দিল্লিতে খলিলুর
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:১১ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:২৩ পিএম
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সিএসসির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সপ্তম বৈঠকের এক পর্যায়ে বাংলাদেশের এনএসএ খলিলুর রহমান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভারতের প্রতিনিধি দল।
সাইবার নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ (সিএসসি) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সিএসসির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সপ্তম বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিতে গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা, মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এ বিষয়ে সিএসসির কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করছি।’
ভারতের
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের আমন্ত্রণ ও উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য তিনি ধন্যবাদ
জানান এবং সিএসসির বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতার কথা
তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব, সমতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ
না করার নীতি- সিএসসি সনদে উল্লেখিত এসব মৌলিক বিষয়ে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।
ড.
রহমান সিএসসির পাঁচটি মূল স্তম্ভকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা
এবং সদস্য দেশগুলোর যৌথ সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি
সমুদ্র নিরাপত্তা, জলদস্যুতা দমন, সংগঠিত সমুদ্র অপরাধ, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং
সাইবার নিরাপত্তায় বাংলাদেশের অবদান তুলে ধরেন।
তিনি
পুনর্ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদী সহিংসতার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে
রয়েছে। দেশটি বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবসময়ই সমালোচনামূলক এবং সন্ত্রাসের সব
রূপের প্রতি শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করে।
দ্রুত
ডিজিটালাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের ফলে সাইবার অপরাধ এখন আঞ্চলিকভাবে
বড় ধরনের উদ্বেগে পরিণত হয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন। তার ভাষায়, ‘সাইবার নিরাপত্তা এখন
বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে
‘ভুয়া ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের আক্রমণের মুখে’ পড়ছে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তায় সাইবারস্পেস
ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ড.
রহমান বলেন, নতুন এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল জাতীয় উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এজন্য বিস্তৃত
আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি সিএসসি সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান বৃদ্ধি
করে যৌথ স্বার্থে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি
ভারত মহাসাগর অঞ্চলে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং যৌথ নিরাপত্তা
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত
করেন। তার কথায়, ‘আমাদের কমিউনিটির নিরাপত্তা ও কল্যাণকে কোনো অভ্যন্তরীণ বা বহিরাগত
শক্তির দ্বারা হুমকির মুখে পড়তে দেওয়া যাবে না।’
ড.
রহমান জটিল ও পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিবেশে পারস্পরিক আস্থা ও উন্মুক্ততার ভিত্তিতে
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সাধারণ ক্ষেত্র খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ
করেন, সিএসসি ভবিষ্যতে ‘উন্মুক্ত আঞ্চলিকতার চেতনায় একটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক
বহু-পাক্ষিক আঞ্চলিক সংস্থায়’ পরিণত হবে।
বুধবার
ড. খলিলুর রহমান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন,
যেখানে সিএসসির কাজ ও দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে তিনি
দোভালকে তার সুবিধামতো সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
তথ্যসূত্র: বাসস