× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রুগ্ণ নগরে শৌচাগার বিলাসিতা

রাহাত হুসাইন

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:৩৬ এএম

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:১৩ পিএম

কোলাজ, প্রবা

কোলাজ, প্রবা

ঢাকার সাধারণ নাগরিকরা যখন রাস্তায় গণশৌচাগারের অভাবে ভোগেন, তখন উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বিদেশ থেকে আনছে ‘ভিআইপি মোবাইল টয়লেট’। প্রযুক্তিবান্ধব এসব শৌচাগারের ব্যবস্থাপনা শিখতে শুরুতে প্রশিক্ষণের কথা থাকলেও অবশ্য পরে তা বাতিল করা হয়েছে। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ইতোমধ্যে কিনেছে পাঁচটি ভিআইপি মোবাইল টয়লেট। এজন্য করপোরেশনের ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি টাকারও বেশি। প্রতিটি শৌচাগারের দাম পড়েছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। একই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ১ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে কিনেছে পাঁচটি মোবাইল টয়লেট ভ্যান। অর্থাৎ দুই সিটি মিলিয়ে ১০টি শৌচাগার আনার খরচ পড়েছে প্রায় ৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আর্মি স্টেডিয়াম, ঢাকা স্টেডিয়াম, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের মতো বড় আয়োজনে এসব ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার বসানো হবে। উন্নত বিশ্বে ভিআইপি অতিথিদের জন্য ভ্রাম্যমাণ শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকলেও ঢাকায় এর ব্যবহার এই প্রথম। ডিএসসিসির কেনা শৌচাগারগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হওয়ায় বিদেশে প্রশিক্ষণ আবশ্যক। অন্যদিকে ডিএনসিসির টয়লেট ভ্যান তুলনামূলক সহজ প্রযুক্তির, এগুলো চালাতে আলাদা প্রশিক্ষণ লাগবে না।

ডিএসসিসির কেনা ভ্রাম্যমাণ শৌচাগারের প্রযুক্তিগত বিবরণ অনুযায়ী, ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার ইউনিটের দেয়াল তৈরি হয়েছে ৪০ মিমি ইপিএস স্যান্ডউইচ প্যানেলে, ভেতরে রয়েছে গ্লাসফাইবার বোর্ড, আর মেঝে নির্মিত হয়েছে স্টিল শিট, ওয়াটারপ্রুফ কাঠের প্লেট ও পিভিসি ফ্লোর লেদার দিয়ে। কাঠামো উচ্চশক্তির ডাবল লেয়ার চ্যাসিসে তৈরি। প্রতি ইউনিটে অ্যালুমিনিয়াম মোল্ডিং, উচ্চক্ষমতা-সম্পন্ন পাম্প ফিল্টারÑ এমনকি ইউএসবি মিউজিক প্লেব্যাক সিস্টেম পর্যন্ত রয়েছে। ভেতরে তিনটি বগির প্রতিটি স্বয়ংক্রিয় সেন্সর, ফ্লাশিং ব্যবস্থা ও সাকশন মেশিন দ্বারা সজ্জিত।

জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পাঁচটি মোবাইল টয়লেট ভ্যান কিনছে এইচটিএমএস লিমিটেডের মাধ্যমে। প্রতিটি ভ্যানে চারটি কম্পার্টমেন্ট থাকবেÑ পুরুষদের জন্য দুটি ও মহিলাদের জন্য দুটি। প্রতিটি ভ্যানের সঙ্গে থাকবে প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীও। ডিএনসিসি জানিয়েছে, সরাসরি টেন্ডার (ওটিএম) পদ্ধতিতে নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করে ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৯ মে ২০২৫ টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ১৪ আগস্ট চুক্তি বরাদ্দ ও ৩১ আগস্ট চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ক্রয়কৃত শৌচাগারে মার্বেল বেসিন, স্বয়ংক্রিয় হ্যান্ড ড্রায়ার, এয়ার কন্ডিশনিং, সুগন্ধি যন্ত্র থেকে শুরু করে ১৫০০ লিটার ধারণক্ষমতার স্টেইনলেস স্টিল ট্যাংক পর্যন্ত সব আধুনিক সুবিধা রাখা হয়েছে। এই ইউনিটগুলো বহন করবে মিত্সুবিশি ফুসো ট্রাক (৪২১৪ সিসি ইঞ্জিন-ক্ষমতা)।

এই শৌচাগারগুলোর ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা শেখার জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান শ্যাংডং কিউয়ানবাই ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি থেকে তিনজন কর্মকর্তার চীন থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা থাকলেও পরে তা বাতিল করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। তখন বলা হয়েছিল, এই সফরের মাধ্যমে কর্মকর্তারা সরাসরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন, যাতে দেশে এই নতুন ধরনের শৌচাগার সঠিকভাবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে এলজিডির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ফারুক হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘শৌচাগার ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ নিয়ে সমালোচনা হলে সেটি বাতিল করা হয়।’ তবে ডিএসসিসির যান্ত্রিক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিছুর রহমান বলেন, ‘ব্যবহারবিধি না জানলে এগুলো অকেজো হয়ে পড়বে। এজন্য প্রশিক্ষণ দরকার, যাতে আমাদের লোকাল এক্সপার্ট তৈরি হয়। আর এই প্রশিক্ষণের খরচ রাষ্ট্রের নয়; প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বহন করছে।’

অন্যদিকে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আগেও মোবাইল টয়লেট সার্ভিস ছিল, কিন্তু সেগুলো প্রায় সবই এখন নষ্ট। একই সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি দুটি বড় অনুষ্ঠান হয়, তখনই এগুলো ব্যবহার করা হতো। প্রযুক্তিনির্ভর এসব ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার সাধারণ মানুষের রাফ ইউজের জন্য উপযোগী নয়। ভিআইপি মোবাইল টয়লেটগুলো একেবারেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি। এর ব্যবহারবিধি ও রক্ষণাবেক্ষণ জটিল, তাই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকেই হাতে-কলমে শেখা দরকার। প্রশিক্ষণ ছাড়া এগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।’

তবে কোনো ঠিকাদার বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার নির্দেশনা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় হতে। কারণ পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের অর্থায়িত সফর সরকারি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা মনে করেন, যদিও প্রশিক্ষণ দেশের জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু সরাসরি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকারের নীতি ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে; যা ভবিষ্যতে সরকারি নীতি প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা