ঢাবি সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:০৯ পিএম
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৯:৫৭ পিএম
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় প্রয়াত কবি মাহবুবুল হক শাকিলের ৫৪তম জন্মোৎসব আয়োজন করা হয়। ছবি : প্রবা
মানুষের সঙ্গে শাকিলের সম্পৃক্ততা ছিল। মানুষের জন্য তার ভালোবাসা ছিল। এ কারণে তিনি বঙ্গবন্ধুর সঠিক আদর্শের কর্মী ছিলেন। তিনি তার আদর্শের জন্য সকলের মাঝে বেঁচে থাকবেন শ্রদ্ধায়, সম্মানে ও ভালোবাসায়।
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও কবি প্রয়াত মাহবুবুল হক শাকিলের ৫৪তম জন্মোৎসবে এসব কথা বলেছেন আলোচকরা।
অনুষ্ঠানে আগতরা শাকিল সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিবুল্লাহ সিরাজী ও করোনায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। আলোচনা পর্বের শেষে শাকিল স্মরণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
আলোচনা পর্বে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, ‘মাহবুবুল হক শাকিলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। তুমি যেখানেই আছো সুখে থেকো। বেহেশতের আলোর সঙ্গে মিশে গেছে শাকিল। সেখান থেকে আমাদের দেখছে। শাকিলের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি, আমার পরিবারের সঙ্গে তার পরিবারের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। কেমন করে যেন শাকিল আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল! একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে কথা বলা, স্মৃতিচারণ করার মধ্যেই ওই মানুষটির জীবনের সফলতা। শাকিল নিশ্চয়ই ভালো আছে, ভালো থাকবে।’
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘আমি শাকিলকে শ্রদ্ধা করি তার আদর্শকে ধরে রাখার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার জন্য। আদর্শের প্রতি শাকিলের বিশ্বস্ততা এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি প্রখর আস্থা ছিল। আমরা যারা শাকিলকে পছন্দ করি, তারা যাতে তার জীবনের এই দিকগুলোকে গ্রহণ করতে পারি। তাহলেই সত্যিকার অর্থে শাকিলকে ভালোবাসা হবে।’
শাকিলের প্রতি জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তার স্ত্রী নীলুফার আনজুম পপি বলেন, ‘আমার সকল ভালোবাসায়, সকল আশায় তুমি আছ, তুমি আছ আমার হিয়ার মাঝে। যেই মাহবুবুল হক শাকিলকে আমি চিনি, সেই শাকিল ২৪ ঘণ্টা, ৩৬৫ দিন আমার সঙ্গেই আছে। তাই তার না থাকাটা আমার কাছে মনে হয় না। আমার মনে হয় সে কাজের জন্য বাইরে আছে, হয়তো ঢাকার বাইরে আছে, ক্ষতি কী যদি দেশের বাইরে থাকে! মাহবুবুল হক শাকিল আপনাদের কবি হিসেবে, আপনজন হিসেবে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে—এটাই আমি চাই। সে বেঁচে থাকবে শ্রদ্ধায়, সম্মানে, ভালোবাসায়।’
ঢাবি ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল, মানুষের জন্য তার ভালোবাসা ছিল। সেই কারণে তিনি বঙ্গবন্ধুর সঠিক আদর্শের কর্মী ছিলেন। আমরা যখন ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম, তখন ছাত্রলীগের প্রতি শাকিল ভাইয়ের অকুণ্ঠ ভালোবাসা আমরা দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধকে গভীরভাবে ভালোবাসতে শেখাতেন তিনি। জাতির পিতার প্রতি অনুরাগ তার কাজে-কর্মে, বক্তৃতায়, আলাপে-আলোচনায়, আড্ডায় প্রকাশ পেতো। শিল্প-সাহিত্যের সঙ্গে রাজনীতির দূরত্বের কথা যখন আসে, সেখানে তিনি ছিলেন বিরলতম ব্যক্তিত্ব। শিল্প, রাজনীতি, সাহিত্য, রাজপথ—এই বিষয়গুলো যেন শাকিলের জীবনের মোহনায় এক হয়ে মিশে গেছে।’
মাহবুবুল হক শাকিল সংসদের সদস্য সচিব কামাল পাশা চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মাহবুবুল হক শাকিল সংসদের সভাপতি ওসমান গণি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে অনেক সময় পার করেছি। আড্ডায় কাছাকাছি থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। এত তাড়াতাড়ি তিনি চলে যাবেন, এটা কেউ ভাবতে পারিনি। তিনি আমাদের মধ্যে থাকবেন, আছেন। তার কাজের মধ্যে তিনি বেঁচে থাকবেন।’