প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৫২ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ০০:০৯ এএম
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) সপ্তম এনএসএ-স্তরের বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল বুধবার নয়াদিল্লিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও তার দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেখানে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো ও সিএসির কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ড. রহমান সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য অজিত দোভালকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে খলিলুর ও দোভালের আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় কোন কোন বিষয় ছিল—তা স্পষ্ট করেনি বাংলাদেশ হাই কমিশন।
বৃহত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক সীমানায় প্রতিবেশী দেশগুলোর কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কার উদ্যোগে গঠিত হয় এই কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ (সিএসসি), যা কার্যকর হয় ২০২০ সালে। এর সদস্য শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মরিশাস ও ভারত। সিএসসিকে এই অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে চীনবিরোধী জোট হিসেবে দেখা হয়। যদিও বর্তমানে এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অধিকাংশের সরকার চীনের সঙ্গেই সম্পর্ক জোরদার করছে। তিন-চার বছর ধরে এই কনক্লেভের বৈঠকে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।
ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলের পাঁচ দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের (এনএসএ) ১৯ ও ২০ নভেম্বরের সম্মেলনে অজিত দোভালের আমন্ত্রণে দিল্লি সফরে গেছেন খলিলুর; যিনি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের রোহিঙ্গা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়ক সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভও।
বুধবার যাওয়ার কথা থাকলেও একদিন আগেই দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর। বৃহস্পতিবার কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে যান। এরপর থেকে দিল্লিতে দেশটির সরকারের আশ্রয়ে ‘অতিথি’ হিসেবে আছেন তিনি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফেরত চাওয়ার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার; যা নিয়ে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন আছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে ১৭ নভেম্বর হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ভারতকে আহ্বান জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে ফেরত দিতে; তবে তা নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কিছু বলেনি ভারত। এই পরিস্থিতির মধ্যে দুই দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার মধ্যে বৈঠক হলো।