মহসিন রেজা রুমেল, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:০৫ এএম
ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগের অগ্রগতিতে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন, হয়তো পুরনো দিনের ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে এসেছে। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। চিঠি, টেলিগ্রাম, পোস্টকার্ডের ওপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা কমলেও এখনও সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সব চিঠিপত্র আদান-প্রদানের বিশ্বস্ত মাধ্যম ডাক বিভাগ। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেলেও সেবার মান ও পরিধি নিয়ে থেমে নেই ডাক বিভাগের কর্মতৎপরতা। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ডাকঘরের তথ্য বলছে- এখনও প্রতিদিন শত শত চিঠি ও ডকুমেন্ট পৌঁছে যাচ্ছে নির্ধারিত প্রাপকের ঠিকানায়, যা প্রমাণ করে ডাক বিভাগ আজও সময়োপযোগী ও নির্ভরযোগ্য। আগের মতো গ্রামে গ্রামে ডাকপিয়নের বিচরণ না থাকলেও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিসে চিঠি বিলি করতে এখনও ঘাম ঝরাচ্ছেন ডাকহরকরা।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ডাকঘর সূত্রে জানা গেছে, পোস্ট অফিসে পারিবারিক বা ব্যক্তিগত চিঠি আদান-প্রদানের পরিমাণ কমে গেলেও বেড়েছে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর চিঠি, কাগজপত্র আদান-প্রদানের পরিমাণ। এ ছাড়াও ভূমির পর্চা, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ডকুমেন্টস এই পোস্ট অফিসের মাধ্যমেই বিতরণ করা হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে এই পোস্ট অফিসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিঠি ইস্যু হয়েছে মোট ৪৭৭টি, এই উপজেলা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিঠি প্রেরিত হয়েছে ৪২৭টি। গত মাসে প্রাপ্ত চিঠির মোট ৯৩ শতাংশ বিলি করা হয়েছে। এ ছাড়াও গ্যারান্টেড ইর্মাজেন্সি পার্সেল (জিইপি) বিতরণ হয়েছে মোট ২০০টি। এই পোস্ট অফিসে পোস্টমাস্টারসহ মোট ৮ জন কর্মরত আছেন তার মধ্যে পোস্টম্যান ২ জন, রানার ৩ জন, প্রহরী এক জন ও ঝাড়ুদার এক জন।
দেওয়ানগঞ্জ মডেল প্রেস ক্লাবের সভাপতি এমএ রাজ্জাক মিকা বলেন, পোস্ট অফিসের নির্ভরতা ফুরিয়ে যায়নি। এখনও নানা কারণে পোস্ট অফিসের ওপর নির্ভর হতে হয়। ব্যক্তিগত চিঠি না থাকলেও স্ট্যাম্প, ক্রয়, পার্সেল পাঠানো, অথবা নগদ টাকা পাঠানোতে অনান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় পোস্ট অফিসের মাধ্যমে নিরাপদ ও কম খরচে লেনদেন করা যায়।
উপজেলা পোস্টমাস্টার জান্নাতুল ফেরদৌস রুবেল বলেন, অনেকের ধারণা পারিবারিক বা ব্যক্তিগত চিঠিপত্র নেই মানে ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে। আসলে ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়েও বেড়েছে। এ সময়েও আমরা গ্রাহকের চিঠিপত্র, ডকুমেন্ট, পার্সেল ইত্যাদি সাশ্রয়ী রেটে বুকিং নিয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় পরিবহন করে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত নির্ধারিত প্রাপকের কাছে পৌঁছানোর কাজ করে থাকি। সরকারি, আধা-সরকারি বিভিন্ন অফিস-দপ্তরের চিঠি, ডকুমেন্টস পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়ে থাকে। তা ছাড়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার খাতা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বোর্ডে পৌঁছানো হয়, সরকারি বিভিন্ন অফিসে যোগদানপত্র পোস্ট অফিস গুরুত্ব সহকারে প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেয়। আমি মনে করি পোস্ট অফিস এখনও সামাজের মানুষের ডাকসেবা প্রাপ্তিতে যথেষ্ট ভূমিকা রেখে চলছে আর আমরা মানুষের ডাকসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছি।