প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৫ ২৩:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমকে যৌন হয়রানি ও হেনস্থা ইস্যুতে দেশের ক্রিকেটে এখন তোলপাড়। বোমা ফাটিয়েছেন তিনি। প্রথমে নারী দলের বর্তমান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে খারাপ আচরণের অভিযোগ আনেন। এর রেশ না কাটতেই জাতীয় নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ আনেন জাহানারা। তার এই অভিযোগের পর নড়েচড়ে বসেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন।
যৌন হয়রানির বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিলে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, এ ধরনের কাজ করে কেউ যেন পার পেয়ে না যান, তা নিশ্চিত করবে সরকার।
জাহানারার সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে আলোড়নে বিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) কথা বলেন ক্রীড়া উপদেষ্টাও। জাহানারার সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে জানিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের দপ্তর থেকে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি যদি আইনি ব্যবস্থা নিতে চান, এটা যেহেতু ফৌজদারি অপরাধও, এটা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যারা জড়িত, তারা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিটা পান, সেটা আমরা নিশ্চিত করব।’
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারীর প্রতি যৌন হয়রানির প্রসঙ্গ টেনে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ধরনের কথা আজকে প্রথম এসেছে তা নয়, অন্যান্য খেলা থেকেও অনেক সময় (অভিযোগ) আসে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, এ ধরনের কাজ করে কেউ যেন পার পেয়ে না যায়।’
জাহানারার সমর্থনে সামাজিক মাধ্যমে মাশরাফি মর্তুজা, তামিম ইকবাল, রুমানা আহমেদসহ আরও অনেক জাতীয় ক্রিকেটার মন্তব্য করেছেন। ক্রীড়ামোদীরাও জাহানারার পক্ষ নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি চেয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘জাহানারা আলম যে অভিযোগগুলো তুলেছেন, সব কটিই গুরুতর এবং সেসব সত্যি হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। শুধু একজন জাতীয় ক্রিকেটার বা সাবেক অধিনায়ক বলেই নয়, যেকোনো খেলার ক্রীড়াবিদ কিংবা যেকোনো নারী, কারও প্রতিই এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি প্রতিটি নারী ক্রিকেটারকে অনুরোধ করব, যারা নানা সময়ে এসব ঘটনার শিকার হয়েছেন, সেটা সরাসরি হোক বা আকারে-ইঙ্গিতে, যেকোনোভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছে, সবাই মুখ খুলবেন এবং সাহস নিয়ে এগিয়ে আসবেন।’
তামিম আরও লিখেছেন, ‘নারী ক্রিকেটারকে অনুরোধ করব, যারা নানা সময়ে এসব ঘটনার শিকার হয়েছেন, সবাই মুখ খুলবেন এবং সাহস নিয়ে এগিয়ে আসবেন। কথা দিচ্ছি, আমাকে ও আমাদের আপনাদের পাশে পাবেন।’
বাংলাদেশ দলের হয়ে ১৩৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা জাহানারা বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) একটি ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাতীয় দলে থাকার সময় যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। জাতীয় নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম এবং নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদকে দায়ী করে তাদের কখনোই ‘ক্ষমা করবেন না’ বলেও মন্তব্য করেন।
জাহানারা তার ক্যারিয়ার ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ পেছনে জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়ের ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করেছেন। এসব ঘটনা বিসিবিকে বিস্তারিত জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা পাননি, এমন দাবি সাবেক অধিনায়কের। এই অভিযোগের পর বিসিবি জানিয়েছে, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে জাহানারার অভিযোগের জবাবে নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব মিথ্যা। আপনি দলের অন্য মেয়েদের জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন।’ এদিকে এই অভিযোগ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জ্যোতিও।
এখন পর্যন্ত জাহানারার বিষয়ে কোনো নারী তারকা ক্রিকেটারকে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। তবে ব্যতিক্রম রুমানা আহমেদ। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে লিখেছেন, ‘স্পিচেলস’!
জাহানারার গুরুতর এই অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে অভিযুক্তদের কেমন শাস্তি হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।