শাহজালাল বিমানবন্দর
সাইফ বাবলু
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৩৯ এএম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের কুরিয়ার গোডাউনে যখন আগুন লাগে, তখন টার্মিনালের ভেতরেই ছিল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ফায়ার ইউনিট। আগুন লাগার ১৫ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স খবর পায়। দুই কিলোমিটার দূর থেকে আসতে তাদের সময় লাগে মাত্র ২০ মিনিট। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা। তখনও আগুন কুরিয়ার গোডাউনের মধ্যেই ছিল। অথচ সেই আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে পুরো কার্গো ভিলেজে। যা নির্বাপণ করতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিটের। অভিযোগ উঠেছে, গাফিলতি ও অদক্ষতার কারণে কার্গো ভিলেজে ছোট্ট আগুন বড় আকার ধারণ করে। এতে পুরো কার্গো ভিলেজে থাকা আমদানিপণ্য চোখের সামনেই পুড়ে ছাই হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের অর্থনীতি।
গতকাল রবিবার সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও তা পুরোপুরি নির্বাপণ হয়নি। কুরিয়ার গোডাউনসহ আশপাশের গোডাউনের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে গতকালও। ফায়ার ফাইটাররা নানাভাবে দফায় দফায় ভেতরের আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ করছেন। তবে বিকাল সোয়া ৪টায় আগুন নির্বাপণের ঘোষণা করলেও ফায়ার সার্ভিস তাদের চারটি ইউনিট মোতায়েন রাখে। গোডাউনে থাকা যেসব আমদানিকারকের মালামাল পুড়েছে, তাদের অনেকেই এসেছেন পরিস্থিতি দেখার জন্য। সকাল থেকেই ঘটনাস্থলের আশপাশে ভিড় করেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরাও। আমদানিকারকদের পণ্য গতকাল গোডাউন থেকে সরবরাহ করার কথা ছিল।
সরেজমিনে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগুনের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, এর নেপথ্যে কোনো নাশকতা থাকতে পারে। অথবা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে আগুন নির্বাপণে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর আগে কার্গো গোডাউনে আগুন লাগলেও সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। তখন আগুনের ঘটনায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। অথচ শনিবারের আগুনে কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এলেও অনুমতির অজুহাতে প্রথমে ২ নম্বর গেট খোলা হয়নি। সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। ফলে আগুন অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলে অমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্টরা অগ্নিকাণ্ডের জন্য সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অবহেলাকে দায়ী করেছেন। সার্বিক অবস্থায় এ ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা না ভেবে নাশকতা বলেও সন্দেহ করছেন তারা।
ঘটনাস্থলে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। প্রথমে সামান্য কিছু সাদা ধোঁয়া দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি থেকে পানি দেওয়া শুরু হয়। এরপর সাইরেন বাজিয়ে বেশ কয়েকটি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি অসে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ সেগুলো গেটের বাইরে অপেক্ষা করলেও গেট খোলা হয়নি। এমনকি পানির পাইপও প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। আধা ঘণ্টার মধ্যেই আগুন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন্স অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আজ (রবিবার) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে আমরা আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করেছি। এখন আর আগুন ছড়ানোর মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। আমাদের চারটি ইউনিট মোতায়েন থাকবে।’
তিনি বলেন, কার্গো ভিলেজের কাস্টম হাউসের অংশটুকু ছোট ছোট কক্ষে ভাগ করা। যা অনেকগুলো স্টিলের তৈরি স্ট্রাকচার দিয়ে একতলা ও দোতলা করা হয়েছে। এখানে অনেক মেটারিয়াল ছিল। দাহ্য যে ম্যাটেরিয়াল ছিল সেগুলোর অনেক লোড ছিল। এখানে আগুন ডিটেকশন এবং প্রোটেকশন সিস্টেম ছিল না। এসব থাকলে আগুনে এতটা দুর্ঘটনা ঘটতই না। আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়েছে। কখন কীভাবে আগুন লেগেছে, এটি তদন্ত করে বের করতে হবে।
আগুন নির্বাপণে সময় লাগার বিষয়ে তিনি বলেন, গোডাউনে ছোট ছোট ঘর এবং স্টিলের স্ট্রাকচার। ফলে আগুন লাগার পর সেগুলো কেটে ঢুকতে হয়। আমাদের সময় লেগে যায় ওইখানে। যদি সেগুলো না থাকত, তাহলে আমরা ভেতরে ঢুকতে পারতাম এবং সিস্টেমেটিক আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারতাম। বর্তমানে গোডাউন কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনেক জায়গায় ফাটল ধরেছে। আর বেবিচকের যে ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম রয়েছে, সেটি কেন কাজে আসেনি সে বিষয়ে আমরা খতিয়ে দেখব। ফায়ার সার্ভিস একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান জানান, কার্গো ভিলেজের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বর্তমানে গুদামটি সম্পূর্ণরূপে ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। পরিপূর্ণ সংস্কার ব্যতীত সেখানে আমদানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা সম্ভব নয়। এই অগ্নিকাণ্ড পরিকল্পিত ঘটনা। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি পাঁচটি দাবি হলোÑ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ও অগ্নি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন নিশ্চিতকরণ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণাধীন নতুন আমদানিপণ্যের গুদাম অস্থায়ীভাবে চালুর ব্যবস্থা গ্রহণ।
বারবার আগুনের পরও সতর্ক নয় কর্তৃপক্ষ
শাহজালালে আগুনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। ২০১৩ সালে কুরিয়ার গোডাউনের ডিএইএল শাখায় বড় আগুন লাগে। সেই আগুনে কুরিয়ার গোডাউন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রক্ষা পায় অন্যসব গোডাউন। ছয় মাস আগে স্ক্যানিং গেটেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ছোট-বড় মিলিয়ে কার্গো ভিলেজে একাধিক আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এরপরও কর্তৃপক্ষের যথাযথ সতর্ক অবস্থান না নেওয়ার অভিযোগ অনেকের।
কার্গো ভিলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কার্গো ভিলেজের দায়িত্বশীলরা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেন না। যার কারণে কার্গো ভিলেজে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রতিটি গোডাউনের সামনে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র লাগানো থাকলেও সেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিবছর এখানে অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে মহড়া হয়। ভেতরে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট রয়েছে। এতকিছুর পরও শনিবারের আগুন যথাসময়ে নেভানো যায়নি।
কামাল হোসেন নামে এক আমদানিকারক জানান, বারবার আগুন লাগলেও কর্তৃপক্ষ সঠিক কোনো পদক্ষেপ নেয় না। কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, সিন্ডিকেট সিস্টেম এবং ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলা রয়েছে। বিমানবন্দরের ভেতরের ব্যবস্থাপনা দেখলে এটিকে কেউ আন্তর্জাতিকমানের কোনো বিমানবন্দর বলবে না। এখানে নানা অসঙ্গতির কারণে বারবার দুর্ঘটনা বা আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, কার্গো ভিলেজে মাত্রাতিরিক্ত এয়ারকন্ডিশন (এসি) লাগানো রয়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক তারগুলোর কোনো সুরক্ষিত ব্যবস্থাপনা নেই। এখানে আমাদানিপণ্য এমনভাবে ফেলে রাখা হয়, যা দেখলে মনে হবে ফুটপাত বা বস্তিতেও যেকোনো মালামাল এর চেয়ে বেশি গুছিয়ে সুন্দর ব্যবস্থাপনায় রাখা হয়।
বড় ক্ষতির মুখে আমদানিকারক বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান
শাহজালালে শনিবারের আগুনে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, পোশাক তৈরি প্রতিষ্ঠান ও ওষুধ কোম্পানিগুলো। এখন তাদের অনেকের মাথায় হাত। গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান অ্যাবটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পার্ক গ্রুপের সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার ফেরদৌস খান গতকাল ঘটনাস্থলে জানান, আমদানি কার্গোতে বিভিন্ন কাপড় এবং গার্মেন্টসের এক্সেসরিজ পণ্য মিলিয়ে ১৫-২০ কোটি টাকার পণ্য ছিল। এসব পণ্য গতকাল থেকে গোডাউন থেকে ছাড়পত্র করে ডেলিভারি হওয়ার পর্যায়ে ছিল। কিন্তু শনিবারের আগুনে তাদের সব শিপমেন্ট পুড়ে গেছে বলে ধারণা তাদের। তারা এসেছেন খোঁজ নিতে, কিন্তু কোনো হদিস পাননি। পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে, কিছুই রক্ষা পায়নি। এতে তারা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের নুরুজ্জামান জানান, কার্গো ভিলেজ এবং কুরিয়ার গোডাউন মিলিয়ে তাদের ৮৯ লাখ ডলারের (১০৮ কোটি ৭০ লাখ ৫২ হাজার টাকা) বেশি শিপমেন্ট ছিল। এসে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এসব শিপমেন্টের কোনো হদিস পাননি। এসব পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন কাপড় এবং এক্সেসরিজ ছিল।
শুধু ফেরদৌস খান বা নুরুজ্জামানই নন, গতকাল সরেজমিনে অনেক আমদানিকারকই এসেছেন তাদের কোটি কোটি টাকার পণ্যের খোঁজ নিতে। কিন্তু দায়িত্বশীল কারও কাছ থেকেই কোনো তথ্য পাননি তারা।
ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং এফ কে ট্রেড এজেন্সির অংশীদার বেলাল উদ্দিন বলেন, আগুনে তার কয়েক কোটি টাকার পণ্য পুড়ে গেছে। কীভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে পুনরায় ব্যবসায় ফিরবেন তা তিনি জানেন না। তার মতো এরকম অনেকেই অছেন গভীর অন্ধকারে। তিনি বলেন, ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। কতটুকু পণ্য পুড়েছে কতটুকু রক্ষা করা গেছে সেই হিসাব কষে ক্রেতা ধরে রাখতে এখন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা সে উদ্যেগ দেখতে পাচ্ছি না।
ডেবিনিয়ার গ্রুপের এয়ারপোর্ট সেকশনের কর্মী হযরত আলী বলেন, গেট-বিতে তাদের ১৩টি শিপমেন্ট ছিল। যেখানে ৬-৭ কোটি টাকার পণ্য ছিল। এ ছাড়া কুরিয়ারে ছিল এক থেকে দেড় কোটি টাকার পার্সেল। তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ প্রতি কেজি পণ্যের জন্য দৈনিক ৬ টাকা ১৫ পয়সা হারে চার্জ নেয়। কিন্তু অমাদানিকৃত পণ্যের রক্ষণাবেক্ষণে তারা কোনো দায়িত্ব নেয় না। বছরের পর বছর বৃষ্টিতে পণ্য নষ্ট হয়। তার মাশুল গুনতে হয় আমদানিকারকদের। শনিবারের অগ্নিকাণ্ডেও তারা একইভাবে গাফিলতি আর দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি দেখছে বিজিএমইএ
গতকাল বেলা পৌনে ১টায় বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট ইনামুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে ইনামুল হক বলেন, ‘কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ঘটনা দুঃখজনক। এ ঘটনায় বিজিএমইএ অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় দেশের রপ্তানি বাণিজ্য বিশেষ করে পোশাক শিল্প মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাধারণত হাইভ্যালুড পণ্য এবং জরুরি শিপমেন্টের ক্ষেত্রে আকাশপথে জাহাজীকরণ করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণে এ ধরনের পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া মালামালের মধ্যে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা পোশাক তৈরির কাঁচামাল এবং অনেক স্যাম্পল (নমুনা পণ্য) ছিল। এসব নমুনা হারানো মানে হলো, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০টি কারখানার পণ্য আকাশপথে রপ্তানি হয়। সেই হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ অনেক। বিজিএমইএ সদস্যদের নির্ধারিত ফরম্যাটে ক্ষতি হওয়া পণ্যের তালিকা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করার জন্য একটি অনলাইন ডেটা কালেকশন পোর্টালও খোলা হয়েছে।
বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, ‘এখানে বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছে। আমরা মিটিং করেছি ওখানেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। পুরো জায়গার অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিজিএমইএর যারা আমাদের মেম্বার, যারা আমদানি করছেন এখন মালামাল, প্রতিদিন আসবে, সেটা যেন খুব দ্রুত, ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ক্লিয়ার করা হয় (আগে যেটা ছিল ৭২ ঘণ্টা)। এর জন্য উনি (উপদেষ্টা) আমাদের সহযোগিতা চেয়েছেন। আমরা আমাদের মেম্বারদেরকে জানাব একই কথা।’
বিজিএমইএ দ্রুত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিমানবন্দর, বেসামরিক পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করছে। ক্ষতি মোকাবিলায় বেশ কিছু দাবিও জানানো হয় যার মধ্যে রয়েছেÑ ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের জন্য সার্বিক সহযোগিতা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা। পোশাক শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার স্বার্থে দ্রুত নতুন শিপমেন্টের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।