প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:৩২ পিএম
আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:৩৭ পিএম
প্রতীকী ছবি
দেশব্যাপী বন্ধ হয়ে যাওয়া নৌপথ পুনরুদ্ধার, দখল-দূষণমুক্ত নদী ও নদীমাতৃক বাংলাদেশের ঐতিহ্য পুনর্জাগরণের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদী থেকে প্রতীকী নৌযাত্রা শুরু করেছে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’।
‘তিতাস থেকে বুড়িগঙ্গা’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) ভোর ৬টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর আঞ্জনবাজার ঘাট থেকে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর সদরঘাটের উদ্দেশ্যে নৌযাত্রা শুরু হয়।
এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকাল ৪টায় সদরঘাটে বিআইডব্লিউটিএর নতুন টার্মিনাল ভবনের দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত হবে ‘নদী-সুরক্ষা বিষয়ক মতবিনিময় সভা’। সভায় অংশ নেবেন পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী, গবেষক, নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞ, সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা।
আলোচনার বিষয়বস্তু থাকবে- নদী ও খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ নিশ্চিতকরণ, পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে নৌপথের সুযোগ, এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত বিষয়াদি।
পরবর্তীতে শনিবার (২৫ অক্টোবর ) সকাল ৬টা থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন শেষে বুড়িগঙ্গা থেকে পুনরায় তিতাস নদীমুখে ফেরার মধ্য দিয়ে ‘তিতাস থেকে বুড়িগঙ্গা’ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।
তরী বাংলাদেশ আহবায়ক শামীম আহমেদ জানান, নদীর প্রাণ ফেরাতে রাষ্ট্র-সমাজের যৌথ পদক্ষেপের আহ্বানে তরী বাংলাদেশ মনে করে, বাংলাদেশের নদীগুলো আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে। একসময় দেশের ২৪,০০০ কিলোমিটার নদীপথ নৌচলাচলের উপযোগী ছিল, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬,০০০ কিলোমিটারের নিচে। দখল, দূষণ, ভরাট ও প্রবাহ সংকটে নদীগুলোর প্রাকৃতিক জীবনধারা ভেঙে পড়েছে। নদী বাঁচাতে রাষ্ট্র, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জরুরি জাতীয় ঘোষণা প্রয়োজন। ‘তরী বাংলাদেশ’ চায় নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ও নৌপথ পুনরুদ্ধারের অধিকার। নৌপথ সচল হলে সড়কপথের চাপ কমবে, পরিবেশ রক্ষা পাবে, অর্থনীতি লাভবান হবে। নৌপথ বাঁচুক, নদী বাঁচুক -নদীমাতৃক বাংলাদেশ টিকে থাকুক।