খালেদা জিয়াকে নিয়ে মারুফ কামাল খান
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৩ পিএম
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:০৯ পিএম
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মারুফ কামাল খান
নানা জটিল রোগে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘সংকটাপন্ন’; তাঁকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁর সুস্থতা কামনায় দেশ ও দেশের বাইরে বিএনপি ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দল, সরকার, বিভিন্ন সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ দোয়া করছেন।
সোশাল মিডিয়ায় গত কয়েক দিন ধরে সবচেয়ে বেশি তাঁকে নিয়েই পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। কেউবা স্মৃতি চারণ করছেন, কেউ তার গণতন্ত্র রক্ষায় আপোষহীন মনোভাব, সাহস এবং দেশের জন্য ব্যক্তিগত ত্যাগের কথা লিখছেন। তাঁর জন্য আকুলভাবে দোয়া চেয়ে ফেসবুক পোস্টে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান লিখেছেন, ‘হৃদয় ভেঙে চৌচির হয়ে যাচ্ছে।’
সর্বশেষ
গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে দ্রুত ঢাকার বসুন্ধরা
এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত সেখানেই তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তাঁকে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারেও পরিবারের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপি
চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অসুস্থ
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় একাধিক পোস্ট দিয়েছেন, স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি দেশবাসীর
কাছে আকুলভাবে দোয়াও চেয়েছেন।
শনিবার
(২৯ নভেম্বর) ফেসবুকে এক পোস্টে মারুফ কামাল খান লিখেছেন, ‘আমি যদ্দুর জেনেছি, শেষ
খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উল্লেখ করার মতো তেমন
কোনো উন্নতি হয়নি। নানান জটিল রোগে আক্রান্ত ম্যাডাম জিয়ার নিউমোনিয়া ও আরো কিছু গুরুতর
সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর হৃদযন্ত্র
ও ফুসফুস সংক্রমিত হওয়ায় শ্বাসকষ্ট ছাড়াও অগ্ন্যাশয় ও বৃক্কে পানি জমেছে এবং তা ঝুঁকি
নিয়ে অপসারণ করছেন চিকিৎসকগণ। তিনি সেখানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে রয়েছেন চিকিৎসকদের
সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে। তাঁর চিকিৎসক টিম বৃটেন, যুক্তরাষ্ট ও গণচীনের বিশেষজ্ঞ
রোগ-বিশারদদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ রেখে তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিচ্ছেন।’
‘তাঁর
যুক্তরাজ্য প্রবাসী পুত্র, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা
সমন্বিত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে লন্ডন কিংবা সিঙ্গাপুর নিতে আগ্রহী। গণচীনের তরফ
থেকেও তাঁকে সেদেশে নেওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে। পরিবার ও দলের তরফ থেকে এয়ার অ্যম্বুল্যান্সের
জন্য কুয়েত ও সিঙ্গাপুরে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে দেশনেত্রীর সর্বশেষ
শারিরীক অবস্থা এবং চিকিৎসক টিমের অনুমতির ওপর। আজই তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে
পারেন।’
‘ম্যাডাম
জিয়ার পরিবার, দল, সরকার ও শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষ থেকে তাঁর রোগমুক্তির জন্য সকলের প্রতি
দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশব্যাপী সকল ধর্মমতের মানুষ কায়মনোবাক্যে দেশনেত্রীর
জন্য প্রার্থনা করছেন।’
২০০৯
সাল থেকে মারুফ কামাল খান বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়ার উপপ্রেস সচিবের দায়িত্বে ছিলেন।
গণঅভ্যুত্থানের
মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খালেদা
জিয়াকেই রাজনীতির ঊর্ধ্বে ঐক্যের প্রতীক বলে সবাই মানবেন—এমন আলাপ সোশাল মিডিয়াজুড়ে চলছে।
শনিবার
(আজ) অন্য এক পোস্টে মারুফ কামাল খান লিখেছেন, ‘হৃদয় ভেঙে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। অন্তর
ঢেলে দিয়ে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছি। দোয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই এখন আমার। ইয়া
মাবুদ, তোমার অলৌকিক কুদরত ও রহমত ছাড়া উপায় নেই।’
খালেদা
জিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতেও তাঁর সন্তান তারেক রহমান এখনও দেশে না আসায় সোশাল মিডিয়ায়
কেউ কেউ সমালোচনা করছে। এ নিয়ে মারুফ কামাল খান লিখেছেন, ‘আমি এবং আমার মতো আরো অনেকেই
তাঁর সন্তানের মতো। তবে ‘সন্তানের মতো’ হলেও
আমরা কেউই তাঁর প্রকৃত সন্তান নই। তাঁর একজনই জীবিত সন্তান আছেন এখন। মায়ের প্রতি আমাদের
কারুর ভালোবাসা, আবেগ ও দরদ কিছুতেই প্রকৃত সন্তানের চেয়ে বেশি নয় নিশ্চয়ই। কাজেই মায়ের
প্রতি সন্তানের কর্তব্য নিয়ে আমাদের কথা না বলাই শোভন বলে বিবেচনা করি। বর্তমান মানসিক
অবস্থায় এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নেই। আল্লাহ্ রহম করুন। আমিন।’
তিন
বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস,
আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।
টানা
দেড় যুগ ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কারাবরণ করা খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার
জন্য গত ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।
এরপর
একাধিকবার শারীরিক নানা জটিলতায় তাঁকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। সর্বশেষ গত রবিবার
(২৩ নভেম্বর) তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান,
খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।