প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১১:২০ এএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চলমান সংকোচন ও বাজেট ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র অবশিষ্ট শান্তিরক্ষী ইউনিটকে গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) থেকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, কঙ্গো, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যাপক কাটছাঁট ও সদস্য প্রত্যাহার চলছে। তবে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের মুখোমুখি একমাত্র দেশ বাংলাদেশ।
এই ইউনিটে ১৮০ জন সদস্য রয়েছেন, যার মধ্যে ৭০ জন নারী পুলিশ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই জাতিসংঘের একমাত্র সর্বমহিলা পুলিশ ইউনিটের সদস্য, যারা মাত্র দুই মাস আগে কঙ্গোতে দায়িত্ব নেন।
সূত্র জানায়, এই ইউনিটের সদস্যদের মধ্যে ১৬২ জনকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে দেশে ফেরত পাঠানো হবে, বাকি ১৮ জন প্রশাসনিক ও লজিস্টিক কাজ শেষে নভেম্বরের মাঝামাঝি দেশে ফিরবেন।
একজন অতিরিক্ত ডিআইজি (পুলিশ সদর দপ্তর) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জাতিসংঘের বাজেট সংকট ও ডাউনসাইজিং নীতির কারণে বাংলাদেশ পুলিশের এফপিইউকে (ফর্মড পুলিশ ইউনিট) নভেম্বরের মাঝামাঝির মধ্যে ফিরিয়ে আনার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখনও আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক, কারণ ইউনিটটি খুব ভালো পারফর্ম করছিল।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, যিনি পাঁচ বছর আগে জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত ছিলেন তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণত ডাউনসাইজিং করলে সব দেশের ক্ষেত্রেই তা সমানভাবে হয়। এবার শুধু বাংলাদেশকেই পুরোপুরি ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটা বাংলাদেশের কূটনৈতিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশ পুলিশের নারী ইউনিট ২০০৫ সাল থেকে কঙ্গোতে কাজ করছে। এ বছরের আগস্টে ইউনিটটির মেডেল প্যারেডে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন, যা ছিল জাতিসংঘের আস্থার প্রতীকস্বরূপ একটি বিরল দৃষ্টান্ত।
তবে এবার সেই আস্থা যেন ভেঙে যাচ্ছে। একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় গৌরব ও মর্যাদা এনে দিয়েছে। সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ না থাকায় এখন সেটি হুমকির মুখে।
বাংলাদেশ পুলিশ ১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যুক্ত আছে। নামিবিয়ায় প্রথমবারের মতো পুলিশ সদস্য পাঠানোর পর থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত ২৪টি দেশে ২৬টি মিশনে ২১ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে আর্থিক সংকটের কারণে জাতিসংঘ সম্প্রতি তাদের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কাঁটছাঁটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খরচ কমাতে কিছু মিশনের আকার ছোট করা হচ্ছে এবং নতুন বাহিনী পাঠানোর ক্ষেত্রে সংযমী নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।