প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:১২ পিএম
বিকেল হলেই কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে গ্রামবাংলার পথঘাট। রাতে শীত নিবারণের জন্য দরকার পড়ে লেপ-কম্বলের। যদিও শহুরে জীবনে এখনো শীতের আমেজ এতটা শুরু হয়নি। তবু মাঝ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঢাকার রাজপথ থাকে কুয়াশায় ঘেরা। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শুক্র-শনিবার থেকে শীতের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া পৌষের শুরুতে তথা ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চালে ১ থেকে ২ টি মৃদু (৮-১০° সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি (৬-৮° সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) আবহাওয়ার অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটির মিটিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। তাতে বলা হয়, ডিসেম্বরে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও তার কাছাকাছি এলাকায় ১-২ টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে ১ টি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, শুক্র বা শনিবার থেকে শীতের মাত্রা বাড়তে পারে।
এক মাসের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে পারে তবে এ মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে। এ মাসে দেশের নদী অববাহিকায় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরণের কুয়াশা পড়তে পারে।
নদ-নদীর অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ডিসেম্বর মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। দেশে গড় উজ্জ্বল সূর্যকিরণের সময় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা থাকতে পারে।
এদিকে গত নভেম্বর মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে স্বাভাবিক অপেক্ষা ১৫.৩% বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তারমধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি; চট্টগ্রাম বিভাগে স্বাভাবিক এবং অন্যান্য বিভাগে স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত মাসে বঙ্গোপসাগরে মোট ৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হয় যার মধ্যে ২ টি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। গত মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ সেলসিয়াস (খেপুপাড়া, ০১ নভেম্বর ২০২৫) এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২.৫ সেলসিয়াস (তেঁতুলিয়া, ২৭ নভেম্বর ২০২৫) রেকর্ড করা হয়। নভেম্বরে দেশের সর্ব্বোচ্চ, সর্বনিম্ন এবং গড় তাপমাত্র স্বাভাবিকের চেয়ে যথাক্রমে ০.৫°সে., ০.১°সে. এবং ০.৩°সে. বেশি ছিল। বৃষ্টিপাত, তাপ প্রবাহ, কৃষি আবহাওয়া এবং দেশের নদ-নদীর অবস্থা নভেম্বর মাসের পূর্বাভাসের সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল।