প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫ ২২:২১ পিএম
ফাইল ফটো।
ইউনেস্কোর ৪৩তম সাধারণ সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ— যা এই সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৩ বছরের সদস্যপদের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।
প্যারিসে ইউনেস্কোর নির্বাহী বোর্ডের ২২২তম অধিবেশনে সোমবার অনুষ্ঠিত ভোটে বাংলাদেশের প্রার্থী রাষ্ট্রদূত খোন্দকার এম. তালহা ৩০-২৭ ভোটে জাপানকে পরাজিত করে সভাপতির পদে নির্বাচিত হন। শুরুতে বাংলাদেশ, জাপান, ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়া এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরবর্তীতে ভারত ও কোরিয়া প্রজাতন্ত্র তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়।
এটি ইউনেস্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, যখন বাংলাদেশ সংস্থাটির সাধারণ সম্মেলনের সভাপতির দায়িত্ব পেল।
বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও ফ্রান্স, মোনাকো এবং আইভরি কোস্টে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত খোন্দকার এম. তালহা চলতি মাসের শেষ দিকে উজবেকিস্তানের সামারকান্দে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি বর্তমান সভাপতি রোমানিয়ার রাষ্ট্রদূত সিমোনা মিরেলা মিকুলেস্কুর স্থলাভিষিক্ত হবেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বাংলাদেশের এই অর্জনকে “যুগান্তকারী সাফল্য” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ইউনেস্কোর নির্বাহী বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কূটনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে এই অর্জন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বমঞ্চে আরও উজ্জ্বল করবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার বলেন, ইউনেস্কোর সর্বোচ্চ পদে বাংলাদেশের নির্বাচন শিল্প, সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের অবদানের প্রতি বৈশ্বিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।
সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, সাম্প্রতিক ইউনেস্কো অধিবেশনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক পরিসরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল। এবার সেই অংশগ্রহণের সাফল্য আরও উজ্জ্বল হলো। এই পদ আমাদের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রাণবন্ত চিত্র তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে।
রাষ্ট্রদূত খোন্দকার এম. তালহা বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। ইউনেস্কোর ম্যান্ডেট ও বহুপাক্ষিকতার আদর্শ রক্ষায় আমরা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করব।