× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নবনিযুক্ত ডিসিদের মধ্যে দুজনের নিয়োগ বাতিল

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ১০:২৮ এএম

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ১০:২৯ এএম

নবনিযুক্ত ডিসিদের মধ্যে দুজনের নিয়োগ বাতিল

দেশের ২৯টি জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ ও রদবদলের ঘোষণার পর থেকে প্রশাসনিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। এদের কারও কারও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারও বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতি ও মাঠ প্রশাসনে কম অভিজ্ঞতা থাকার অভিযোগ। তারপরও ‘অদৃশ্য শক্তির বলে’ তাদের ডিসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এসব নিয়োগের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে। এ ছাড়া নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজনৈতিক পক্ষপাত ও যোগ্যতা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেছে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা’ নামে একটি সংগঠন। এমন প্রেক্ষাপটের মধ্যেই বৃহস্পতিবার মেহেরপুর ও বরগুনার ডিসির নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। মেহেরপুরে নিয়োগ পেয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজ লুৎফুন নাহার এবং বরগুনার ডিসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহকে।

এদিকে বিতর্কিতদের সম্পর্কে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থাও তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানাচ্ছে, কারও সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া গেলে নিয়োগ বাতিল করা হবে।

পিছিয়েছে নতুন ডিসিদের ব্রিফিং : প্রথা অনুযায়ী নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নিয়োগের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তাদের ব্রিফিং আয়োজন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক রদবদল ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের কারণে সেই নির্ধারিত ব্রিফিং অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বুধবার এ ব্রিফিং হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়।

এদিকে প্রশাসনিক সূত্র জানাচ্ছে, নতুন ডিসি নিয়োগের প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত বুধবার ডিসি নিয়োগের জন্য বিসিএস ২৫ ও ২৭ ব্যাচের ১৫ জন উপসচিবের সাক্ষাৎকার নিয়েছে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি)। এর আগে গত এক সপ্তাহে দুই দফায় ২৯ জেলায় ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথম ধাপে ১৫ জেলায় এবং পরদিন আরও ১৪ জেলায় এই নিয়োগ হয়। তবে এই নিয়োগের পরপরই সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে প্রশাসনে সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশেষত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নড়াইল, ঝিনাইদহ, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, ঝালকাঠি, মেহেরপুর, গোপালগঞ্জ, জয়পুরহাট, চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও পঞ্চগড়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিসিদের নিয়ে এই সমালোচনা ও বিতর্ক চলছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন নতুন করে সাজানোর এই উদ্যোগে রাজনৈতিক বিবেচনা যুক্ত হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

যাচাই-বাছাই শেষে নিয়োগ স্থগিত হতে পারে : বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার দ্রুত গোয়েন্দা যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘নেতিবাচক প্রতিবেদন’ পাওয়া যাবে, তাদের নিয়োগ স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। এর আগেও ডিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর বিতর্ক ওঠায় কয়েকজনের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল। এবারও তেমনটি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে নতুন করে ১৫ উপসচিবের সাক্ষাৎকার নিয়েছে এসএসবি। কয়েকটি জেলায় এদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। সরকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এখনই নিয়োগ সংশোধন না করলে নির্বাচনের সময় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় বিতর্ক দেখা দিতে পারে। 

প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়োগের প্রক্রিয়ায় যদি রাজনৈতিক প্রভাব বা স্বজনপ্রীতি কাজ করে, তাহলে তার প্রতিক্রিয়া বহুমাত্রিক হতে পারে। 

সাবেক আমলা ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুস সবুর বলেন, ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে রাজনৈতিক আনুগত্য বা লবিংয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ হলে তা শুধু প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নয়, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। একজন জেলা প্রশাসক কেবল প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন, তিনি জেলার আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন, নির্বাচন, ত্রাণ ও জনসম্পৃক্ততার কেন্দ্রীয় মুখ। তার নিয়োগে সামান্য পক্ষপাতও মাঠ প্রশাসনে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘মাঠের অভিজ্ঞতা না থাকার পরও কাউকে যদি ডিসি করা হয়, তাহলে নির্বাচনের সময় সেই কর্মকর্তার পক্ষে জটিল পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হবে। তাই এখনই প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবেÑ যোগ্যতা না আনুগত্য, কোনটিকে তারা অগ্রাধিকার দেবে।’

আরও ২৩ জেলায় নতুন ডিসি : জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদলের অংশ হিসেবে ২৩ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

পদায়নকৃত জেলা প্রশাসকদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ডিসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে চট্টগ্রামের ডিসি, বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক এসএম মেহেদী হাসানকে লক্ষ্মীপুর, পরিকল্পনা বিভাগের উপসচিব সৈয়দা নুরমহল আশরাফীকে মুন্সীগঞ্জ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাইফুর রহমানকে নেত্রকোণা, অর্থ বিভাগের উপসচিব মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে নওগাঁ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আনোয়ার সাদাতকে খাগড়াছড়ি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মু. রেজা হাসানকে কুমিল্লা এবং জনবিভাগের উপসচিব মো. রায়হান কবিরকে নারায়ণগঞ্জের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শাহেদ মোস্তফাকে পাবনা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রেজাউল করিমকে ঢাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ এনামূল আহসানকে রংপুর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ফরিদপুরের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসানকে যশোর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব সৈয়দ এনামুল কবিরকে মেহেরপুর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সচিব (উপসচিব) মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে নোয়াখালী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আলম হোসেনকে গাজীপুর, এস্টাবলিশমেন্ট অব ডিজিটাল ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লাকে গাইবান্ধা, ভূমি সংস্কার বোর্ডের উপভূমি সংস্কার কমিশনার অন্নপূর্ণা দেবনাথকে কুড়িগ্রাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে মাদারীপুর, দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক তৌহিদুজ্জামান পাভেলকে মৌলভীবাজার, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের সহকারী পরিচালক মো. খায়রুল আলম সুমনকে বরিশাল, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের উপসচিব তাছলিমা আক্তারকে বরগুনা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব নাজমা আশরাফীকে রাঙামাটির ডিসি করা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা