহজে ব্যক্তি উদ্যোক্তাদেরও ঋণ দেওয়া যায়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা প্রকৃতপক্ষে উদ্যোক্তা হতে চায় তাদের একটি তালিকা করা হবে। সেই তালিকা ব্যাংকগুলোকে সরবরাহ করা হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা