প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ১০:৫৭ এএম
গোলাপজল ও কেওড়া জলের প্যাকেটে অননুমোদিত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে বাজারজাত করা হচ্ছে। এসব পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা দিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
বিএফএসএ জানায়, গোলাপজলে অননুমোদিত রাসায়নিক ও কেওড়া জলে কিডনি ডায়ালাইসিসের
জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক ব্যবহার করে সুগন্ধি প্রস্তুত করে বাজারজাত করা হচ্ছে। পণ্য
দুটিকে ‘খাবার উপযোগী’, ‘ফুড গ্রেড’, ‘খাদ্য আইন অনুসরণ করে প্রস্তুতকৃত’, ভেজিটেরিয়ান
খাদ্য মর্মে ‘সবুজ চিহ্ন’ ইত্যাদি স্লোগান তুলে খাদ্য উপযোগী হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
অথচ এসব খাদ্য উপযোগী নয় বলে সতর্ক করেছে বিএফএসএ।
ক্রেতাদের সতর্ক করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এসব খাদ্যে সুগন্ধি ব্যবহার
উপযোগী মর্মে প্রচার করা হলেও তা খাদ্যের জন্য নিরাপদ নয়। কেননা গোলাপজল ও কেওড়া জল
উৎপাদনকারী কয়েকটি কারখানায় সম্প্রতি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় দেখা গেছে, সেখানে
অননুমোদিত রাসায়নিক (এমনকি কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক) ব্যবহার করে
এরূপ সুগন্ধি প্রস্তুত করা হচ্ছে। এরূপ পণ্যের লেবেলে উক্ত সুগন্ধির উপাদান হিসেবে
বিশুদ্ধ পানি ও গোলাপ/কেওড়া ফ্লেভার বা শুধু ফ্লেভার মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে উক্ত
সুগন্ধি কিসের তৈরি তা নির্ণয় করা যাচ্ছে না এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। খাদ্যে অননুমোদিতভাবে
কোনো খাদ্য সংযোজন দ্রব্য ব্যবহার অথবা যথাযথভাবে লেবেলিং না করা নিরাপদ খাদ্য আইন,
২০১৩-এর ২৭ ও ৩২ ধারা অনুযায়ী অপরাধ। সর্বসাধারণকে এ ধরনের যথাযথ লেবেলিং ব্যতীত পরামর্শ
দেওয়া হয়।
বিএফএসএ জানায়, আয়ুর্বেদীয় ফার্মাসি (ঢাকা) লি. কর্তৃক প্রস্তুতকৃত
এপি গোলাপজল ও কেওড়াজল নামক সুগন্ধির প্যাকেটের লেবেলে ‘খাবার উপযোগী’, ‘ফুড গ্রেড’,
‘খাদ্য আইন অনুসরণ করে প্রস্তুতকৃত’ অভিব্যক্তি ব্যবহার করে উক্ত সুগন্ধি খাদ্যে ব্যবহার
উপযোগী মর্মে বিপণন করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় দেখায় যায়,
উল্লিখিত সুগন্ধি প্রস্তুতের জন্য অননুমোদিত রাসায়নিক যথাক্রমে শিল্প কাজে ব্যবহার্য
গোলাপের গন্ধ এবং কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য ব্যবহৃত তরল ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় আয়ুর্বেদীয় ফার্মাসি (ঢাকা) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এপি গোলাপজল
ও কেওড়াজল সুগন্ধি দ্রব্যের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার থেকে বিরত এবং বাজার থেকে প্রত্যাহারের
জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলো। প্রাণ গোলাপজল উৎপাদনকারীদেরও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া
হয়।
গোলাপজল ও কেওড়া জলে রাসায়নিক ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে
কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত
সচিব) জাকারিয়া গতকাল বলেন, আমরা দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে
তাদের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের চিঠি দিয়েছি।