কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৫২ পিএম
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হওয়া ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচির শুরুতেই দেখা দিয়েছে অনিয়ম। খাবার না দেওয়া, পরিমাণে কম দেওয়া এবং কাঁচা কলা সরবরাহসহ নানা অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছ থেকে।
‘মিড-ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি; শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও ক্লাসে উপস্থিতির হার বাড়াতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে । প্রকল্পটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীরা পাবে পাঁচ ধরনের পুষ্টিকর খাবার। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, স্কুল চলাকালীন শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে পাঁচ দিন সরবরাহ করা হবে পুষ্টিকর খাবার। এর মধ্যে রয়েছে বনরুটি, সেদ্ধ ডিম, ইউএইচটি দুধ, ফরটিফাইড বিস্কুট এবং মৌসুমি ফল বা কলা। সপ্তাহের রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের পরিবেশন করা হবে বনরুটি ও সেদ্ধ ডিম। সোমবার বনরুটি ও দুধ এবং বুধবার মিলবে ফরটিফাইড বিস্কুট ও মৌসুমি ফল বা কলা। প্রতিটি বনরুটির ওজন নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০ গ্রাম, প্রতিটি ডিম ৬০ গ্রাম, দুধ ২০০ গ্রাম, বিস্কুট ৭৫ গ্রাম ও ফল ১০০ গ্রাম। কিন্তু বাস্তবচিত্র ভিন্ন।
ঠিকাদারের লোকজন বলেছে, ৩০% লেজ দিয়ে কাজ নিয়েছেন তারা, তাই সমস্যা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিংয়ের সমন্বয়কারী রায়হান বলেন, ‘হঠাৎ ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছি। এখনও উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের কারও সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। ১ তারিখ থেকে নিয়মমাফিক সরবরাহ করা যাবে।’রৌমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, ‘ঠিকাদার আমাদের সঙ্গে কোনো চুক্তিপত্র দাখিল করেনি, সাক্ষাৎও করেনি। নিজ উদ্যোগেই কাজ করছে। বিল শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে হলে তখন আমরা বিষয়টি দেখব।’
মিড-ডে মিল চালুর আট দিনের মাথায় এমন অনিয়ম সামনে আসায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত নজরদারি ও সমন্বয় না হলে শিশুদের পুষ্টির এই উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে।