ইউছুব ওসমান, জবি
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৫০ এএম
জোবায়েদ হোসাইন। ফাইল ফটো
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইনের খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা জানিয়েছেন, বর্ষা ও তার প্রেমিক মাহির রহমানের প্রেমের জেরে খুন হয়েছেন জবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন। তবে জোবায়েদের এই খুনের বিষয়ে ছাত্রী বর্ষা কিছু জানতেন না বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন তিনি। এদিকে, ঘটনার ১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো মামলা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি খুন করে পালিয়ে যাওয়া দুজনকেও আটক করতে পারেনি পুলিশ।
সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বর্ষাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, ছাত্রী বর্ষার সঙ্গে মাহির রহমানের ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাহির রহমান বোরহান উদ্দীন কলেজে ফাস্ট ইয়ারে পড়ে। আর বর্ষা পড়তো ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে। পাশাপাশি বাড়িতে তাদের বেড়ে উঠা ছোট থেকে। তাদের মধ্যে ছিল দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্ক। চতুর্থ শ্রেণি থেকে একে অপরকে পছন্দ করতো। কিন্তু সম্প্রতি তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলে। কিছুদিন আগে তাদের সম্পর্কের ভাঙন হয়। এবং বর্ষা তার বয়ফ্রেন্ড মাহির রহমানকে জানান, তিনি জোবায়েদকে পছন্দ করে। এটা জানার পর রাগে ক্ষোভে জোবায়েদকে মাহির রহমান ও তার বন্ধুকে নিয়ে হত্যা করেছে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি বর্ষা মাহিরকে জানায় যে সে জোবায়েদকে পছন্দ করে। কিন্তু জোবায়েদকে সে তার পছন্দের কথা এখনও জানায়নি। জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার কোনও প্রেমের সম্পর্ক নেই। তাদের মধ্যে এ ধরনের কোনও মেসেজও পাওয়া যায়নি। কিন্তু বর্ষার কথার ওপর ভিত্তি করে রাগে ক্ষোভে বর্ষার প্রেমিক তার বন্ধুকে নিয়ে জোবায়েদকে খুন করে।
ওসি আরও বলেন, বর্ষার মধ্যে কোনো হতাশা বা কান্নার কোন ছাপ পাওয়া যায়নি। তার মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো নার্ভাসনেসও পাওয়া যায়নি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ষাকে চিন্তামুক্ত দেখা গেছে। আমরা আরও বিস্তর তদন্ত করব। পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত জানানো হবে আনুষ্ঠানিকভাবে।
জানা গেছে জোবায়েদ হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সাথে তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন। গত এক বছর ধরে জোবায়েদ হোসাইন পুরান ঢাকার আরমানীটোলায় ১৫, নুরবক্স লেনে রৌশান ভিলা নামের বাসায় বর্ষা নামের সেই ছাত্রীকে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে টিউশন পড়াতেন। ওই ছাত্রীর বাবার নাম গিয়াসউদ্দিন।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) আনুমানিক বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে ছাত্রীর বাসার তিন তলায় তিনি খুন হন। বাসার নিচ তলার সিড়ি থেকে তিন তলা পর্যন্ত সিড়িতে রক্ত পড়েছিল। তিন তলার সিড়িতে উপড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় জোবায়েদকে।
এরপর খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ওই বাড়িটি অবরোধ করে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। পরে বংশাল থানার সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন জবির শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা তাতীবাজার মোড় অবরোধ করে রাখেন। রাত ১১টার দিকে ছাত্রী বর্ষাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এদিন রাত ১১টার সময় আরমানিটোলার নূরবক্স রোড়ের নিজ বাসা থেকে তাকে কড়া পাহারায় পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। এর আগে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে খুনের শিকার জোবায়েদ হোসাইনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিডফোর্ড হাসপাতালে নেয় পুলিশ।
এদিকে এ ঘটনার ১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও হয়নি মামলা। রোববার দিবাগত রাত ১টা থেকে তার পরিবার মামলা করার চেষ্টা করলেও সকাল সাড়ে ৯টা পেরিয়ে গেলেও জোবায়েদ খুনের মামলা হয়নি এখনও। গ্রেপ্তারও হয়নি মাহির রহমান ও তার বন্ধু। তবে পুলিশ বলছে, খুনিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।