প্রজ্ঞাপন জারি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৫ ০০:৪২ এএম
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বুধবার (৫ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপ-সচিব ছাইদা আক্তার পরাগ স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রুইজাতীয় মাছের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মানোন্নয়নের মাধ্যমে রুইজাতীয় মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং মহাবিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিনের আবাসস্থল সংরক্ষণের লক্ষ্যে নদীটিকে মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, খাগড়াছড়ির রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী উপজেলা এবং পাঁচলাইশ থানার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদী এবং নদী তীরবর্তী ৯৩ হাজার ৬১২টি দাগের ২৩ হাজার ৪২২.২৮০৫৯ একর জায়গা "হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ" হিসেবে ঘোষণা করা হলো। রামগড়ের হাসুকপাড়া পাহাড় থেকে কর্ণফুলী নদীর সংযোগস্থল মোহরা পর্যন্ত প্রায় ৯৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হালদা নদী ও এর তীরবর্তী এলাকা এ ঘোষণার অন্তর্ভুক্ত।
এতে আরও বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের দিন থেকে কয়েকটি শর্ত কার্যকর হবে। এ নদী হতে কোনো প্রকার মাছ ও জলজ প্রাণি ধরা বা শিকার করা যাবেনা। তবে মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর প্রজনন মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ে মাছের নিষিক্ত ডিম আহরণ করা যাবে। প্রাণি ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংসকারী কোনো প্রকার কার্যকলাপ করা যাবেনা। ভূমি ও পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট বা পরিবর্তন করতে পারে এমন কোনো কাজ করা যাবেনা। মাছ, ডলফিন ও অন্যান্য জলজ প্রাণির জন্য ক্ষতিকারক কোনো প্রকার কাজ করা যাবে না। নদীর চারপাশের বসতবাড়ি, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পয়:প্রণালী সৃষ্ট বর্জ্য ও তরল বর্জ্য নির্গমন করা যাবেনা। কোনো অবস্থাতেই নদীর বাঁক কেটে সোজা করা যাবে না। হালদা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ১৭টি খালে প্রজনন মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি-জুলাই) মৎস্য আহরণ করা যাবে না। হালদা নদী এবং এর সংযোগ খালের উপর নতুন করে কোনো রাবার ড্যাম এবং কংক্রিট ড্যাম নির্মাণ করা যাবে না। ‘হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ তদারকি কমিটি’র অনুমতি ছাড়া হালদা নদীতে নতুন পানি শোধানাগার, সেচ প্রকল্প স্থাপনের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করা যাবে না।
পানি ও মৎস্যসহ জলজ প্রাণির গবেষণার ক্ষেত্রে ‘হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ তদারকি কমিটি’র অনুমতি ব্যতীত কোন দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি হালদা নদী ব্যবহার করে কোনো গবেষণা কাজ করতে পারবে না। মাছের প্রাক-প্রজনন পরিভ্রমণ সচল রাখার স্বার্থে হালদা নদী এবং সংযোগ খালের পানির প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবেনা। সারা বছর হালদা নদীর কর্ণফুলী মোহনা থেকে নাজিরহাট ব্রিজ (অভয়াশ্রম এলাকা) পর্যন্ত ইঞ্জিন চালিত ভারি নৌযান (বালুবাহী ও পণ্যবাহী নৌকা এবং ড্রেজার) চলাচল করতে পারবে না। হালদা এবং তার শাখা নদীর বালুমহাল ইজারা বন্ধ করা এবং ড্রেজার দিয়ে/ক্ষতিকর পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করা যাবে না। নদীর অববাহিকা অঞ্চলে কোনো প্রকার তামাক চাষ করা যাবে না। নদীর অববাহিকা অঞ্চলে কৃষি জমিতে ক্ষতিকর কোনো কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার করা যাবে না। নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকায় কোনো ব্রিক ফিল্ড স্থাপন করা যাবে না।
উন্নততর পরিবেশগত এবং প্রতিবেশগত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে এলাকার সীমা-পরিসীমা নির্ধারণসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সময়ে সময়ে বিধি-নিষেধ আরোপসহ প্রজ্ঞাপনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করতে পারবে। এতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর জারিকৃত প্রজ্ঞাপনটি বাতিল বলে গণ্য হবে।