প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ০০:৫৪ এএম
প্রতিকী ছবি।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে শুক্রবার (২১ নভেম্বর)। এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১ জন এবং ৪ শতাধিকের বেশি মানুষ আহত হয়। এছাড়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই ঘটনার পরের দিন শনিবার (২২ নভেম্বর) কয়েক দফা আফটার শকে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ঢাকাসহ পুরো দেশবাসী। বিশেষজ্ঞরা শঙ্কা করছেন, সামনে ভয়াবহ ভূমিকম্প হতে পারে দেশে, এতে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হবে। এর মধ্যেই এবার বঙ্গোপসাগরে বড় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে বলে সতর্কতা এসেছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকালে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ এ তথ্য জানান।
ফেসবুক পোস্টে মোস্তফা কামাল পলাশ লিখেছেন, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে। শনিবার পাওয়া সর্বশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৫/২৬ নভেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে (আন্দামান ও নিকবার দ্বীপের দক্ষিণ পাশে) একটি লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা করা যাচ্ছে। এই লঘুচাপটি পর্যায়ক্রমে নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ ও সর্বশেষে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে।
সর্বশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুসারে, সম্ভব্য ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য থেকে শুরু করে বাংলাদেশের চট্রগ্রাম উপকূলের মধ্যবর্তী যেকোনো স্থানের ওপর দিয়ে উপকূলে আঘাত করার আশঙ্কা করা যাচ্ছে আগামী ১ থেকে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে। সম্ভব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ৩০ নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশের ওপরে হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষকদের জন্য পরামর্শ দিয়ে তিনি লেখেন, ডিসেম্বর মাসের ১ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশের ওপরে হালাক থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টিপাতের প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ফলে জমিতে থাকা পাকা আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শেষ করার পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে। শীতকালীন শাক-সবজি চাষিরা সম্ভব্য এই বৃষ্টিপাতের কথা মাথায় রেখে বীজ বোনা ও জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখার জন্য পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে। নভেম্বর মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত জন্য রোদ্দৌজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে পুরো দেশে।
সমুদ্রগামী জেলাদের জন্য পরামর্শ দিয়ে মোস্তফা কামাল পলাশ লেখেন, নভেম্বর মাসের ২৮ তারিখের পর থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপকূলে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে। ২৯ নভেম্বরের পরে নতুন করে সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি লেখেন, ২৮ তারিখের পর থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ৩০ নভেম্বরের থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত টেকনাফ ও সেন্টমার্টীন দ্বীপের মধ্যবর্তী সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল থাকার আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ফলে এই সময়ে পর্যটন সম্পর্কিত ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে।