প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:০৯ পিএম
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:০৯ পিএম
প্রবা ফটো
নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে দেশের কৃষিজমি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে বলে মন্ত্রব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ অ্যাগ্রোইকোলজি প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে ‘কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবে ফসলে নতুন নতুন রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আবির্ভাব ঘটছে। কেবল জমির পরিমাণই কমছে না, রাসায়নিকভিত্তিক কৃষির ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।’
ফরিদা আখতার বলেন, ‘একসময় একই জমিতে এক, দুই বা তিন ধরনের ফসলের চাষ হতো। কিন্তু আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ও ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে এখন আর সেইভাবে বিভিন্ন ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘ভূমির অধিকারের প্রসঙ্গ উঠলেই শুধু কৃষিখাতকে সামনে আনা হয়, অথচ বিষয়টি আরও বিস্তৃত। কৃষিতে কীটনাশকের পাশাপাশি অতিরিক্ত হার্বিসাইড ব্যবহারের ফলে শুধু কৃষিজমিই নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতও গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়ছে।’
মৎস্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘অ্যাকুয়াকালচারের মাধ্যমে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু এটি কখনোই একমাত্র উৎস হতে পারে না। একসময় বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ মাছ পাওয়া যেত মুক্ত জলাশয় থেকে এবং বাকি ৪০ শতাংশ আসত চাষের মাধ্যমে কিন্তু বর্তমানে চিত্রটি উল্টো।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে দূষণ, ভরাট ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে দিন দিন মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র নষ্ট হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদকে হুমকির মুখে ফেলছে।’