× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে ভর্তি

আসন ফাঁকা থাকবে ১০ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি

হাসনাত শাহীন

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ১০:১৭ এএম

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ১০:১৮ এএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে গত ১৬ অক্টোবর। যারা পাস করেছে, তারা এখন সময় গুনছে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তির জন্য। তাদের এই অপেক্ষার শেষ হবে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্নাতক পর্যায়ের কলেজসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে ভর্তির মধ্য দিয়ে। কিন্তু এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় হওয়ায় এবং কম জিপিএর কারণে অনেক শিক্ষার্থী যেমন পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে, তেমনই কম পাসের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের ভাগ্যে জুটবে না পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী। আসন ফাঁকা থাকবে ১০ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি।

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

ইউজিসির সর্বশেষ তথ্যমতে, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ মিলিয়ে অনার্স ও সমমান পর্যায়ে ১৮ লাখ ৭ হাজার ৫১৭ শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এবার এইচএসসি ও সমমান পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন। সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও ১০ লাখ ৮০ হাজার ৫৫৭ আসন ফাঁকা থাকবে। ফলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে কিছুটা ভর্তিযুদ্ধ হলেও অধিকাংশ বেসরকারি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো পাবে না শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে প্রতিবছর যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েও অনেক শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেত না; এবার সেই চিত্রের তেমন দেখা মিলবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউজিসির তথ্যমতে, ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে আসন ৫০ হাজার ৪৪৫টি, সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন রয়েছে ৪ হাজার ৩৫০, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৬ হাজার ৩৪০, সরকারি ডেন্টাল কলেজে ৫৪৫, বেসরকারি ডেন্টালে ১ হাজার ৩৫০, আর্মড ফোর্স মেডিকেল কলেজে ৩৫০, ১০৭ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স কোর্সে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৯৯, পাসকোর্সে ১ হাজার ১৬০, ঢাকার সরকারি সাত কলেজে ২৩ হাজার ৬৩০, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোয় স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান), স্নাতক কারিগরি/সমমান পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি কলেজে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন মাদ্রাসায় ৬৪ হাজার ৫২৯, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৭ হাজার ৫৯৩, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৭২০, টেক্সটাইল কলেজে ৭২০, মেরিন কলেজে ৬৬০, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজে ৩ হাজার ৭৯০, আন্তর্জাতিক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০০ এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারিতে ৫ হাজার ৬০০টি আসন রয়েছে।

ইউজিসি ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভালো ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের প্রধান লক্ষ্য থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়া। এবার এসব প্রতিষ্ঠানে আসন রয়েছে ৫৫ হাজার ৩৫০টি। এর বাইরে কিছু শিক্ষার্থী ভালো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত বিষয়ে পড়তে উন্মুখ হয়ে থাকে। ফলে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কম জিপিএ নিয়েও অনেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ভালো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কিছু মেডিকেল কলেজ, ঢাকার সরকারি সাত কলেজ, ভালো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অনেক ভালো সরকারি বা এমপিওভুক্ত কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ৬ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ রয়েছে। তারা সবাই ভর্তি হলে শিক্ষক ও অবকাঠামোসহ নানা জোড়াতালি দিয়ে চলা অনেক প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ শিক্ষার্থী সংকটে ভুগবে।

সার্বিক বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, এবারও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির প্রতিযোগিতা থাকবে। তবে পাসের সংখ্যা কম থাকায় মানহীন অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীর সংকটে পড়বে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয় ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯ হাজার ৯৭ জন। গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী রেকর্ড সংখ্যক কমেছে। পাসের হার গত বছরের তুলনায় ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪। এর আগে ২০২৪ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছিল ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৩০৯ শিক্ষার্থী। পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ শিক্ষার্থী।

বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, এইচএসসি ও সমমানের উত্তরপত্র যথাযথ মূল্যায়ন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষায় খারাপ ফল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে এবার ফল বিপর্যয় হয়েছে। ২০০৪ সালের পর এই প্রথম এইচএসসির ফল এত খারাপ হয়েছে। ওই বছর পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পরের বছর ২০০৫ সালে ছিল ৫৯ দশমিক ০৭ শতাংশ। মূলত ওই বছর থেকেই পাসের হার বাড়তে শুরু করে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা