× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

জুলাই সনদ এখন চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে

দীপক দেব

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৩২ এএম

জুলাই সনদ এখন চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতির সুপারিশ চূড়ান্ত করতে আজ সোমবার ফের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এদিনই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতির বিষয়টি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আশাবাদী কমিশন। সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট এবং তা আহ্বানে আদেশ নাকি অধ্যাদেশ জারি করা হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের বিভিন্ন দিক চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে কমিশনের বৈঠকে।

বিশেষ করে, গত কয়েকদিনের বৈঠকে সংবিধান সংস্কারের জন্য গণভোটের মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদকে সাংবিধানিক পরিষদের যে ক্ষমতা দেওয়া হবে তার কার্যকাল কতদিন থাকবে সেটা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সংস্কারের জন্য ৯ মাস সময় নির্ধারণ করা হলেও সেটা পরামর্শ আকারে দেওয়া হবে নাকি নির্দেশ আকারে থাকবে তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে গতকাল রবিবার বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক হলেও সবকিছুই আজকের (সোমবার) বৈঠকে চূড়ান্ত হবেÑ কমিশনের পক্ষ থেকে এমন আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে এদিনই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও জমা দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতির সুপারিশ প্রসঙ্গে কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

জানতে চাইলে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ চূড়ান্ত করার জন্য আমরা সোমবার (আজ) আবারও বসব। আশা করছি, এই বৈঠকের পরই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে পারব। 

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কমিশন সরকারের কাছে যে সুপারিশ করতে যাচ্ছে, তাতে এখন পর্যন্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশের নাম হবে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ-২০২৫’। তবে গণভোটের সময় নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় এটা কমিশন সরকারের ওপর ছেড়ে দিতে পারে। বিএনপির দাবি সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই দিক নিয়েই আলোচনা করেছে কমিশন। আবার জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) অন্য দলগুলো যে আগে গণভোট চাচ্ছে, তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়েও বিশ্লেষণ করেছে। একইভাবে গণভোট আদেশ নাকি জুলাই সনদের ওপর হবে তা নিয়েও একাধিক মতামত এসেছে। তবে কমিশনের কেউ কেউ মনে করছেÑ যেহেতু আদেশ জুলাই সনদেরই অংশ এবং সনদও আদেশের অংশ তাই একটা আরেকটার পরিপূরক। এজন্য গণভোট আদেশের ওপর হলেও তাতে মূল উদ্দেশ্য একই থাকবে। এ ক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্টের বিষয়টি নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, সেটাও এড়ানো সম্ভব হবে। তবে বিষয়টি আজ সোমবারের বৈঠকে চূড়ান্ত হবে বলে কমিশন সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

জানতে চাইলে কমিশনের অন্যতম সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য এখন পর্যন্ত দুটি বিষয়ে সবাই একমত। একটি হচ্ছে, গণভোট আরেকটি হচ্ছে সাংবিধানিক পরিষদ। তবে গণভোটের সময় নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য যেমন রয়েছে, তেমন আদেশ নাকি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এটা আহ্বান করা হবে সেটা নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। আমরা দলগুলোর পরামর্শ ও যুক্তিগুলোর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই দিকই বিশ্লেষণ করছি। আশা করছি, সোমবারের বৈঠকে এটা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। 

কমিশনের একটি সূত্র জানায়, ‘সকালে বৈঠকের পর সোমবার বিকালে সহসভাপতি আলী রীয়াজের নেতৃত্বে কমিশন সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় ও পদ্ধতি সম্পর্কিত সুপারিশ জমা দেবেন।’

এদিকে ঐকমত্য কমিশন যখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশের কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছে, ঠিক সেই সময় গতকাল এক অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সুনির্দিষ্ট ফোরাম। রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা যেন কোনোভাবেই আইনানুগ প্রক্রিয়ার বাইরে না যাই, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বাইরে না যাই। আমরা যেন এই জাতিকে একটি সুষ্ঠু নিয়মতান্ত্রিক ধারার মধ্য দিয়ে পরিচালনা করি।’

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে যে পর্যন্ত উপনীত হওয়া গেছে, তাতে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের মতামত পাওয়ার পর পরবর্তী সংসদ একই সঙ্গে সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের দ্বৈত ভূমিকায় থাকবে। পরবর্তী সরকার গঠন হওয়ার পর এই সংসদ পরবর্তী ৯ মাসের মধ্যে সংবিধান সংশোধন, পরিমার্জন, পরিবর্তন করে জুলাই সনদে উল্লিখিত সংস্কারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। এখন পর্যন্ত এমনভাবেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ সরকারের কাছে করার চিন্তা করা হচ্ছে। 

এদিকে গতকাল বিকালে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের উপায় ও পদ্ধতি সম্পর্কিত সুপারিশ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সভা করেছে ঐকমত্য কমিশন। এতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. শরিফ ভূইয়া, ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন। কমিশনের পক্ষে অংশ নেন সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন ও ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। এ ছাড়া জাতীয় ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি শহীদ পরিবারের

এদিকে একই দিন সকালে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তারা বলেন, জুলাই সনদের একটি আইনি ভিত্তি থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও জরুরি। এ বিষয়ে উপস্থিত সব শহীদ পরিবারের সদস্যরা একমত পোষণ করেন। জাতীয় সংসদের এলডি হলে এ বৈঠক হয়। কমিশনের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বৈঠকে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা কমিশনকে অবহিত করেন যে, যেসব আদর্শ ও উদ্দেশ্য সামনে রেখে তাদের সন্তানরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তা আজও পূরণ হয়নি। বরং বিভিন্ন দপ্তরে তারা নানাভাবে লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। তারা জানান, নানা সময়ে নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করলেও অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহীদ পরিবারবর্গ যে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না এবং বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন, তা তাদের জানা ছিল না। শহীদ পরিবারবর্গ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, কমিশন এ ব্যাপারে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

বৈঠকে জুলাই শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন আলহাজ শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া (শহীদ ফারহান ফাইয়াজেরর পিতা), মীর মোস্তাফিজুর রহমান (শহীদ মুগ্ধর পিতা), মো. মহিউদ্দীন (শহীদ ইয়ামিনের পিতা), কবির হোসেন (শহীদ জাবির ইব্রাহিমের পিতা), মোহাম্মদ আবদুল মতিন (শহীদ শাহরিয়ারের পিতা), মো. গোলাম রাজ্জাক (শহীদ রিয়ানের পিতা), মো. গাউছ উল্লাহ (শহীদ আব্দুল্লাহর ভাই), সাইফ আহমেদ খান (শহীদ আব্দুল হান্নানের ছেলে), মো. ওবায়দুল হক ও সৈয়দ গাজীউর রহমান (শহীদ মোন্তাসিরের পিতা)।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা