প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৩০ পিএম
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের জরুরি আগাম সতর্কবার্তা তৈরি ও প্রান্তিক জনসাধারণের দোরগোড়ায় সঠিক সময়ে পৌঁছে দিতে ‘কমন অ্যালার্টিং প্রোটোকল’ (সিএপি) বাস্তবায়নের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার নির্দেশনার আলোকে এটি দেশীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সহজে ও স্বল্প সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তথ্য প্রস্তুত করে দ্রুত সময়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। আর এই নির্দেশনা হবে সহজ ও অভিন্ন।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল লেকশোরে অনুষ্ঠিত ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্টেন্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিউরস ফর কমন অ্যালার্টিং প্রোটোকল ইমপ্লিমেনটেশন প্লান ইন বাংলাদেশ' শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় কর্মশালাটির আয়োজন করে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় এতে সিএপির ধারণা তুলে ধরেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কৃষি ও আন্তর্জাতিক আবহাওয়া মহাশাখা বিভাগের পরিচালক ড. মো. শামীম হাসান ভুঁইয়া। বক্তব্য রাখেন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার এডাপ্টেশন ফান্ড প্রোজেক্টের অফিসার রমেশ ত্রিপাথি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এসএম আতাউর রহমান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপপরিচালক এস.এম.কামরুল হাসান প্রমুখ।
এছাড়া কর্মশালায় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রতিনিধি, অংশগ্রহণকারী গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের প্রতিনিধিগণ, আর্থিক ও উন্নয়ন সহযোগী এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাসমূহের সিএপি ও এসওপি নিয়ে আলোচনা ও মতামত প্রদান করেন।
ড. মো. শামীম হাসান ভুঁইয়া বলেন, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়সহ দেশে যে সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয় তার আগাম সতর্কবার্তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সিএপি তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একই ধরনের ও সহজবোধভাষায় সতর্কবার্তা প্রচার করা হবে। এজন্য আমাদের দেশিয় আলোকে একটি অ্যালার্মিং সিস্টেম চালু করবো। এটি আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রস্তুত করবে ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর তা প্রচার করবে। সেখানে মোবাইলে মেসেজ, টেক্স, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার, গণমাধ্যমে প্রচারসহ সকল ধরনের টুলস ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অ্যালার্টে কী ব্যবস্থা দরকার সেটিও থাকবে। এজন্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত কাজ করতে হবে। এতে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ডিডিএম, বিটিআরসি, সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর, গণমাধ্যম সবাই যুক্ত থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা বলেন, আর্লি ওয়ার্নিংকে জাতিসংঘের মহাসচিব মানুষের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কেননা মানুষ বেঁচে না থাকলে মৌলিক অধিকার দিয়ে কী হবে।
ড. শামীম হাসান ভুঁইয়া আরও বলেন, প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টের জন্য একই ধরনের মেসেজ থাকবে। পরবর্তীতে প্রত্যেকে নিজেদের সেক্টর অনুযায়ী নির্দেশনা প্রদান করবে।