প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ২০:২১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ভারতীয় নাগরিক সখিনা বেগমকে জামিন দিয়েছে আদালত।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত।
সখিনা বেগমকে তার আশ্রয়দাতা ক্লান্তি আক্তার, তার মা মোছা. জাকিয়া ও খালা ময়না আক্তারের জিম্মায় জামিন দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সুবীর কুমার ঘোষ।
এদিন আসামি সখিনা বেগমের পক্ষে তার আইনজীবী রহমাতুল্যাহ সিদ্দিক জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, মামলাটি জামিনযোগ্য ধারা। সখিনা বেগম ইচ্ছে করে এ দেশে আসেননি। জোর করে তাকে পাঠানো হয়েছে। তার জামিনের প্রার্থনা করছি।
আদালত জামিন মঞ্জুর করার পর তিনি বলেন, ‘আশা করছি, সোমবারই সখিনা বেগম কারামুক্ত হবেন।’
রবিবার শুনানিকালে সখিনা বেগমকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনের আদেশের পর তার আশ্রয়দাতা ক্লান্তি আক্তার স্বস্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এর আগে চারবার জামিন শুনানিতে এসেছিলাম, কিন্তু জামিন হয়নি। আজ জামিন হওয়ায় খুব আনন্দ হচ্ছে।’
ক্লান্তি আক্তার আরও বলেন, ‘যতদিন তিনি (সখিনা) ভারতে ফিরতে না পারবেন, আমাদের কাছেই থাকবেন। তিনিও দেশে ফিরতে চান। সরকারের কাছে অনুরোধ, তাকে যেন দ্রুত দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।’
কয়েকমাস আগে ভারতের আসাম থেকে সখিনা বেগমকে ধরে এনে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিষয়টি নিয়ে বিবিসি বাংলায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে এর আগেই তাকে হেফাজতে নেয় ভাষানটেক থানা পুলিশ।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ভাষানটেক থানার টিনশেড টেকপাড়া গলির মাথায় সখিনাকে পাওয়া যায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে ভারতের নাগরিক হিসেবে দাবি করেন। আসামের নলবাড়ী জেলার বরকুড়া গ্রামের বাসিন্দা সখিনার পরিবারের অভিযোগ, বিএসএফ তাকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।
পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশের দায়ে ‘দ্য কন্ট্রোল অব এন্ট্রি অ্যাক্ট, ১৯৫২’-এর অধীনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। কয়েক দফা আবেদন নাকচ হওয়ার পর অবশেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছে।