× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মাছ রক্ষায় মা মাছ ধরা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:২১ পিএম

মাছ রক্ষায় মা মাছ ধরা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

মাছ রক্ষার জন্য মা মাছ ধরা বন্ধ করতে হবে বলে আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। 

তিনি বলেন, আমাদের নদী ও সাগরে জেলেরা যেসব মাছ ধরে তা প্রাকৃতিক। এই মাছগুলো আমরা যদি রক্ষা না করি তাহলে আগামীতে মাছ পাবো না। এ জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে মা মাছ ধরার আইন মানতে হবে। আইন মানলে প্রকৃতপক্ষে জেলেদেরই লাভ হবে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে

সমিতির ১২তম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরিদা আখতার বলেন, আপনারা এদেশের মানুষকে মাছ ধরে খাওয়াচ্ছেন। আপনারা প্রকৃত মৎস্যজীবী, ক্ষুদ্র নন বরং দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী। আমরা শুধু ভাত খাই না, মাছ, শাক, তরকারি খাই। 

মৎস্যজীবীরা না থাকলে মাছ আসবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাছ লাফ দিয়ে থালায় আসবে না। মৎস্যজীবীরা মাছ না ধরলে আমরা মাছ পাব না। আপনারা নিজে কষ্ট করে সবাইকে মাছ খাওয়াচ্ছেন। এটাকে ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই। আপনারা মহান। 

তিনি বলেন, বটগাছ মরে না, আপনাদের সভাপতি এই বটগাছ। প্রত্যেক জেলে একেকজন বটগাছ হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করি।

উপদেষ্টা বলেন, ভারত যাতে আমাদের সীমানায় এসে মাছ ধরে না নিয়ে যায় সেজন্য কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজ করতে হবে।

সহযোগিতা সম্পর্কে তিনি বলেন, মাছ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে ভিজিএফের চালের পরিমাণ বাড়াতে হলে খাদ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। তখন তারা টাকার হিসেব বেশি বলে তা দিতে চায় না, তারপরও আমরা দাবি অব্যাহত রাখবো। তিনি বলেন, ৪০ কেজি চাল কোন পরিমাণই না। আগামীতে ৫০ কেজি চাল দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। তবে টাকা দেওয়ার ব্যাপারে কিছুটা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এখানে দুর্নীতি হয়।

ফরিদা আখতার বলেন, দাদন একটি বড় সমস্যা। আমরা একটি ব্যাংক করার বিষয়ে আবেদন করছি। আপাতত অন্যান্য ব্যাংক থেকে অর্থায়ন করা হবে।

দুর্যোগে অনেক জেলে হারিয়ে যায়, মরে যায় সে সম্পর্কে তিনি বলেন, দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ভালো কিছু ব্যবস্থা করা যায়। কেননা পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের খোঁজ না পেয়ে মৃত না জীবিত কোনটাই লিখতে পারে না। কোন সহযোগিতা নিতে পারে না। এজন্য দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ফরিদা আখতার আরও বলেন, আগামীতে ভোটের সময় যারা আপনাদের দাবি পূরণ করতে পারে তাদের ভোট দিবেন। আপনারা নিজেদের দাবি আদায় করে নিবেন।

নদীতে চরের জন্য মাছের প্রজনন ও চলাচলে সমস্যা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের ড্রেজিং করার ক্ষমতা নেই। আমরা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে বলেছি ড্রেজিং করে দিতে। তারা শুষ্ক মৌসুমে করে দিবে।

সম্মেলনে বরিশালের চরমোনায় থেকে ঢাকায় আসা খলিল মিস্ত্রি বলেন, প্রশাসন ঘুষ খেয়ে চুরির রাস্তা করে দেয়। প্রতিটি ওয়ার্ডের মেম্বারের কাছে একটি দৈনিকের তালিকা থাকলে এটা বন্ধ হবে। 

বাবুগঞ্জের মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, জেলে কার্ডের জন্য ১৮ বছর বয়স নির্ধারণ করেছে। অথচ ১৫-১৭ বছর বয়সের ছেলেদের কার্ড দিলে অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ হবে। তিনি বলেন, বিকল্প কর্মসংস্থান দরকার।

ভোলা সদর থেকে ঢাকায় এসেছেন মুন্নি বেগম। তিনি জানান, তার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে ১৯ জন জেলে দুই মাস আগে সাগরে মাছ ধরতে গেলে ভারতের কোস্ট গার্ড তাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। 

তিনি বলেন, এসব জেলে পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটা নাজুক যে সমিতি থেকে তাদের কাছে আবেদনের কাগজের জন্য ১৭০ টাকা করে চাওয়া হলে তারা দিতে পারেনি। তাদের পরিবারে কেউ কেউ ২৫ কেজির স্থলে ১৮-২০ কেজি চাল পেয়েছে। বর্তমানে তাদের পরিবারগুলো খুবই অসহায়ভাবে জীবন যাপন করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসরাফিল খলিল পন্ডিত বলেন, একজন জেলের অপমৃত্যু হলে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এটি ঘুরতে ঘুরতে ৭-১০ হাজার টাকা থাকে। এক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। মাছ ধরা নিষিদ্ধকালে এক মণ চালের স্থলে দেড় মণ চাল ও ১০ হাজার করে টাকা দিতে হবে।

সম্মেলনে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। সেগুলো হলো-২০১৩ সালের পরিপত্র পরিবর্তন করে ২০০৮ সালের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে; খাদ্য বা অন্যান্য সামগ্রী যা বিতরণ করা হয় তাতে তালিকা ও মাস্টার রোলে মৎস্যজীবী প্রতিনিধির স্বাক্ষর অবশ্যই থাকতে হবে; মৎস্যজীবীদের নামে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত করতে হবে;  বিজিএফ ৪০ কেজির পরিবর্তে ৬০ কেজি চাল এবং নগদ ২ হাজার টাকা বরাদ্দ দিতে হবে; বৈধকালীন সময়ে মাছ ধরা অবস্থায় কোন জেলে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মারা  গেলে তার পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য এককালীন ৫ লাখ টাকা দিতে হবে এবং কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের পরিচালিত অভিযানে মৎস্যজীবী সমিতির মনোনীত মাঝিকে অবশ্যই নিয়োগ দিতে হবে।

এসময় আরও বক্তৃতা করেন মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ মোতালেব হোসেন, বিজিবি ট্রাইব্যুনালের সহকারী এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এম হেলাল উদ্দিন, বরিশাল জজ কোর্টের এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট মোঃ হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোসাদেক হোসেন স্বপন, বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেম হোসেন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাবুল মীর, জেলে সমিতির সদস্য তাছলিমা বেগম। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সদস্যবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। 

সম্মেলনে বক্তারা জেলেদের জন্য ত্রাণ বিতরণের  পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কমিটিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, জেলে সম্প্রদায়ের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো সঠিকভাবে উপস্থাপন এবং তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে এ প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত জরুরি। তারা আরও বলেন, জেলেদের জন্য বিকল্প জীবিকা সৃষ্টির উদ্যোগ সম্প্রসারণ এবং সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। তারা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে বলেন, এ উদ্যোগ মৎস্যজীবীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে এবং সুদের ফাঁদের মতো শোষণমূলক পরিস্থিতি থেকে তাদের রক্ষা করবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা