× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মতানৈক্য কাটেনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে

দীপক দেব

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ১০:০৩ এএম

মতানৈক্য কাটেনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতির সুপারিশ এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। শনিবার (২৫ অক্টোবর) পর্যন্ত টানা কয়েক দিন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকের পরও সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য বাস্তবায়ন পদ্ধতির ড্রাফট চূড়ান্ত করার কাজ কমিশন শেষ করতে পারেনি। এ সংক্রান্ত আদেশের নাম ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ-২০২৫’ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে গণভোটের সময় ও সংবিধান সংস্কারের জন্য আগামী সংসদের ভূমিকা ও এই কাজের মেয়াদকাল বেঁধে দেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে গণভোট নাকি নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া গণভোটÑ এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি কমিশন।

এদিকে শনিবার (২৫ অক্টোবর) কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে এনসিপির পক্ষ থেকেও আগামী সংসদের ভূমিকা ও সংবিধান সংস্কারের জন্য সময় বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি সনদ বাস্তবায়ন প্রস্তাবের মধ্যে রাখার দাবি জানানো হয়েছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে আজ রবিবার আবারও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সঙ্গে কমিশন বৈঠকে বসবে। কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

এখন পর্যন্ত আলোচনায় যেসব বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছেÑ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ-২০২৫’ নামে এই আদেশ জারি হবে। তার পর একটি অধ্যাদেশ জারি করে গণভোট করা হবে। সেখানে সংস্কারের জন্য আদেশের সঙ্গে শর্ত জুড়ে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পরবর্তী সংসদকে সংবিধান সংস্কারের জন্য নয় মাস সময় বেঁধে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এই সময় সংসদ একই সঙ্গে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবেও ভূমিকা রাখবে। তবে বিষয়টি নিয়ে বেশকিছু প্রশ্নও উঠেছে। এসব বিষয় নিয়েই মূলত গতকাল শনিবার আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের জন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে বাধ্যতামূলক করা যায়Ñ তা নির্ধারণের পথ খোঁজা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদকে তো গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের কন্সটিটুয়েন্ট ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হবে; তাহলে এই পরিষদের ওপর আবার শর্তারোপ করা যায় কীভাবে? এই প্রশ্নও দেখা দিয়েছে, গণভোটের মধ্য দিয়ে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে সংবিধান পরিষদ যদি নিজেদের মতো ও তাদের পছন্দ অনুযায়ী সময় নিয়ে সংবিধান সংস্কার করতে চায়, সে ক্ষেত্রে তা কীভাবে রোধ করা যাবে। এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নই দেখা দিয়েছে কমিশনের সামনে। কারণ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করার পক্ষে মত দিয়েছে।

পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারের জন্য সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত সংস্কারের বিষয়গুলো আগামী সংসদে অনুমোদনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ নাকি সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে। বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, আদেশ সংবিধানের সমতুল্য হওয়ায় তা অনুমোদনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনায় জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কারে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সনদ পরিবর্তনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিধান রাখার সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে নেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।

নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে আলোচনা অব্যাহত 

এদিকে কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ-২০২৫’ এই আদেশ জারির পর একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণভোট আহ্বান করা হবে। এই গণভোট নিয়ে সরকারের কাছে কমিশন কোনো সময়ের প্রস্তাব করবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আদেশই হবে সনদের আইনি ভিত্তি। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এ রকমই দাবি জানিয়ে আসছে। গণভোটও সনদ ও আদেশের ওপর করা হলে এই আদেশের বলে আগামী সংসদ একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ভূমিকা অর্জন করবে। গণভোটে সংবিধান সংস্কারের বিষয়গুলো উল্লেখ করার কথা বিবেচনা করা হলেও নোট অব ডিসেন্টের বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা যায়নি। একই ভাবে ভিন্নমত থাকার কারণে গণভোটের সময় নিয়েও কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো সুপারিশ করা হবে না। কমিশনের একজন সদস্য এসব কথা জানিয়েছেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিশনের একজন সদস্য গতকাল শনিবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশের ড্রাফট প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। আশা করছি রবিবার (আজ) সকালে কমিশন বসে চূড়ান্ত করে ফেলবে। সোমবারের মধ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেওয়ার প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। আজ কমিশনের বৈঠকের আগে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে কমিশনের সদস্যরা। 

জাতীয় সংসদ ভবনে কমিশনের কার্যালয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সঙ্গে বৈঠকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এমএ মতিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইকরামুল হক, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. শরিফ ভূইয়া, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক এবং ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন। 

অন্যদিকে আলোচনায় কমিশনের পক্ষে অংশ নেন সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। এ ছাড়া জাতীয় ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আদেশের পরিষ্কার ধারণা চাইল এনসিপি

আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়নের নিশ্চয়তার শর্ত দিয়ে গত ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেনি এনসিপি। সরকারের পক্ষ থেকে এ আশ্বাসের পর গতকাল শনিবার সকালে এনসিপির একটি প্রতিনিধিদল কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসে। বৈঠক শেষে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘জুলাই সনদের বাস্তবায়নের আদেশ জারি করা হবে, সে আদেশের কনটেন্ট কী হবে? টেক্সট কী হবে তার কার্যকারিতার জায়গাগুলো কী হবে? সেটা পরিষ্কার করা দরকার। যদি আদেশের বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকে, তাহলে শুধু গণভোট সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নকে নিশ্চিত করতে পারবে না। এ কারণে আমরা আদেশের বিষয়টাতে সরকারের তরফ থেকে পরিপূর্ণভাবে আশ্বস্ত হয়ে কেবল তারপরেই গণভোট ও স্বাক্ষরের মতো বিষয়গুলোতে অগ্রসর হতে চাই।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা