প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৬:১৭ পিএম
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৬:১৭ পিএম
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেছেন, সারা দেশে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৫ কোটি শিশুকে টাইফয়েডের যে টিকা দেওয়া হবে, তাতে কোনো ধরনের ভয় বা সংশয়ের কারণ নেই। এই টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পরীক্ষিত এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, এই টিকায় একই সঙ্গে প্রোটিন ও শর্করা রয়েছে, যা শরীরে কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি করে টাইফয়েড প্রতিরোধে সহায়তা করে। ফলে এটি পূর্বের যেকোনো টাইফয়েড টিকার চেয়ে উন্নত ও কার্যকর। বাংলাদেশে এটি পরীক্ষামূলকভাবে নয়, বরং নিশ্চিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরই প্রয়োগ করা হচ্ছে।
ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, এ টিকা নিয়ে বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আগে যেসব দেশে এটি দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, সরকার শিশুদের নিরাপদ ও কার্যকর টিকাদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সামান্যতম ঝুঁকি থাকলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো না। সব টিকা সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ ও পরিবহন করা হয়।
অন্যান্য টিকার মতো সামান্য প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে— যেমন টিকা দেওয়ার স্থানে ব্যথা, হালকা লালচে দাগ, মৃদু জ্বর বা ক্লান্তি। এগুলো স্বাভাবিক ও সাময়িক। তিনি বলেন, অনেক সময় মানসিক ভীতিজনিত কারণে কেউ অজ্ঞান হয়ে যায়, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে “Mass Psychogenic Illness” নামে পরিচিত— এটি টিকার প্রতিক্রিয়া নয়।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন, এই টিকায় শরিয়তবিরোধী কোনো উপাদান নেই। টাইফয়েড টিকা সৌদি হালাল সেন্টারের অনুমোদনপ্রাপ্ত হালাল টিকা।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ অক্টোবর থেকে এক মাসব্যাপী সারা দেশে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে।