প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৫০ পিএম
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সারাদেশে বিভিন্ন ক্যান্সার রোগ সম্পর্কে সর্বজনীন সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফ্যাটি লিভারজনিত ও স্তন ক্যান্সারের মতো রোগ বর্তমানে দেশে প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব রোগ প্রতিরোধযোগ্য।
শনিবার (২ নভেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সিঙ্গাপুরের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর তো হান চংয়ের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধান উপদেষ্টা এই আহ্বান জানান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টারের সিনিয়র কনসালট্যান্ট প্রফেসর তো হান চং, সিংহেলথ ডিউক-এনইউএস গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর বিজয়া রাও এবং সিংহেলথ ও এডিনবারা ন্যাপিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ কালউইন্ডার কউর।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমানে অ-সংক্রামক রোগ যেমন ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। এসব রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে, তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
তিনি আরও বলেন, এই রোগগুলো সম্পর্কে সারা দেশে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। ক্যান্সার বা হৃদরোগের চিকিৎসা অনেক সময় নাগালের বাইরে চলে যায়। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সহজ ও সাশ্রয়ী করতে হবে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য।
বৈঠকে প্রফেসর তো হান চং বলেন, ফ্যাটি লিভার এখন দক্ষিণ এশিয়ার শত কোটি মানুষের শরীরে নীরবে বাসা বাঁধছে, যা ভবিষ্যতে লিভার ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের কারণ হতে পারে। এই রোগ নিয়ে আরও বড় পরিসরে সচেতনতা জরুরি।
প্রধান উপদেষ্টা নারীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে স্তন ক্যান্সার শনাক্তকরণ কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে চিকিৎসা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান, বিশেষ করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে।
প্রফেসর তো হান চং জানান, চলতি সপ্তাহে সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রতিবছর নিয়মিতভাবে চলবে।