প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:১১ পিএম
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) কুমিল্লা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে জেলার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আমন সংগ্রহ ও খাদ্যশস্য মজুদ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত
চলমান আমন মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সবাইকে আমন মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনও ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) কুমিল্লা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে জেলার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আমন সংগ্রহ ও খাদ্যশস্য মজুদ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে ফেব্রুয়ারিতে জেলা প্রশাসক, মাঠ প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা নির্বাচন কাজে যুক্ত থাকবেন। কেউ প্রিসাইডিং অফিসার হবেন, কেউ পোলিং অফিসার। ফলে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য ধান সংগ্রহ অভিযান সম্পন্ন করতে হবে। তাই এ কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
খাদ্য অধিদপ্তর এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ধান সংগ্রহের টার্গেট পূরণকারী মিলারদের অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হবে। যত বেশি সংগ্রহ করা সম্ভব, ততই বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু টার্গেট পূরণ নয়, সর্বোচ্চ পরিমাণে ধান সংগ্রহ করা। দেশের ইতিহাসে চলতি বছর বোরো মৌসুমে আমরা রেকর্ড পরিমাণ সংগ্রহ করেছি। সুতরাং দেশের জন্য সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, কোনো কৃষক ধান বিক্রির জন্য নিয়ে আসলে তাকে ফেরত দেওয়া যাবে না। শুধু ধানের আদ্রতার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। কোনো গুদামে বস্তাবন্দি পঁচা চাল পাওয়া গেলে এটা মেনে নেওয়া হবে না।
উপদেষ্টা আরও বলেন, কৃষকের বিষয়টি বিবেচনা করে ধান ও চালের সংগ্রহমূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ বছর ধান কেনা হবে প্রতি কেজি ৩৪ টাকা করে, সেদ্ধ চাল ৫০ টাকা কেজি এবং আতপ চাল ৪৯ টাকা কেজি। আমরা যখন চলে যাবো, তখন যেটুকু মজুদ থাকার কথা, যেটুকু মজুদ থাকা উচিত, তার চেয়ে ইনশাল্লাহ বেশি রেখে যাবো।
মতবিনিময় সভায় খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবির বলেন, ইতোমধ্যে মিলারদের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সবকিছুই মনিটরিং করা হচ্ছে। অনিয়ম করে পার পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা মোতাবেক আমন সংগ্রহ অভিযান সফল করার অনুরোধ জানান তিনি।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলার সকল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দেবিদ্বার উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ এলএসডির রাস্তার জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সড়ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা।