× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিএনপির দ্বন্দ্ব নিয়ে ‘বিব্রত’ পুলিশ

তানভীর হাসান

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:১৫ এএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

আধিপত্য বিস্তার ও ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতির কারণে বিএনপির ভেতরে বাড়ছে দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসায় বাড়ছে আসনভিত্তিক দ্বন্দ্ব। যার ফলে কোথাও কোথাও অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। হাইকমান্ড থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও বাগে আনা যাচ্ছে না। দলীয় নির্দেশনার বাইরে গেলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললেও থামছে না সংঘাত-সহিংসতা।

অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জড়িয়ে প্রাণহানি বাড়ছে। সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবর পটুয়াখালীতে বাজার ইজারাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। সম্প্রতি প্রকাশিত মানবাধিকার সংস্থার তথ্যে জানা যায়, গত ১১ মাসে সারা দেশে খুন হয়েছে ১০৭ জন। এর মধ্যে একটি জেলাতেই ১৬টি খুনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া একই সময়ে দেশজুড়ে আড়াই হাজারেরও বেশি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, প্রতিটি ঘটনাই ঘটেছে দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। এসব ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ আসামি ধরতেও বিব্রত হচ্ছে। কারণ বাদী ও আসামি উভয়ই স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এরকম সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তত ২৩টি জেলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মিডিয়া এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নজরদারি করা হয়। কয়েকটি জেলা থেকে একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে দলীয় সংঘাত মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি। এ পর্যন্ত সাত হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সংঘাত ঠেকানো যাচ্ছে না।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০৭ জন বিএনপি নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। বেশিরভাগ ঘটনা ঘটেছে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। এলাকাভিত্তিক ছোটবড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে আড়াই হাজারেরও বেশি। এতে অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন। প্রতিটি ঘটনাতেই মামলা হয়েছে। আবার অনেক বিষয় স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে। তবে যেসব ঘটনায় মামলা হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আসামি ধরতে বিপাকে পড়ছে পুলিশ। কারণ বাদী-বিবাদী উভয়ই স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। কিছু ক্ষেত্রে আসামি ধরতে গিয়ে হামলার মুখেও পড়তে হচ্ছে পুলিশকে। 

অন্তত দুটি জেলার পুলিশ সুপার নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘একেকটি আসনে দুই-তিন জন, কোনো কোনো আসনে চার-পাঁচ জনও এমপি প্রার্থী রয়েছেন। তাদের সবারই রয়েছে নিজস্ব কর্মী ও ক্যাডার বাহিনী। নিজেদের গুরুত্ব বোঝাতে অনেক সময় তাদের অতি উৎসাহী কর্মীরা তুচ্ছ ঘটনায় সংঘাতে জড়াচ্ছেন।’ 

যদি নেতারা তাদের কর্মীদের শাসন করতেন, তাহলে এমন ঘটনা ঘটত না উল্লেখ করে এই পুলিশ সুপাররা বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন। একই সাথে অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিয়ে আইনের হাতে তুলে দেওয়ারও আহ্বান জানান। 

জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর পরিবহন, হাটবাজার ইজারাসহ বিভিন্ন সেক্টরের বড় অংশই এখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দখলে। সেখান থেকে অর্জিত অর্থের ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করেই ঘটছে সংঘাত। বাড়ছে খুনখারাবি।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে। সেখানে এখন পর্যন্ত খুন হয়েছে ১৬ জন। আসনটিতে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার অনুসারীরাই সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর নরসিংদী সদরের চরাঞ্চলে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন যুবদলের স্থানীয় এক নেতা। এ নিয়ে সেপ্টেম্বরে ওই এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘৬৪ জেলার মধ্যে হাতে গোনা দুয়েকটি বাদে প্রতিটি জেলায় বিএনপির একাধিক গ্রুপ রয়েছে। একেকটি আসনে দু-তিন জন প্রার্থী। সবাই ক্ষমতাধর বলে দাবি করেন। কথা না শুনলে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এ কারণে মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা অনেক সময় নিজেদের গুটিয়ে রাখেন। ফলে তারা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে।’ 

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি অন্তত ২৩টি জেলার এসপি হুমকি-ধমকির বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরকে জানিয়েছেন। এছাড়া আরও অন্তত ৩৪টি জেলায় নির্বাচনের আগে সংঘাত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে কাজ করছে পুলিশ সদর দপ্তর। নতুন করে কর্মপরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা