প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ২২:৪৫ পিএম
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ২২:৫০ পিএম
গণভোট ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা—এ কথা জানিয়েছেন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ফয়সালা আসবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, আজকের বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের দুটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একটি হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ দিয়ে গণভোট করা এবং ২৭০ দিনের মধ্যে তা কার্যকর না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান সংশোধন হয়ে যাওয়া। অন্যটি হলো এই দায়িত্ব নির্বাচিত সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়া। কোন প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা, আমরা তাকে সহায়তা করব।
তিনি আরও বলেন, এতদিন আলোচনার পরও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে অনৈক্য রয়ে গেছে, তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্য ছাড়া সরকারের অগ্রযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ছে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কোনো দল যদি একক অবস্থান নিয়ে সরকারকে চাপে ফেলতে চায়, সেটি প্রমাণ করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনও ঐকমত্য আসেনি।
কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে সরকারের অবস্থান প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, কমিশনের সুপারিশ আমরা নিয়েছি, তবে বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা।
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে যা বলুক, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন হবে। তবে ভোটের পরিবেশ ঠিক রাখার দায়িত্ব কেবল সরকারের নয়, দলগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে।
এদিনের বৈঠকে জুলাই সনদ ছাড়াও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। রায়েরবাজার শহীদ কবরস্থানে জুলাই শহীদদের অজ্ঞাত লাশ শনাক্তে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় একটি ল্যাব স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া বন সংরক্ষণে ১৯৮৪ সালের বননীতি বাতিল করে নতুন নীতি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন নীতিতে অবৈধ বননিধন, বনে বিদেশি (ইনভেসিভ) প্রজাতির গাছ লাগানো ও বনবিরোধী কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে।
এছাড়া মানবদেহ সংযোজন আইন নিয়েও আলোচনা হয়। এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, এই আইনের অপব্যবহার ঠেকাতে একটি নিবেদিত কমিটি থাকবে, যাতে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অঙ্গ কেনাবেচা রোধ করা যায়।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।