× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জুলাই সনদ সই আজ

খুলে যাবে রুদ্ধ দুয়ার

দীপক দেব

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:২৩ এএম

খুলে যাবে রুদ্ধ দুয়ার

রক্তরাঙা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণে রচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে আজ শুক্রবার। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই সনদের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আসবে গুণগত পরিবর্তন, অবাধ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকারের সব রুদ্ধদুয়ার খুলে যাবে, সূচিত হবে এক নতুন বাংলাদেশের পথচলা। সনদ স্বাক্ষরের এই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় ও উৎসবমুখর করে রাখতে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে বর্ণাঢ্য আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের নেতা অংশ নেবেন এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে। এ উপলক্ষে এরই মধ্যে কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলের নেতারাসহ দেশি-বিদেশি কূটনীতিক এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় তিন হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। 

এদিকে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও সনদে সব দল স্বাক্ষর করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। এরই মধ্যে সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তনসহ কয়েকটি বিষয়ে নিজেদের দ্বিমতের কথা জানিয়ে সনদে স্বাক্ষর না করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে চারটি বামদল- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিবিপি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মাক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ। সনদে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা না হলে একই পথে হাঁটতে পারে গণফোরাম। এছাড়া সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা না পেলে সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না বলে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আবার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা জানালেও সনদে স্বাক্ষর করবে কি না তা এখনও পরিষ্কার করেনি জামায়াতে ইসলামী। 

তবে বিএনপিসহ বাকি দলগুলো সনদে স্বাক্ষর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ছয় দল ছাড়া ৩০টির মধ্যে আর কেউ সনদে স্বাক্ষর করার ব্যাপারে কোনো ধরনের আপত্তি কিংবা দোদুল্যমানতার কথা জানায়নি।

জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না চার বামদল

এদিকে বিদ্যমান সংবিধানের চার মূল নীতিকে বাদ দিয়ে জুলাই সনদ হলে তাতে স্বাক্ষর করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে চারটি বামপন্থী দল। সই করার ক্ষেত্রে আপত্তি থাকার সাতটি কারণ উল্লেখ করে এ দলগুলোর নীতিনির্ধারক নেতারা বলছেন, ‘আদালতে প্রশ্ন করা যাবে নাÑ এমন বিষয়ে অঙ্গীকার করতে হয়; এমন সনদে স্বাক্ষর করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার পল্টনের মুক্তি ভবনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) যৌথভাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। ‘কেন আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে পারছি না’ শিরোনামের এই সংবাদ সম্মেলনে সনদে সই না করার সাতটি কারণ তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, কেবল সেসব বিষয়েই স্বাক্ষর নেওয়া যেতে পারে। ভিন্নমতগুলো অতিরিক্ত হিসেবে সনদে সংযুক্ত থাকতে পারে। সনদে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি। এ বিষয়ে সংশোধনী দিলেও ঐকমত্য কমিশন সেগুলো সন্নিবেশিত করেনি। নোট অব ডিসেন্টগুলো কীভাবে সংবিধানে যুক্ত হবে তা-ও বোধগম্য নয়। জুলাই সনদ নিয়ে কেউ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবে না- এটা নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। স্বাধীনতার ঘোষণা ডিক্লারেশন অব ইনডিপেনডেন্সে এবং প্রোক্লেমেশন অব ইনডিপেনডেন্স বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি। সেটা বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকে না। সংবিধানের ১০৬ অনু্চ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার কথা এর আগে পাঠানো খসড়া সনদে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত সনদে ১০৬ অনুচ্ছেদের কথা বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সংবিধানে বিদ্যমান চার মূল নীতি- গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ বিকৃত করা হলে স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বাসদের (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন। এ সময় সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজসহ অন্য দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গণফোরামের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। গণফোরাম এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত না থাকলেও এবং এসব দাবির সঙ্গে ভিন্নতা থাকলেও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না। তবে জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সঙ্গে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।’

আইনি ভিত্তির নিশ্চয়তা চায় এনসিপি

এদিকে এর আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষরের জন্য শর্ত জুড়ে দিয়েছে এই গণঅভ্যুত্থানে সম্পৃক্ত নেতাকর্মীদের হাতে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির নিশ্চয়তা এবং সেই ভিত্তি দেওয়ার ধরন সম্পর্কে পূর্ব ধারণা না পেলে সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ‘থাকবে না’ বলে জানিয়ে দিয়েছে দলটি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আগামীকাল জুলাই সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। আমরা যে আইনি ভিত্তির কথা বলছি, সে সংক্রান্ত আদেশ জারির আগে এমন স্বাক্ষর কিন্তু একটি আনুষ্ঠানিকতা। জুলাই সনদ ইতোমধ্যেই প্রণীত হয়েছে। সেই সাংবিধানিক আদেশের ভিত্তিতে গণভোট হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া আগাবে। আমরা জুলাই ঘোষণাপত্রেরও একটা আইনি ভিত্তি দেওয়ার কথা বলেছিলাম। সেটা হয়নি। জুলাই ঘোষণাপত্রের টেক্সট বা শব্দচয়নেও একটা প্রতারণা করা হয়েছে। সেটা আমাদেরকে দেখানো হয়নি। আগে যেটা দেখানো হয়েছে, ঘোষণাপত্র পাঠের সময় সেটা অনেক পরিবর্তিত ছিল এবং অনেক কমপ্রোমাইজিং শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে আমরা এমন আরেকটা ঘটনার সাক্ষী হতে চাই না, যেটার কোনো মিনিং নাই। আইনি ভিত্তি ও আদেশের নিশ্চয়তা ছাড়া সনদে স্বাক্ষর করলে মূল্যহীন হবে। পরবর্তী সময়ে সরকার কিসের ভিত্তিতে সেই আদেশ দেবে- এই বিষয়টিও নিশ্চিত না। এগুলো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা সনদে স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে অংশীদার হব না।’ 

জুলাই ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠান সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সেগুলো হচ্ছে- ১. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ‘টেক্সট’ এবং গণভোটের প্রশ্নটি চূড়ান্ত করে আগেই জনগণের কাছে প্রকাশ করতে হবে। ২. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জারি করবেন। যেহেতু তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তিতে সরকার গঠন করেছেন। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আলোকে আদালতের মতামত নেওয়া হলেও তার ক্ষমতার বৈধতার মূলে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান। ৩. জুলাই সনদের যে ৮৪টি বিষয় রয়েছে, সেগুলো একত্রে গণভোটে যাবে। সেখানে নোট অব ডিসেন্টের আলাদা কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। গণভোটের প্রশ্ন কী হবে তা রাজনৈতিক দলগুলোকে আগেই দেখাতে হবে। ৪. গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যদি জুলাই সনদে রায় দেয়, তবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর কোনো কার্যকারিতা থাকবে না। গণভোটের রায় অনুযায়ী আগামী নির্বাচিত সংসদ তাদের ওপর প্রদত্ত গাঠনিক ক্ষমতা (Constituent Power) বলে সংবিধান সংস্কার করবে। সংস্কারকৃত সংবিধানের নাম হবে- বাংলাদেশ সংবিধান, ২০২৬।

নাহিদ ইসলাম জানান, তাদের এই দাবিগুলোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার হওয়ার পরই তবেই তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো জনগণের সামনে স্পষ্ট না করে জুলাই সনদে স্বাক্ষর আয়োজনটা জনগণের সঙ্গে একটা ছলছাতুরির মতো হবে। আমরা জনগণকে অন্ধকারে রাখতে চাই না। বিষয় অস্পষ্ট রেখে সবাই এক জায়গায় এসে বিশাল সেলিব্রেশনের মাধ্যমে স্বাক্ষর করার আয়োজনের কোনো অর্থ নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দলটির নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, সালেহ উদ্দিন সিফাত, জাভেদ রাসিন, সারোয়ার তুষার, আতাউল্লাহ, ফরিদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

সনদে পরবর্তী সময়েও স্বাক্ষর করা যাবে

কোনো রাজনৈতিক দল আজ শুক্রবার জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর না করলেও পরবর্তী সময়ে সই করার সুযোগ থাকবে। এ কথা জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ এ কথা বলেন।

এ সময় একজন সাংবাদিক জানতে চান, শুক্রবার যদি কোনো দল জুলাই সনদে সই না করে, তাহলে পরবর্তী সময়ে তারা চাইলে কি স্বাক্ষর করতে পারবে? জবাবে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল সব দলের স্বাক্ষর নিতে পারলে ভালো। তবে যদি কোনো দল পরবর্তীতে স্বাক্ষরের কথা বলে... তারা তো সনদ প্রক্রিয়ার অংশীদার। শরিক হিসেবে তারা সেটা করতে পারবে। তবে কমিশন আশা করে, সকলে একসঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাক্ষর করবে।’

‘আইনি ভিত্তি ছাড়া এবং আদেশের ব্যাপারে নিশ্চয়তা ছাড়া’ জুলাই সনদে এনসিপি সই করবে না- দলটির নেতাদের এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘এনসিপির বক্তব্য কমিশন গভীরভাবে পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করেছে। দলটির নেতারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রগামী সৈনিক ছিলেন। তারা নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর বাইরে সনদ প্রক্রিয়ায়ও তারা অংশ নিয়েছেন। ফলে তাদের অবদান সনদ তৈরির ক্ষেত্রে একাধিকভাবে আছে।’ তিনি বলেন, ‘কমিশনও মনে করে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া প্রয়োজন এবং দ্রুততার সঙ্গে সেটা করার জন্যই কমিশনের মেয়াদকালে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ দেবেন।’ তিনি বলেন, ‘কমিশন আশা করছে, এনসিপিসহ সব রাজনৈতিক দল সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবে, সনদে স্বাক্ষর করবে এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।’

ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি বলেন, কমিশনের মেয়াদ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যাতে কমিশনের মেয়াদকালেই একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ তারা দিতে পারেন এবং সেগুলো বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

বামদলগুলোর সনদে স্বাক্ষর না করার ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে আলী রীয়াজ বলেন, দলগুলো আলোচনার সময় তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। কমিশন সেগুলো গ্রহণ করেছে। ভিন্নমত থাকবেই। তবে তিনি আশা করেন, বামদলগুলো সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেবে। সব দল স্বাক্ষর না করলে সনদের ভবিষ্যৎ কী হবেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনের সহসভাপতি বলেন, ‘স্বাক্ষর করা এক অর্থে আনুষ্ঠানিকতা। কারণ এই প্রক্রিয়ার পুরোটায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা দেশের মানুষ দেখেছে। ঐকমত্য কমিশনে আলোচনার সময়ই দলগুলো প্রতিশ্রুতি, অঙ্গীকার করেছে। এই পুরো প্রক্রিয়া দেশের মানুষ দেখেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘সবচেয়ে বড় আয়োজন জুলাই সনদ নিজে। কারণ এই সনদ বাস্তবায়ন করা গেলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।’ তিনি বলেন, ‘আগামীকাল স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সনদ তৈরির প্রেক্ষাপট এবং এর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা বিষয়ে ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি আগামী দুই মাসে এটা নিয়ে আরও কাজ করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান প্রমুখ।

খালেদা জিয়াসহ আরও যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে

জুলাই সনদ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে থাকার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান মিলে শতাধিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মহাসচিব আখতার হোসেনসহ দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাকে দাওয়াত দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংলাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। 

ফের মেয়াদ বাড়ল কমিশনের

তৃতীয়বারের মতো জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে কমিশনের মেয়াদ আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সাত সদস্যের এ কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত ১৫ আগস্ট। তবে তারপরও দুই দফায় মেয়াদ এক মাস করে বাড়ানো হয়। এবার তৃতীয় দফায় আরও ১৫ দিন বাড়িয়েছে সরকার।

সংসদ এলাকায় ড্রোন ওড়ানোতে নিষেধাজ্ঞা : জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এজন্য এই অনুষ্ঠান সামনে রেখে সংসদ এলাকায় এ সময় কোনো প্রকার ড্রোন ওড়ানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়। 

প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রথম ধাপে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও বিচার বিভাগসহ মোট ৬টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। গত বছরের অক্টোবরে কমিশনগুলো কাজ শুরু করে এবং গত ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দেয়। এরপর কমিশনগুলোর দেওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু করে ওই কমিশন। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, কমিশনগুলোর দেওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্য থেকে ১৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্বে ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে পৃথক সংলাপ করে কমিশন। দ্বিতীয় পর্বে ২০টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ২ জুন থেকে ৩০টি দল ও জোটের প্রতিনিধিদের নিয়ে একসঙ্গে সংলাপ শুরু করে কমিশন; যা ৩১ জুলাই শেষ হয়। দুই পর্বের আলোচনায় ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়। দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে কমিশন ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ চূড়ান্ত করা হয়। এরপর সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে ঐক্য কমিশন ১১ সেপ্টেম্বর থেকে তৃতীয় দফায় সংলাপ শুরু করে ৮ অক্টোবর সম্পন্ন করে। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারেনি কমিশন। গত ১৪ অক্টোবর সনদের চূড়ান্ত অনুলিপি রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠিয়েছে কমিশন। সরকার সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা