× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জনপ্রশাসন

এপিডি অনুবিভাগে নিয়োগ নিয়ে জোর তদবির ও লবিং

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫ ১০:১০ এএম

এপিডি অনুবিভাগে নিয়োগ নিয়ে জোর তদবির ও লবিং

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ পদটি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় শূন্য রয়েছে। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে চলছে নানা তদবির ও লবিং। দুটি আলোচিত দলের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সরকারের এক প্রভাবশালী উপদেষ্টার অনুগত কর্মকর্তাকে এ পদে বসানোর জোর তৎপরতা চলছে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল থেকে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে গিয়ে কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, এপিডি অনুবিভাগ জনপ্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইউনিট। এখান থেকেই সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতি ও প্রেষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হয়।

শূন্য এপিডি পদে প্রথমে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এক অতিরিক্ত সচিবকে এপিডি প্রধান হিসেবে বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে এর বিরুদ্ধে বিএনপিপন্থী সিনিয়র কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে শক্ত তদবির শুরু হয়। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের সচিব নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গিয়ে ঠেকেছে সরকারের এক প্রভাবশালী উপদেষ্টার কাছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারের একটি পক্ষের অভিপ্রায়ে সম্প্রতি খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ সরকারকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করে আনা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, তাকে এপিডি প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। কিন্তু প্রভাবশালী ওই উপদেষ্টার কারণে তাকে এপিডি অনুবিভাগে পদায়ন না করে অন্য উইংয়ে করা হয়েছে। ওই উপদেষ্টার পরামর্শেই পরবর্তী এপিডি প্রধান নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক সূত্র। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘এপিডি অনুবিভাগটি হচ্ছে প্রশাসনের ‘নার্ভ সেন্টার’। এটি এমন একটি প্রশাসনিক পদ যেটি বহু কর্মকর্তার বদলি, পদোন্নতি, এমনকি ক্যারিয়ার নির্ধারণের ক্ষমতা রাখে। তাই এখানে কে বসবে, তা নিয়ে সবাই আগ্রহী।’

কর্মকর্তাদের একাংশ জানিয়েছেন, পদটি খালি থাকায় প্রশাসনিক কাজে ইতোমধ্যেই জট তৈরি হয়েছে। শতাধিক কর্মকর্তার প্রেষণ ও বদলির ফাইল আটকে আছে, নোটিফিকেশন স্থগিত রয়েছে। যার কারণে অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতিতে দেরি হচ্ছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে নানা সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাচ্ছে না।


সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামী সপ্তাহে

এপিডি অনুবিভাগের খালি পদে কাকে বসানো হবেÑ সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনায় আগামী সপ্তাহেই আসতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

অবশ্য এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলতে রাজি নন। তবে অনেকেই স্বীকার করছেন, সরকারের ওই প্রভাবশালী উপদেষ্টার প্রভাব এখন এতই বিস্তৃত যে সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারাও তার নির্দেশ এড়িয়ে যেতে পারেন না। ইতোমধ্যে তিনি একাধিক নিয়োগে নিজের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বসিয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন প্রশাসনিকভাবে বিতর্কিত ছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রশাসনে স্বাভাবিক রোটেশন পদ্ধতি ব্যাহত হলে মন্ত্রণালয় কার্যত রাজনৈতিক চাপের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়। এপিডি অনুবিভাগে রাজনৈতিক তদবির ঢুকলে তা ভবিষ্যতের নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করবে।

তিনি বলেন, এই ধরনের পদে নিয়োগে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রাখা দরকার। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, উপদেষ্টারা এমনকি সচিব পর্যায়ের বদলিতেও প্রভাব ফেলছেন। এটি প্রশাসনের জন্য শুভ নয়।

সূত্র আরও জানাচ্ছে, সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলের একাংশ মনে করছে, এখনই কোনো পক্ষকে এপিডি অনুবিভাগে বসানো হলে সেটি রাজনৈতিক বার্তা পাঠাবে। অন্য অংশ বলছে, দ্রুত নিয়োগ না দিলে প্রশাসনিক স্থবিরতা আরও বাড়বে। ফলে মন্ত্রণালয় এখন দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।

সূত্রমতে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, তার (উপদেষ্টার) সঙ্গে পরামর্শ করেই পরবর্তী এপিডি প্রধান নিয়োগ দেওয়া হবে। নাম চূড়ান্ত না হলেও ওই উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ কোনো কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

তাই প্রশাসনের মধ্যে থেকে প্রশ্ন উঠেছেÑ উপদেষ্টার পরামর্শেই যদি এমন সংবেদনশীল নিয়োগ নির্ধারিত হয়, তাহলে মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব প্রশাসনিক স্বাতন্ত্র্য কোথায়?

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা