জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৫ ১০:১৪ এএম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৫ ১০:১৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রশাসনে নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এদিকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জনপ্রশাসনে দক্ষ কর্মকর্তাদের পদায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার বিসিএস প্রশাসন ১৭ ব্যাচের অতিরিক্ত সচিব ও খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকারকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করা হয়। মূলত তাকেই নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগের (এপিডি) অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এই অনুবিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. এরফানুল হককে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে বদলি করা হয়। এ ঘটনা গোটা সচিবালয়ে আলোচনার খোরাক হয়ে উঠেছে। একটি পক্ষ এরফানুল হকের বদলিতে নাখোশ। যে কারণে ফিরোজ সরকারের পদায়ন/বদলির বিরোধিতায় নামে তারা। বিভিন্ন মহলে শুরু করে জোর তৎপরতা। প্রজ্ঞাপনের পর থেকে ফিরোজ সরকারের যোগদান ঠেকাতে তৎপর হয় ওই পক্ষটি। এমনকি তার বিরুদ্ধে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর খবর স্থানীয় পর্যায়ে সংবাদমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। যা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে গোয়েন্দা সংস্থার কাছে প্রমাণিত হয়েছে। তবে নতুন জনপ্রশাসন সচিব নিয়োগ না হওয়ায় এ ধরনের অপচেষ্টা চলবে। জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় সচিব নিয়োগে দেরি হচ্ছে বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) সদ্য বদলির আদেশ পাওয়া খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মো. ফিরোজ সরকার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সরকারের ইচ্ছায় তাকে জনপ্রশাসনে পদায়ন করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নই হচ্ছে তার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা। জনপ্রশাসনে বদলির আদেশ হওয়ার পরই একটি মহল তাকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। নামসর্বস্ব বিভিন্ন অনলাইনে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে অপপ্রচার চালোনো হচ্ছে। অথচ খুলনা বিভাগীয় কমিশনার থাকাকালে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ কেউ আনতে পারেননি। দীর্ঘদিনের বদলি সিন্ডিকেট ভেঙে লটারির মাধ্যমে ইউএনও, এসি ল্যান্ডসহ অন্যান্য কর্মচারী বদলি করেন। অথচ একটি গোষ্ঠী তার যোগদান বিলম্বিত করাতে এ ধরনের অপচেষ্টায় রয়েছে।
এদিকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বর্তমান এপিডিকে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলির পর থেকেই একটি মহল সচিবালয়সহ বিভিন্ন স্থানে তৎপর। গোপন বৈঠকও করছে। তারই অংশ হিসেবে এই কর্মকর্তার (ফিরোজ সরকার) বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাদের অনুগত কর্মকর্তাদের কাউকে ওই পদে আনতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে থাকা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোখলেস উর রহমানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য পদে বদলি করা হয়। নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতৈক্যের অভাবে এখনও নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে সচিবালয় ও মাঠ প্রশাসনে শ্লথগতি দেখা দিয়েছে।
সূত্র বলছে, জনপ্রশাসন সচিবের পদটি এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপড়েনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তায় তাদের অবস্থান দুর্বল। অন্যপন্থীরা সক্রিয়ভাবে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে সচেষ্ট। গত ১৪ মাসে তারা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদে নিজেদের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রশাসনে এই অস্বচ্ছ প্রতিযোগিতা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে জটিল করছে। নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতপার্থক্য বেড়ে যাওয়ায় নিয়োগে বিলম্ব হচ্ছে, যা মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।