চট্টগ্রাম ইপিজেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ড
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:১৫ পিএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ২১:৪৭ পিএম
চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকার একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। দীর্ঘক্ষণ আগুন জ্বলার কারণে ভবনটি ধসে পড়ার পাশাপাশি এর আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে লেগে যাওয়া আগুন বর্তমানে একপ্রকার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি নৌবাহিনী এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা কাজ করছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিটের পাশাপাশি নৌবাহিনীর ৪টি ইউনিট যোগ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আগুন লাগা ভবনটির পার্শ্ববর্তী একটি টিনশেড ভবনে ও ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, কারখানাটিতে হাসপাতালে ব্যবহার করার সরঞ্জাম তৈরি হত। কারখানার ভেতরে শ্রমিক আটকা পড়ার কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ জ্বলার কারণে ভবনটি ধসে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মুজিবুল হক বলেন, আশেপাশের রিজার্ভ ট্যাংক থেকে পানি সংগ্রহ করে ছিটাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা। তাতে খুব বেশি কাজ হচ্ছে না। আশেপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশ বন্দর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. জাহাংগীর বলেন, আগুন ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। ভেতরে কেউ আটকা পড়ার খবর পাইনি। আগুনে জ্বলতে জ্বলতে ভবনটি ধসে পড়ার উপক্রম তৈরি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, সাত তলা ভবনের ৫, ৬ ও ৭ তলায় আগুন লেগেছে। এ পর্যন্ত ১৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
সিইপিজেড সূত্র জানায়, ভবনটিতে মোট ৭০০ শ্রমিক কাজ করেন। তবে তাঁদের কেউ আহত হননি বলে জানান চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) নির্বাহী পরিচালক আবদুস সুবাহান।
জানতে চাইলে আবদুস সুবাহান বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই এ ঘটনায় কারও হতাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই।
জি হং মেডিকেল কোম্পানির শ্রমিক মোছাম্মত শিপা বলেন, যে জায়গা থেকে আগুনের সূত্রপাত, সেখানে সাধারণত নারীদের যাওয়া নিষেধ। তিনি পাঁচতালায় কাজ করতেন। দুপুরে খাওয়ার পর তিনি ‘আগুন, আগুন’ বলে চিৎকার করে ওপর থেকে অনেককে নামতে দেখেন। এ চিৎকার শুনে তিনিসহ সবাই দৌড়ে নিচে নেমে আসেন।
জি হং মেডিকেল কোম্পানির সুপারভাইজার ফাহিমুল মাহমুদ ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি চারতলায় ছিলাম। দুপুরের দিকে তিনি হঠাৎ জরুরি অ্যালার্ম বাজতে শুনি। এরপর জানতে পারি, আগুন লেগেছে। শুরুতে আগুন কম ছিল। এখন বেড়েছে।’
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ভেতরে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পোহাতে হচ্ছে। কারখানার মালিকপক্ষ জানিয়েছে, ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই।