× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খামাখাই দাম বেঁধে দেওয়া

কাউসার আহমেদ

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:৩৮ এএম

খামাখাই দাম বেঁধে দেওয়া

সরকার বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম বেঁধে দিলেও কেউ তা মানছে না। বাজারেও এর কোনও প্রভাব নেই। ক্রেতারা এই অকার্যকর দাম বেঁধে দেওয়াকে খামাখা ও লোক দেখানো বলে মনে করছেন। সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, ডালসহ বেশকিছু নিত্যপণ্যের দাম সরকার বেঁধে দেওয়ার পরও বাজারে এর কোনো প্রতিফলন নেই। বাজারভেদে এসব পণ্য নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ার ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিটি পণ্যই ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে, তবে সরকারি সংস্থাগুলো বলছে, অনুমতি ছাড়া দাম বাড়ানো বেআইনি।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৩৭৫-৩৭৮ টাকায়, পাঁচ লিটারের ৯২০-৯২২ টাকা। তবে ভোজ্য তেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী কোম্পানির সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নতুন দরে সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৬ টাকা এবং খোলা তেলে ৮ টাকা বাড়বে। নতুন দাম অনুযায়ী বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হবে লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৭৭ এবং পাম তেল ১৬৩ টাকায়।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে তেলের দাম বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়নি। গত মঙ্গলবার রাজধানীর পূর্বাচলে এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, সরকার ভোজ্য তেলের দাম বাড়ায়নি। ব্যবসায়ীরা অনুমতি ছাড়া দাম বাড়াতে পারেন না। যদি কেউ তা করেন, সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। 

তবু বাজারে বাস্তবতা ভিন্ন। পুরান ঢাকার মুদি ব্যবসায়ী মো. রহমত উল্লাহ বলেন, ডিলাররা জানাচ্ছেন দাম বাড়বে। সকালে ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসে খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু এখনও দাম আগের মতোই রাখলেও পরবর্তী চালানে বাড়বে বলছেন তারা।

গ্যাসের বাজারেও একই চিত্র। কুড়িলের জোয়ার সাহারা বাজারে এলপিজি বিক্রেতা মুক্ত বলেন, আমরা এখন ১৪০০ টাকায় বিক্রি করি। সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে ক্ষতি হয়, কারণ পরিবহন খরচ অনেক বেড়েছে। অথচ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজির দাম নির্ধারণ করেছে ১২৪১ টাকা, যা বাজারে ১৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, সেপ্টেম্বর মাসে দাম ছিল ১২৭০ টাকা, যা ২৯ টাকা কমিয়ে ১২৪১ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের দামও লিটারপ্রতি ১ টাকা ৩৮ পয়সা কমিয়ে ৫৬ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

এদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকারি দামে কোনোদিনই গ্যাস পাওয়া যায় না। রাজধানীর কুড়িলে মেসে থাকা আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের মাসে একটা সিলিন্ডার লাগে। কখনোই সরকার নির্ধারিত দামে পাইনি। সবসময় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি দিতে হয়।

এলপিজি ছাড়াও ডিমের দাম বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজন ১৪৫-১৫০ টাকা, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ১৪০ টাকার মধ্যে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মাছ ও সবজির দাম বাড়ায় ডিমের চাহিদা বেড়েছে, ফলে দামও কিছুটা বেড়েছে। 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ডজনপ্রতি সাদা ডিমের দাম ১২৮-১৩০ টাকা, লাল ডিম ১৩৫-১৪০ এবং দেশি ডিম ২১০-২২০ টাকা নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু বাজারে সেই দামে কোথাও ডিম বিক্রি হচ্ছে না।

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাথাপিছু বছরে ডিম প্রাপ্যতা ১৩৫টি হলেও, বাস্তবে মানুষ গড়ে খায় মাত্র ৬০টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য রক্ষায় বছরে অন্তত ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন।

ডালের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বর্তমানে মাঝারি দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা কেজি, আর বড় দানার ১৭০-১৮০ টাকা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে বছরে ২৬-২৭ লাখ টন ডালের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন হয় মাত্র ১০ লাখ টন। ফলে প্রতিবছর প্রায় ৬০ শতাংশ ঘাটতি পূরণে ১৭ লাখ টন ডাল আমদানি করতে হয়।

বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি নেসার উদ্দিন খান বলেন, দেশে বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ ডাল আসে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে। এখন সে দেশগুলোতে মৌসুম নয়, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা বেড়েছে।

সাতক্ষীরার কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ বলেন, বর্তমানে আমদানি কমে যাওয়ায় দেশে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ছে।

এছাড়া পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। রাজধানীর বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা কেজিতে, আর আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০৫ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, দেশে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে সয়াবিন তেল ৫ লিটার ৯৩০ টাকা, ২ লিটার ৩৭৫ টাকা এবং ১ লিটার ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম ১৫০ টাকা ডজন, পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি এবং মসুর ডাল ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, কোনো ব্যবসায়ী নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নিলে ভোক্তারা সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করতে পারেন। আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করি। 

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে সয়াবিন তেল বেশি দামে বিক্রি হলেও এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে বাজারে মূল্যসন্ত্রাসীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে মানুষের পকেট কাটছে। সরকারের উদাসীনতায় বাজার পরিস্থিতি মিলেই সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা