প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩৯ পিএম
বাংলাদেশের চলমান পুলিশ সংস্কার উদ্যোগে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভাগাভাগি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আয়ারল্যান্ড। পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দায়িত্বশীল ও অধিকারভিত্তিক শাসনব্যবস্থা জোরদারে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।
বুধবার (৫ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতে এ প্রস্তাব দেন আয়ারল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত কেভিন কেলি এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম পুলিশ অমবোডসম্যান ব্যারোনেস নুয়ালা ও’লোন।
দুই দিনের সফরে থাকা ব্যারোনেস ও’লোন ১৯৯৮ সালের ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’র পর টানা সাত বছর উত্তর আয়ারল্যান্ডের পুলিশ ওমবডসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় দীর্ঘ সংঘাত-পরবর্তী সমাজে পুলিশের প্রতি আস্থা ও নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে ওঠে।
ব্যারোনেস ও’লোন বলেন, আয়ারল্যান্ডের সংঘাত-পরবর্তী অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায় ধৈর্য, অংশগ্রহণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দীর্ঘমেয়াদি প্রকৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। আমরা এখানে টেকসই পরিবর্তনের বাস্তবসম্মত সময়সীমা সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা ভাগ করতে এসেছি।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ইউনিটের পরিচালক ফিয়োনুলা গিলসেনান এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আয়ারল্যান্ডের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের সংস্কার ও পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে সমর্থন দেওয়ার জন্য দেশটির ক্রমাগত অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও দায়বদ্ধ প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তায় আয়ারল্যান্ডের সহায়তা আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।
তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য রোধে রাষ্ট্রদূত কেলির সহযোগিতাও কামনা করেন।
রাষ্ট্রদূত কেভিন কেলি বলেন, আয়ারল্যান্ড বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে চায়। দুই দেশই শান্তি, ন্যায় ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।