প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১১:২৮ এএম
আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:০৩ পিএম
বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমাদের প্রধান প্রতিশ্রুতিই হচ্ছে দুর্যোগে মানুষের জীবন বাঁচানোর প্রতিশ্রুতি। জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস কীভাবে করা যায় সেটিকেই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বিটিআরসির ভবনে 'সবার জন্য জাতীয় প্রাথমিক সতর্কতা ও রোড ম্যাপ প্রচার' শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম। কর্মশালাটির লিড অর্গানাইজার ছিল ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম।
ফারুক ই আজম বলেন, আমরা আর্লি ওয়ার্নিংকে গুরুত্ব দিচ্ছি যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ সচেতন হতে পারে। এ কর্মশালাটির সফলতা তখন হবে যখন মানুষ দুর্যোগ আসার আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। আর আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো আরো যুগপোযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। যাতে দুর্যোগের পূর্বে মানুষ তার গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান করতে পারে।
উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বব্যাপী আর্লি ওয়ার্নিংকে গুরুত্ব দিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর উপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
তিনি কর্মশালাটির সাফল্য কামনা করে বলেন, আমাদের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা দরকার। এতে করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
ফারুক ই আজম বলেন, আমাদের দেশের মানুষ দুর্যোগের সাথে নিত্য বসবাস করে এবং অকুতোভয়ে দুর্যোগের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। প্রতিটি মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান, তাই জনগণের জান-মালের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করাই সরকারের লক্ষ্য। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে এক রাতের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। তখন কোন আধুনিক পূর্বাভাস এবং প্রযুক্তিগত সতর্কবার্তা ছিল না। আজকে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গেলে পূর্বের ভয়াবহ দুর্যোগের স্মৃতি আমাদের গভীরভাবে নাড়া দেয়।
উপদেষ্টা বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় ১৯৭০ কিংবা ১৯৯১ সালের দুর্যোগের পরও দেশীয় গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আমরা যথেষ্ট অগ্রতি অর্জন করতে পারিনি। জাতীয়ভাবে গবেষণার প্রতি আমাদের মনোনিবেশ আরো বেশি হওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে সৌভাগ্যের বিষয় যে স্যাটেলাইট ভিত্তিক ওয়েদার মডেল, ডপলার রাডার, ফ্ল্যাশ-ফ্লাড মডেল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পূর্বাভাস, মোবাইল ভিত্তিক সতর্কবার্তা সবকিছু এখন আমাদের হাতে রয়েছে। বর্তমানে উপকূল, পাহাড়ি অঞ্চল, নগর এলাকা, নদী ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা সব ক্ষেত্রেই দুর্যোগ সংক্রান্ত তথ্য তৈরি করা হচ্ছে।
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম- বীরপ্রতিক, বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. ইমদাদুল বারী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারি জেনারেল ড. কবির মো. আশরাফ আলম, বাংলাদেশস্থ সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের হেড অব প্রোগ্রাম জেসি উড প্রমুখ।
কর্মশালার পটভূমি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের মার্চ মাসে জাতিসংঘের মহাসচিব বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জোর দিয়েছিলেন যে, ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের (এমএইচইডব্লিউ) আওতায় আনা উচিত। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ২০২২ সালের নভেম্বরে কপ-২৭তে একটি নির্বাহী কর্মপরিকল্পনাসহ সকলের জন্য প্রাথমিক সতর্কীকরণ (ইডব্লিউ৪অল) উদ্যোগ চালু করা হয়। এই উদ্যোগের অধীনে লক্ষ্যবস্তুর প্রথম ৩০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে নির্বাচিত করা হয়।
জাতীয় ইডব্লিউ৪অল রোড ম্যাপ একটি জনকেন্দ্রিক, এন্ড-টু-এন্ড এমএইচইডব্লিউ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কৌশলগত কাঠামো প্রদান করে থাকে। এটি ৪টি ইডব্লিউ৪অল স্তম্ভের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে (দুর্যোগ ঝুঁকি জ্ঞান, সনাক্তকরণ, পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং বিপদের পূর্বাভাস, সতর্কতা প্রচার ও যোগাযোগ এবং প্রস্তুতি এবং প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা)। এ কাজগুলে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা সংজ্ঞায়িত করে। তারপরও এটি বাজেট অনুমান প্রদান করে এবং সরকার এবং আন্তর্জাতিক দাতাদের দ্বারা দায়িত্ব এবং অংশীদারদের পাশাপাশি চলমান বা পাইপলাইন প্রকল্প এবং বিনিয়োগ চিহ্নিত করে থাকে। এটি বাংলাদেশের জাতীয় এমএইচইডব্লিউ শক্তিশালীকরণে ভবিষ্যতের বিনিয়োগের জন্য একটি নির্দেশিকা হিসাবেও কাজ করছে।
তাতে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে উচ্চ-স্তরের এবং স্থানীয় পর্যায়ের অংশীদার এবং প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর এবং সময়োপযোগী প্রাথমিক সতর্কতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এজন্য চাহিদা, কার্যক্রম, বাজেট এবং সম্ভাব্য তহবিলের উৎস চিহ্নিত করতে সরকারি সংস্থা, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে ব্যাপক পরামর্শে পরিচালিত হয়ে আসছে।