১৬ ডিসেম্বরকে 'স্বাধীনতা দিবস’ উল্লেখ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২১ পিএম
খুলনা জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩১তম ব্যাচের কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সরকার বিভাগে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো গল্লামারী স্মৃতিসৌধের মেরামত কাজের খসড়া প্রস্তাবে তিনি ১৬ ডিসেম্বরকে ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করেন-যা প্রশাসনিক পর্যায়ে ‘মৌলিক অজ্ঞতা’ হিসেবে দেখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত পত্রে ওই ভুলসহ প্রকল্প প্রস্তাবের একাধিক গুরুতর ত্রুটি তুলে ধরে জরুরিভিত্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব পুনঃপ্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পত্রটি টক অব দ্য মন্ত্রণালয়।
প্রকল্প প্রস্তাবে একাধিক ত্রুটি: ব্যয়, উৎস, প্রযুক্তিগত তথ্য সবই অনুপস্থিত
উল্লেখিত চিঠিতে বলা হয়, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে কত ব্যয় হবে, কোন অর্থবছরের অর্থ ব্যবহার করা হবে—এসব মৌলিক বিষয় প্রস্তাবে উল্লেখই করা হয়নি। এডিপি নাকি রাজস্ব—কোন খাত থেকে অর্থায়ন হবে তা-ও স্পষ্ট নয়।
জেলা পরিষদের সভার কার্যবিবরণীতেও প্রকল্প ব্যয়ের সিদ্ধান্তের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কারিগরি প্রতিবেদনে সম্ভাব্য ব্যয়, কাজের ধরন, দর/পরিমাণ—কোনো তথ্যই সংযুক্ত করা হয়নি।
এসব ত্রুটি নিয়ে উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ লিখেছেন- ‘ভবিষ্যতে নির্ভুল প্রস্তাব প্রেরণে অধিকতর যত্নশীল হওয়ার জন্য বলা হলো।’
১৬ ডিসেম্বরকে স্বাধীনতা দিবস লেখা অজ্ঞতা নাকি উদাসীনতা?
চিঠির সবচেয়ে আলোচিত অংশ হচ্ছে ১৬ ডিসেম্বরকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উল্লেখ করা। বাংলাদেশে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়ে এই মৌলিক জাতীয় তথ্য গুলিয়ে ফেলা নিয়ে সচিব, যুগ্মসচিব থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন- ‘এ ধরনের ভুল প্রশাসনিক অদক্ষতার সরাসরি প্রমাণ। পুরো প্রস্তাবনা পড়ে মনে হয়েছে কর্মকর্তা প্রকল্প প্রস্তুতি সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণাও রাখেন না।’
বদলি, স্থগিত—বিতর্কিত কর্মকতার চারপাশে নতুন আলোচনার ঝড়
তাছলিমা আক্তারকে নিয়ে অসন্তোষ নতুন নয়। গত ১৯ নভেম্বর তাকে বিভিন্ন অদক্ষতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে বদলি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্তু মাত্র চার দিন পর ২৩ নভেম্বর, বিশেষ তদবিরে সেই বদলি স্থগিত হয়।
এরপরই জেলা পরিষদ থেকে পাঠানো ভুলে ভরা প্রকল্প প্রস্তাবনা আবারও তার প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, ‘এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো শুধু দায়িত্বহীনতা নয়, প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।’
গল্লামারী স্মৃতিসৌধ প্রকল্প অনুমোদন আটকে
এদিকে খুলনা গল্লামারী গণহত্যা স্মৃতিসৌধের মেরামত প্রকল্পটি স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় প্রশাসনিক অনুমোদন আটকে গেছে।
সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদকে জরুরি ভিত্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। যথাযথ নথি জমা না দিলে প্রকল্প অনুমোদন সম্ভব নয় বলে সূত্র বলছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন তাছলিমা আক্তার। তার দক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় সরকার বিভাগে।