× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিনামূল্যের ওষুধ কেবল নামেই

মাসুদুল হাসান

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১১:০২ এএম

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১১:০২ এএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় বেশি এমন দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ওপরের দিকে। সরকারি হিসাবে স্বাস্থ্যে ১০০ টাকা ব্যয় হলে রোগীর পকেট থেকেই যায় ৭০ টাকা। এর মধ্যে ৬৫ টাকা ব্যয় হয় শুধু ওষুধের পেছনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্য ব্যয়ে সরকারের অংশ ক্রমান্বয়ে কমে রোগীর খরচ বেড়েছে। এ কারণে সাশ্রয়ের জন্য বেশিরভাগ মানুষ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই সরাসরি দোকান থেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছে। 

সরকারি হাসপাতালের ওষুধ বিতরণের অবস্থা

একটি জরিপে দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৬৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। রাজধানীর সোহরাওর্য়াদী মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সেহাব উদ্দীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তারা হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের ৬৫ শতাংশ ওষুধ সরবরাহ করছেন। প্রায় ৪০০ রকমের ওষুধ সরবরাহ করা হয়।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তালিকা থেকে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে তারা সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস থেকে মাত্র ১২৫ রকমের ওষুধ এনে রোগীদের সরবরাহ করেছে। বুকের সার্জারি করা লুৎফুন্নাহার নামের (৭৫) একজন রোগীর স্বজনরা জানান, তারা ২৩ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তাদের ৮০ শতাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে। এর আগে তারা ২ মাস হৃদরোগ হাসপাতালে ছিলেন। সেখানেও একই অবস্থা প্রায় ১ লাখ টাকার ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। 

জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে চট্টগ্রাম থেকে আসা শিশু ওয়ার্ডের ১০ মাস বয়সি শিশুর বাবা বলেন, পুরো ওয়ার্ডে ৮০ জন শিশুর জন্য জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন অক্সিমিটার মাত্র ৪টা, বাইরে থেকে কিনে এনে ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া ৫০ শতাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। একই ওয়ার্ডের ১২ মাস বয়সি শিশু মোহাম্মদ আলীর মা জানান, ১২ দিন ধরে ভর্তি হয়ে প্রায় অর্ধেক ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হয়েছে। 

তথ্যমতে, শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক উৎপাদন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ওষুধ উৎপাদন করেছে ৭২৩ কোটি টাকার। এই ছয় মাসে ৯৪৭ কোটি টকার ওষুধ উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল। তবে চাহিদার ৩০ শতাংশ কম উৎপাদন হয়েছে। এমনকি উৎপাদিত ওষুধও যথাযথভাবে হাসপাতালে সরবরাহ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এখনও ভান্ডারে ৯৪ কোটি ১২ লাখ টাকার ওষুধ পড়ে আছে।

একই রকম অবস্থা ২০২২-২৩ অর্থবছরে। ওই বছর সংস্থাটি ওষুধ উৎপাদন করেছে ১০৮৫ কোটি ৫২ লাখ টাকার। সে বছর চাহিদার ৬০ শতাংশ ওষুধ দিতে পেরেছে ইডিসিএল। এ ছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৩১৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ওষুধ উৎপাদন করেছে, যা ছিল চাহিদার ৪০ শতাংশ। বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধী ১৫০ ধরনের ওষুধ উৎপাদনের কথা থাকলেও মাত্র ৮৫টি তৈরি করে ইডিসিএল। বর্তমানে বছরে প্রায় ১৪০০ কোটি টাকার ওষুধ ইডিসিএলের নামে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনের মাত্র ১.৬২ শতাংশ ওষুধ বিনামূল্যে পায় রোগীরা। আর ৯৬.৪৬ শতাংশই কিনতে হয় বাইরে থেকে। আর বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, এনজিও ও অন্যান্য সুবিধা থেকে মেলে ২ শতাংশ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের তথ্যমতে, রোগীদের ৬৪.৬ শতাংশ অর্থই ব্যয় হয় ওষুধের পেছনে। বাকিটা ব্যয় হয় বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসক দেখানো, হাসপাতালে ভর্তি এবং অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেবার পেছনে।

দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আ. সামাদ মৃধা। তিনি চলতি বছরের অক্টোবরে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইডিসিএলের উৎপাদন যন্ত্র এখন প্রতিদিন ৩০ মিনিট বেশি সময় চালানো হচ্ছে। এতে দৈনিক ১ হাজার ২৬১ কর্মঘণ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার মাধ্যমে বছরে মোট ৩ লাখ ১০ হাজার ২০৬ কর্মঘণ্টা বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। এই বাড়তি দক্ষতা বছরে প্রায় ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা সাশ্রয় এনে দিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ওষুধ উৎপাদন বেড়েছে ৫৯ কোটি টাকার, আর বেতন বাবদ সাশ্রয় হয়েছে ২৪ কোটি টাকা। আগে ৩৩টি আইটেমের ওষুধ বাইরের কারখানায় উৎপাদন করা হতো, এখন করা হচ্ছে ১২টি। এর ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সাশ্রয় হয়েছে।

ঢাকার হাসপাতালগুলোতে সরেজমিন গিয়ে ওষুধ সরবরাহের ক্ষেত্রে সন্তোষজনক চিত্র পাওয়া যায়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন ওয়ার্ডের একজন রোগীর স্বজন রিমা খাতুন। তিনি জানান, ৭ দিন ভর্তি থাকা অবস্থায় প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।

রাজধানীর প্রায় সকল সরকারি হাসপাতালের একই চিত্র বলে জানান ঢাকা মেডিকেলের একজন নার্স। নাম না প্রকাশ করার শর্তে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, নীতিনির্ধারী পর্যায় থেকে সকল ওষুধ সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে না। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নেমেছে ওষুধের ব্যবসায়

রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের একজন অধ্যাপকের তদারকিতে ‘অন্তরা ফার্মেসি নামে’ একটি ওষুধের দোকান চলছে খোদে সরকারি জায়গায়। সম্পূর্ণ বাণিজ্যক ভিত্তিতে এই ফার্মেসির মাধ্যমে হাসপাতালের সকল শ্রেণির রোগীর কাছে ওষুধ বিক্রি করছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক জানান, হাসপাতালের সিদ্ধান্তে এবং মোস্তফা কামাল নামের একজন অধ্যাপকের তদারকিতে ফার্মেসিটি চলছে। 

এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমানকে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা