প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ২২:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ককটেল নিক্ষেপ ও জানমালের ঝুঁকি তৈরি হয় এমন কর্মকাণ্ডে কেউ উদ্যত হলে পুলিশকে গুলি চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাদ আলী। রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিকালে বেতার বার্তায় কমিশনার এমন নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে। পাঁচদিন আগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনারও একই ধরণের নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
ডিএমপি কমিশনার গণমাধ্যমকে বলেন, আমি ওয়্যারলেসে বলেছি যে কেউ বাসে আগুন দিলে, ককটেল মেরে জীবনহানির চেষ্টা করলে তাকে গুলি করতে। এটা আমাদের আইনেই বলা আছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচারের রায় ঘনিয়ে আসায় গত ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর বিক্ষোভ ও ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি দেয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগ। এই কর্মসূচি ঘিরে ১০ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে-ট্রেনে আগুন দেওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে আসছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ওই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে। এ দিনটি ঘিরে আওয়ামী লীগ অনলাইনে রবিবার থেকে দুই দিন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। এরআগে শনিবার রাত থেকেই ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের ঘটনাও ঘটে।
গত সপ্তায় চট্টগ্রামে কয়েকটি ‘টার্গেট কিলিংয়ের’ পর দিশেহারা নগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেন। গেল ১১ নভেম্বর দুপুরে বেতার বার্তার মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেন সিএমপি কমিশনার। পরদিন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সিএমপি কমিশনারের এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানায় মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটি বলেছে, দেশের সংবিধান যেকোনো নাগরিকের জীবনের অধিকার এবং আইনের আশ্রয় পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। সন্দেহভাজন অপরাধীকেও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া হত্যা বা গুলি চালানোর নির্দেশ ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’।