প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:২৭ পিএম
প্রান্তিক চাষিদের কাছে না গেলে সঠিক পলিসি তৈরি করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, ‘আমি সময়ের কারণে সাতক্ষীরায় চিংড়ি চাষিদের কাছে যেতে পারিনি। এ ডিসেম্বরেই যাব। কেননা পলিসি তৈরির ক্ষেত্রে তাদের প্রকৃত চিত্র দেখতে হবে। তাদের সমস্যাবলী জানতে হবে। আমরা এখানে (ঢাকা) বসে তাদের প্রয়োজনীয় পলিসি তৈরি করতে পারব না।’
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত ‘ট্রান্সফরমিং পলিসি সাপোর্ট ফর রিভিভিং বাংলাদেশ শ্রিম্প সেক্টর’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘সমুদ্রে অনিয়ন্ত্রিত ও অতি আহরণের কারণে গত ৭ বছরে ৭৮ শতাংশ মাছের উৎস কমে গেছে। এটি ভয়ংকর ব্যাপার। তা ছাড়া ক্লাইমেট চেঞ্জের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। আর পরিবেশ দূষণও আরেকটি বড় ব্যাপার।’
শিপ সেক্টরে কর্মরত নারীদের স্বীকৃতি দেওয়া দরকার উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘শিপ সেক্টরে অনেক নারী কাজ করে। তাদের কাজের স্বীকৃতি নেই। স্বীকৃতি না দিলে সেই সেক্টর পিছিয়ে পড়ে।’
ম্যানগ্রোভ বন কেটে চিংড়িঘের তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষায় ম্যানগ্রোভ বন অপরিহার্য। চিংড়িতে জেলি ব্যবহারসহ নানা অভিযোগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের রপ্তানি সংকুচিত হয়েছে। যা দেশের জন্য বড় ক্ষতি।’
মৎস্য খাতের বিদ্যুৎ বিল বৈষম্য বিষয়ে তিনি বলেন, ‘খাদ্য উৎপাদনকারী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে শিল্প শ্রেণীর মতো বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়- যা বৈষম্য। এক বছর ধরে এ সমস্যার সমাধানে কাজ করছি। আশা করছি শিগগিরই বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ছাড় মিলবে।
সুদের হার কমানো ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি বলেন, ‘একটি বিশেষায়িত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ব্যাংক স্থাপনের প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে জোর দিলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।’
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদকে পূর্ণাঙ্গ স্বতন্ত্র সেক্টর হিসেবে স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি সাব-সেক্টর নয়, পূর্ণাঙ্গ সেক্টর। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈষম্য দূরীকরণে ইতোমধ্যে অগ্রগতি হয়েছে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এ খাতে অর্থায়নই একমাত্র সমাধান নয়। উৎপাদনশীলতা কম হওয়াই বড় সমস্যা।’ প্রকৃত উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তারা বলেন, নব্বইয়ের দশকে চিংড়ি খাত দেশের অন্যতম রপ্তানি খাত হলেও এখন অনেক পিছিয়ে পড়েছে। এ খাতের পুনরুত্থানে শিল্পখাতের মতো প্রণোদনা দাবি করে রপ্তানিকারকেরা বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ছাড়, নগদ সহায়তা ও তহবিল গঠনের আহ্বান জানান।
বিএফএফইএ’র প্রেসিডেন্ট মো. শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ, বিএফএফইএ’র সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট মো. তারিকুল ইসলাম জহির। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই এর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার। আলোচনা শেষে সিমার্ক (বিডি) লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইকবাল আহমেদ সার্বিক আলোচনার সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেন।