প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:২৫ পিএম
পুরান ঢাকার কদমতলী থানাধীন শ্যামপুর রেললাইনের পাশে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ গুলি ও মাদকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন–মো. জাহাঙ্গীর আলম টিটু, মো. আব্দুর রাজ্জাক শানু ও মো. মামুন।
ডিবি বলছে, মাদকের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে অস্ত্রের ব্যবহার করতেন এই চক্র। তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না।
আজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবি রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আমীর খসরু।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির রমনা বিভাগের ডিসি বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনই এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। তারা মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য এসব অস্ত্র ব্যবহার করত।
তারা মাদকের স্পটকে আড়ৎ হিসেবে বলতো। তাদের আস্তানা থেকে ৮০০ পিস ইয়াবা ও সাড়ে ৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। তারা পাইকারী হারে মাদক বিক্রি করতো।
ডিসি রমনা আরও বলেন, শুধু মাদকের কারবারের বাইরেও এসব অস্ত্র কি কি ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো সে বিষয় তদন্ত করা হবে।
অস্ত্র ও মাদকের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে চাইলে ডিসি আমীর খসরু বলেন, আপনারা জানেন ২০২৪ এর ৫ ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্র লুট হয়েছে। আমরা মিলিয়ে দেখবো এইগুলো পুলিশের অস্ত্র কি না।

আন্ডারওয়ার্ল্ডে অস্থিরতা বাড়ছে। সাংবাদিকদের এ সংক্লান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যে ঘটনা ঘটেছে সবগুলোই কিন্তু ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সফলভাবে প্রত্যেকটা ঘটনা উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে, অস্ত্র উদ্ধার করেছে। সর্বশেষ পুরান ঢাকায় যে মার্ডারটা হয়েছে সেখানেও গোয়েন্দা পুলিশ অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে ২৬ টুকরো লাশ উদ্ধারের ঘটনাও কিন্তু আমরা উদঘাটন করেছি। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে কোনো ঘটনা ঘটলে তার নেপথ্যে কারণ উদঘাটন করে আনার।
ডিসি আমীর খসরু আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দুটি করে অস্ত্র ও মাদক মামলা আছে। এছাড়া এই ঘটনায় কদমতলী থানায় পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।